shono
Advertisement
New Year

নববর্ষে মাততে কলকাতায় ফিরছে চিনা পরিবারগুলি, চায়না টাউনে সকলের মুখে 'শিন নিয়ান কুয়া লা'

মঙ্গলবার চিনা নববর্ষ। তার আগে রবিবার 'পাড়ায়' শুরু চিনা লায়ন, ড্রাগন ড্যান্স, সোমবার বসবে জলসা।
Published By: Sucheta SenguptaPosted: 02:22 PM Feb 16, 2026Updated: 02:22 PM Feb 16, 2026

দোকানে ডাঁই করে রাখা 'শিয়াং' আর 'লা ঝু'। মায়ের সঙ্গে তা কিনতে ব্যস্ত অ্যালেক্স চিউ। ওয়েনের অবশ্য পছন্দ প্লাস্টিকের চিনা লণ্ঠন। আর পেং ঘর সাজাবে 'জিয়ান ঝি' দিয়ে। মঙ্গলবার চিনাদের নববর্ষ।চিনা ক্যালেন্ডারেএই বছরটা ঘোড়ার বছর। সোমবার রাতে সাপের বছরকে বিদায় জানিয়ে ঘোড়ার বছরকে আহ্বান জানাবেন চিনারা। কলকাতার চিনারা সোমবার রাত থেকেই আনন্দে মাতোয়ারা হবেন। 'শিন নিয়ান কুয়া লা' বলে একে অপরকে জানাবেন নববর্ষের শুভেচ্ছা। এমন শুভ মুহূর্ত উদযাপনের প্রস্তুতি তুঙ্গে। সেজে উঠছে ট্যাংরার চায়না টাউন আর টেরিটি বাজার।

Advertisement

চিনা ক্যালেন্ডারে এই বছরটা ঘোড়ার বছর। সোমবার রাতে সাপের বছরকে বিদায় জানিয়ে ঘোড়ার বছরকে আহ্বান জানাবেন চিনারা। কলকাতার চিনারা সোমবার রাত থেকেই আনন্দে মাতোয়ারা হবেন। 'শিন নিয়ান কুয়া লা' বলে একে অপরকে জানাবেন নববর্ষের শুভেচ্ছা।

রবিবার থেকেই শুরু হয়েছে নতুন বছরের কেনাকাটা। সাউথ ট্যাংরা রোড ও মহেশ্বরতলা রোডে গোটাকয়েক দোকান রয়েছে, যারা চিনা নববর্ষের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিক্রি করে। কোনও দোকানে বিভিন্ন মাপের মোমবাতি বা 'লা ঝু'র সম্ভার, কোথাও বিভিন্ন ধরনের ধূপকাঠি বা 'শিয়াং', যা চিনা নববর্ষের শুরুতে আরাধনা বা পুজোয় অপরিহার্য। এছাড়াও দোকানে ঝুলছে রকমারি রঙিন 'জিয়ান ঝি' বা স্টিকার, যা সৌভাগ্যের ধারক। সারা বছর সৌভাগ্য ধরে রাখতে বাড়ির দরজার সামনে তিনটি বা পাঁচটি 'জিয়ান ঝি' স্টিকার সাঁটাতে হয়। এছাড়াও ফেং শুইয়ের আদলে ঝোলাতে হয় সৌভাগ্যের প্রতীকও। আর তার সঙ্গে চিনা লণ্ঠন রয়েছেই। আবার পুজোর ফল হিসাবে কেনা হচ্ছে কমলালেবু, আপেল।

চায়না টাউনের দোকানে দোকানে নববর্ষের সাজসরঞ্জাম বিক্রি। ছবি: সুখময় সেন

কলকাতায় এই মুহূর্তে চিনাদের সংখ্যা হাজার দু'য়েকের সামান্য বেশি। তাঁদের মধ্যে একটি বড় অংশ প্রবীণ। পরবর্তী প্রজন্মের একটি অংশ থাকেন হয় কানাডা, না হয় অস্ট্রেলিয়া, এমনকী আমেরিকাতেও। কিন্তু নতুন বছর শুরুর আগে তাঁরা ফিরে আসেন নিজের বাড়ি - কলকাতায়। চেন চি পরিবার নিয়ে থাকেন কানাডার টরন্টোয়। চেন জানান, বহু বছর আগে পাড়ি দিয়েছেন বিদেশে। কিন্তু চিনা নতুন বছরের আগে সপ্তাহ দু'য়েকের ছুটি নিয়ে প্রত্যেক বছরের মতোই তাঁরা ফিরে এসেছেন চেনা শহরটায়। ইতিমধ্যেই ট্যাংরা আর টেরিটি বাজারে বসে গিয়েছে সুসজ্জিত গেট। রাস্তা সেজে উঠছে আলো আর চিনা লণ্ঠনে। বাড়ির গেট আর দরজায় রাঙানো হচ্ছে লাল রঙে। রবিবার থেকেই 'পাড়ায়' শুরু চিনা লায়ন ড্যান্স আর ড্রাগন ড্যান্স। সোমবার সন্ধ্যার পর ট্যাংরা আর টেরিটি বাজারে বসবে জলসা। তার সঙ্গে লায়ন ড্যান্স, ড্রাগন ড্যান্স রয়েছেই।

কলকাতায় এই মুহূর্তে চিনাদের সংখ্যা হাজার দু'য়েকের সামান্য বেশি। তাঁদের মধ্যে একটি বড় অংশ প্রবীণ। পরবর্তী প্রজন্মের একটি অংশ থাকেন হয় কানাডা, না হয় অস্ট্রেলিয়া, এমনকী আমেরিকাতেও। কিন্তু নতুন বছর শুরুর আগে তাঁরা ফিরে আসেন নিজের বাড়ি - কলকাতায়।

চিনা নববর্ষের কলকাতায় 'বাড়ি' ফিরছেন প্রবাসীরা। ছবি: সুখময় সেন

ট্যাংরার চিনা স্কুলে ১৯ ও ২০ ফেব্রুয়ারি হবে কার্নিভাল। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছাড়াও সেখানে গিয়ে পেট ভরানো যাবে রকমারি চিনা খাবারে। ট্যাংরার বাসিন্দা হাও, লিয়ান লিনরা জানান, তাঁদের কাছে নববর্ষ শুধু সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পালন নয়, পরিবারের একে অন্যকে কাছে পাওয়া। নতুন বছরের দিনগুলি কেটে যায় গল্পে, আড্ডায়ও। বাড়িতেই বিভিন্ন ধরনের সুস্বাদু রান্না করা হয়। মোমবাতি, ধূপ, বিভিন্ন ধরনের ফল, খাবার নিয়ে চিনাদের বড় অংশই পৌঁছে যান তাঁদের মন্দিরে। আবার বহু চিনা পরিবারের পছন্দ ট্যাংরার চিনা কালীমন্দির। মন্দিরে মোমবাতি, ধূপ দিয়ে পুজো দিয়ে স্বাগত জানানো হয় নতুন বছরকে। আবার জ্বালানো হয় সুগন্ধি নকল টাকাও। অ্যালেক্স চিউ জানান, শুধু ঈশ্বরের আরাধনা নয়, এই দিনে তাঁরা অর্ঘ্য নিবেদন করেন পূর্বপুরুষকেও। তাঁদের ছবির সামনে ফল, মাংস, মদ নিবেদন করা হয়। জ্বালানো হয় মোম, ধূপ। এবারও ঈশ্বর আর পূর্বপুরুষের কাছে প্রার্থনা জানিয়ে নতুন বছর শুরু করবেন কলকাতার চিনারা।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement