আজ নন্দীগ্রাম দিবস। প্রায় ১৯ বছর আগে রক্ত ভেসে গিয়েছিল নন্দীগ্রাম। যা বদলে দিয়েছিল বাংলার রাজনীতির অভিমুখ। বঙ্গের রাজনৈতিক ক্ষমতা পরিবর্তনের পিছনে অন্যতম ঘটনা। সেই নন্দীগ্রাম দিবসে শহিদদের স্মরণ করে পোস্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি লেখেন, 'নন্দীগ্রাম দিবসে নন্দীগ্রাম, সিঙ্গুর ও নেতাই-সহ সমগ্র বিশ্বের সকল শহিদের প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি এবং অন্তরের গভীর প্রণতি।'
২০০৭ সালের সেই ঘটনার পর তৎকালীন বিরোধী নেত্রী মমতার আন্দোলন তৃণমূল স্তর পর্যন্ত পৌঁছে যায়। ২০১১ সালে সরকার পরিবর্তন। সরকারে আসার পর থেকেই নন্দীগ্রাম দিবস পালনে আরও জোর দেয় তৃণমূল। সেই ধারা বজায় রেখে আজ, শনিবার পোস্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বঙ্গের দুয়ারে কড়া নাড়ছে আরও একটা বিধানসভা নির্বাচন। এই প্রায় দু'দশকে বদলেছে রাজ্যে রাজনৈতিক চিত্রপট। সেই দিনের বিরোধী দল তৃণমূল আজ ক্ষমতায়। তৎকালীন শাসকদল সিপিএম রাজ্যের রাজনীতিতে কার্যত উধাও। বিধানসভায় তাদের অস্তিত্বই নেই। সেই সময় 'রেডারে' না থাকা বিজেপি এখন প্রধান বিরোধী দল। তখন মমতার সঙ্গে থাকা শুভেন্দু অধিকারী সেই দলের বিরোধী দলনেতা। ২০২১ সালে শুভেন্দু অধিকারী বিজেপিতে যোগদানের পর নন্দীগ্রাম দিবসও ভাগ হয়েছে।
নন্দীগ্রাম মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হৃদয়ের খুব কাছের। ২০০৭ সালের মর্মান্তিক ঘটনা আজও ভুলতে পারেননি তিনি। সেই মর্মান্তিক ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের সঙ্গে তুলনা করেন মমতা। নন্দীগ্রামে ভূমিউচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির নেতৃত্বে জমি রক্ষা আন্দোলনের সময় ২০০৭ সালের ১৪ মার্চ পুলিশ অভিযান চালায়। ওইদিন পুলিশের গুলিতে ১৪ জন গ্রামবাসীর মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ। নিহতদের স্মরণে প্রতি বছর ১৪ মার্চ রাজ্যজুড়ে নন্দীগ্রাম দিবস পালন করে তৃণমূল-সহ বিভিন্ন সংগঠন।
