shono
Advertisement
Oil Prices

তৈলাক্ত অশনি! তেলের মূল্যবৃদ্ধির চাপেই ভেঙে পড়বে বিশ্ব অর্থনীতি?

তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ২০০ ডলারে পৌঁছবে! ইরানের প্রেসিডেন্ট যুদ্ধ বন্ধ করতে বিশ্বকে তিনটি শর্ত দিয়েছেন। যুদ্ধ বন্ধ করার জন‌্য এখন সমগ্র বিশ্ব সক্রিয় না হলে সামনে অনেক বড় বিপদ।
Published By: Biswadip DeyPosted: 11:40 AM Mar 14, 2026Updated: 12:10 PM Mar 14, 2026

ইরানে যুদ্ধ চলতে থাকলে অপরিশোধিত তেলের দাম ব‌্যারেল প্রতি ২০০ ডলারে পৌঁছবে! মূল‌্যবৃদ্ধির চাপেই বিশ্ব অর্থনীতি ভেঙে পড়বে। যুদ্ধ বন্ধ করার জন‌্য এখন সমগ্র বিশ্ব সক্রিয় না হলে সামনে অনেক বড় বিপদ।

Advertisement

ইরানে যুদ্ধ চলতে থাকলে যে বিশ্ব অর্থনীতি ভেঙে পড়বে তার সুষ্পষ্ট ইঙ্গিত মিলতে শুরু করেছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার অাগে অান্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ছিল ব‌্যারেল প্রতি ৬৯ ডলার। মাত্র ১২ দিনেই দামের অঙ্ক ছঁুয়েছে ১১০ ডলার। ইরান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধ চলতে থাকলে অপরিশোধিত তেলের দাম ব‌্যারেল প্রতি ২০০ ডলারে পৌঁছবে!

রাশিয়ার তেল দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার কোনও সুযোগ নেই। কারণ ইরান যে-তেল বিশ্ব বাজারে সরবরাহ করতে পারে তার অর্ধেক পরিমাণও রাশিয়া পারবে না। তার উপর অবরুদ্ধ হয়ে যাওয়া হরমুজ প্রণালীর সংকট তো রয়েইছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের ২০ শতাংশ সরবরাহ হয়। সেখান দিয়ে যে-তেল বিশ্ববাজারে পৌঁছয় তার ৮৫ শতাংশের ক্রেতা হল চিন, ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া-সহ এশিয়ার দেশগুলি। এই প্রণালী হয়ে কাতার, কুয়েত থেকে জ্বালানি গ‌্যাসও বিশ্ববাজারে অাসে। ভারতের গ‌্যাসের জোগানের সিংহভাগই হরমুজের উপর নির্ভরশীল।

মাত্র ১২ দিনেই দামের অঙ্ক ছঁুয়েছে ১১০ ডলার। ইরান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধ চলতে থাকলে অপরিশোধিত তেলের দাম ব‌্যারেল প্রতি ২০০ ডলারে পৌঁছবে!

ইরানের তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং হরমুজ প্রণালী অাটকে পড়া বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ‌্যাসের চাহিদা তৈরি করেছে। নিহত খামেনেইয়ের পুত্র মোজতাবা খামেনেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতার অাসনে বসার পর প্রথম বার্তাতেই সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, হরমুজ খোলার কোনও সম্ভাবনাই নেই। নরেন্দ্র মোদির সরকারের পক্ষে জানানো হয়, ইরান ভারতের তেল ও গ‌্যাসবাহী জাহাজগুলিকে হরমুজ প্রণালীতে ‘সেফ প‌্যাসেজ’ দেবে। কিন্তু ওই ‘খবর’ প্রচার হতেই ইরান তা অস্বীকার করেছে।

খামেনেইয়ের মৃতু‌্যর পর শোক জানাতে পঁাচদিন সময় নিলেও হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে মোদি সরকার বিশেষ সময় নেয়নি। প্রথমে বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শংকর ইরানের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে তিনবার কথা বলেন। তারপর নরেন্দ্র মোদি ফোন করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে। দু’জনেই হরমুজে ভারতীয় জাহাজগুলির সুরক্ষা নিয়ে দৌত‌্য করেন। সেই দৌতে‌্য কাজ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। কেনই-বা হবে? এই অসম যুদ্ধে ইরানের তুরুপের তাস হরমুজ প্রণালী। ২১ কিলোমিটার চওড়া এই প্রণালীটিকে বন্ধ রেখেই ইরান একমাত্র নাড়িয়ে দিতে পারে বিশ্বকে।

যদি সতি‌্য কয়েক দিনের মধে‌্য বিশ্ব বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ২০০ ডলারে পৌঁছয়, তাহলে অামেরিকা ও ইজরায়েলের পক্ষেও অার এই যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব।

যদি সতি‌্য কয়েক দিনের মধে‌্য বিশ্ব বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ২০০ ডলারে পৌঁছয়, তাহলে অামেরিকা ও ইজরায়েলের পক্ষেও অার এই যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব। কারণ জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে তার প্রভাব পড়ে অন‌্য পণে‌্যর উপর। এই চাপ সহ‌্য করতে পারবে না অামেরিকা-সহ উন্নত বিশ্বের অর্থনীতিও। মূল‌্যবৃদ্ধির চাপেই বিশ্ব অর্থনীতি ভেঙে পড়ার উপক্রম হবে। ইরানের প্রেসিডেন্ট যুদ্ধ বন্ধ করতে বিশ্বকে তিনটি শর্ত দিয়েছেন। যুদ্ধ বন্ধ করার জন‌্য এখন সমগ্র বিশ্ব সক্রিয় না হলে সামনে অনেক বড় বিপদ।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement