ভোটমুখী বাংলায় মোদির ব্রিগেডে চমক। সূত্রের খবর, বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন চিকিৎসক নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার মোদির ব্রিগেডের মঞ্চে হয়তো পদ্মশিবিরের পতাকা হাতে তুলে নিতে পারেন তিনি। যদিও এই বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু জানা যায়নি। ধোঁয়াশা জিইয়ে রেখেছেন খোদ চিকিৎসক।
চিকিৎসক বলেন, "বিজেপিতে যোগ দিচ্ছি কি না, সেটা বলব না। কিন্তু সভায় আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে যাওয়া মানেই কি সেই দলে যোগ দেওয়া?"
জানা গিয়েছে, শনিবার ব্রিগেডে বিজেপির পরিবর্তন সংকল্প সভায় আমন্ত্রিত চিকিৎসক। আমন্ত্রণ রক্ষা করবেন বলেই জানিয়েছেন তিনি। চিকিৎসক আরও বলেন, "বিজেপিতে যোগ দিচ্ছি কি না, সেটা বলব না। কিন্তু সভায় আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে যাওয়া মানেই কি সেই দলে যোগ দেওয়া?" ভোটমুখী বাংলায় তাই স্বাভাবিকভাবেই চিকিৎসক নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
বরাবরই বামপন্থী মনোভাবাপন্ন চিকিৎসক হিসাবেই পরিচিত নারায়ণবাবু। আর জি কর হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসকের হত্যাকাণ্ডের সময় থেকে তাঁর একাধিক কার্যকলাপে শোরগোল পড়ে যায়। জুনিয়র চিকিৎসকদের একাধিক মিছিল, রাত দখল কর্মসূচিতে রীতিমতো সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। শুধু তাই নয়, জুনিয়র চিকিৎসকের পাশে দাঁড়িয়ে সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়াতেও দেখা গিয়েছিল নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তবে সেই অভয়া আন্দোলনে থাকা নারায়ণবাবুরই তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষের সঙ্গে সাক্ষাৎ নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর তৈরি হয়। জয়েন্ট প্ল্যাটফর্ম অফ ডক্টরসের তরফে বিবৃতি জারি করে বলা হয়, "নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায় কোনও চিকিৎসকের সংগঠনের প্রতিনিধি কিনা তা আমরা জানি না। ব্যক্তিগতভাবে তিনি কারও সঙ্গে দেখা করতেই পারেন। তবে জুনিয়র-সিনিয়র ডাক্তার ও জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন দৌত্যের অধিকার তাঁকে কেউ দেয়নি।"
পরবর্তীকালে আবার অভয়া আন্দোলনের মুখ অনিকেত মাহাতো-সহ জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্টের একাংশের বিরুদ্ধে তোপ দাগতেও দেখা গিয়েছে চিকিৎসককে। সেই নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়ই সম্ভবত বিজেপিতে যোগদান করতে চলেছেন। সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। সূত্রের খবর, সমাজের নানা স্তরের বিশিষ্টদের হয়তো ভোটে টিকিট দিতে পারে বিজেপি। নারায়ণবাবুও কি লড়বেন ভোটযুদ্ধে? এই প্রশ্নের জবাব অবশ্য লুকিয়ে ভবিষ্যতের গর্ভে।
