shono
Advertisement
CM Mamata Banerjee

শুনানি পর্বে BLA বাদ, বয়স্কদের হয়রানি! জ্ঞানেশ কুমারকে ৪ পাতার কড়া চিঠি মমতার

এনিয়ে এসআইআর পর্ব চলাকালীন তৃতীয়বার মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি পাঠালেন মুখ্যমন্ত্রী।
Published By: Sucheta SenguptaPosted: 06:27 PM Jan 04, 2026Updated: 07:41 PM Jan 04, 2026

মলয় কুণ্ডু: প্রস্তুতি না নিয়ে এসআইআর প্রক্রিয়া হওয়ায় তাতে বিস্তর সমস্যা হচ্ছে, অযথা হয়রান হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। এই অভিযোগ তুলে ফের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি পাঠালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এনিয়ে তৃতীয়বার সিইও-কে তিনি চিঠি লিখলেন। এবার চার পাতার দীর্ঘ চিঠিতে জনতার সমস্যার কথা সবিস্তারে জানিয়ে কমিশনের কার্যপদ্ধতি নিয়ে রীতিমতো বিরক্তি প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের কাজে গোড়া থেকে সক্রিয় থাকা ও পরিশ্রম করা সত্ত্বেও এখন শুনানি পর্বে কেন বাদ দেওয়া হচ্ছে বিএলএ-দের? এই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। পাশাপাশি বয়স্ক, অসুস্থ মানুষজনকে বহু দূরে শুনানির জন্য যেতে হচ্ছে বলে গুরুতর সমস্যার কথাও মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠিতে লিখেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

Advertisement

জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

আগামী দু-তিনমাসের মধ্যে রাজ্যে বিধানসভা ভোট। তার ঠিক আগে, ২০২৫ সালের অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ থেকে বাংলা ছাড়াও ভোটমুখী ১২ রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের কাজে নেমেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। এটা কমিশনের রাজনীতি প্রভাবিত সিদ্ধান্ত বলে গোড়া থেকেই অভিযোগ তুলেছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল। যথাযথ প্রস্তুতি ছাড়া এই কাজে বিস্তর গোলযোগ হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল তারা। যত সময় পেরিয়েছে, ততই এই আশঙ্কা বাস্তবায়িত হতে দেখা যাচ্ছে। অনেক জায়গায় এসআইআরের কাজে ছোটখাটো ভুলের জন্য সাধারণ ভোটারদের হয়রানির বাস্তব ছবিটা একেবারে প্রকাশ্যে। কোথাও ৭৯ বছরের অসুস্থকে, আবার কোথাও ১০৪ বছরের বৃদ্ধাকে দীর্ঘ পথ পেরিয়ে যেতে হচ্ছে শুনানিকেন্দ্রে, নাগরিকত্বের হাতেগরম প্রমাণ দেখাতে হচ্ছে।

জ্ঞানেশ কুমারকে লেখা চিঠিতে ক্ষোভ উগরে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থার অপব্যবহার করে ভোটারদের নাম ‘ব্যাকএন্ডে’ মুছে ফেলা হচ্ছে। অথচ আইন অনুযায়ী, ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাচনী রেজিস্ট্রেশন অফিসারদের অনুমোদন বাধ্যতামূলক। এই প্রক্রিয়ায় তাঁদের অনেক ক্ষেত্রেই অন্ধকারে রাখা হচ্ছে। চিঠিতে তিনি লেখেন, বিহারে যে নথিগুলি এসআইআরের সময় বৈধ হিসেবে মানা হয়েছিল, পশ্চিমবঙ্গে হঠাৎ করেই সেগুলি অগ্রাহ্য করা হচ্ছে। এমনকি রাজ্য সরকারের দেওয়া স্থায়ী বাসিন্দা শংসাপত্রও ভোটার পরিচয়ের প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ। এতে পরিযায়ী শ্রমিকদের অযথা হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর আরও অভিযোগ, শুনানির জন্য ভোটারদের ডাকা হলেও কী নথি আনতে হবে, তা আগাম জানানো হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রেই জমা দেওয়া কাগজের কোনও রসিদও দেওয়া হচ্ছে না।

এসআইআরের শুরুতে বিভিন্ন দলের বিএলএ-দের ভূমিকা ছিল অতি সক্রিয়া। কমিশনের হয়ে কাজ করা বিএলও-দের কাজ থেকে শুরু করে ভোটারদের এনুমারেশন ফর্ম পূরণ করতে সর্বক্ষণ সাহায্য, পরিশ্রম করেছেন তাঁরা। কিন্তু শুনানি পর্বে দেখা গিয়েছে, বিএলএ-দের শুনানিকেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। জ্ঞানেশ কুমারকে লেখা চিঠি এনিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কড়া চিঠিতে তিনি স্পষ্ট এসব নিয়ে নিজের বিরক্তির কথা প্রকাশ করেছেন। এর আগে নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে দুবার এসআইআরের চলমান প্রক্রিয়ার মাঝে জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি পাঠিয়ে একাধিক সমস্যার কথা তুলে ধরেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু কোনও সাড়া পাননি বলেও উল্লেখ করেছেন। এখন দেখার, মুখ্যমন্ত্রীর তৃতীয় চিঠি নিয়ে কী প্রতিক্রিয়া দেয় জাতীয় নির্বাচন কমিশনার।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
  • এসআইআরের কাজে হাজার সমস্যা তুলে ধরে সিইও-কে চিঠি মুখ্যমন্ত্রীর।
  • এনিয়ে এসআইআর পর্ব চলাকালীন তৃতীয়বার মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি পাঠালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
  • এবার দীর্ঘ ৪ পাতার চিঠিতে তিনি বয়স্কদের হয়রানি, বিএলএ-দের নিষ্ক্রিয় রাখা নিয়ে আপত্তি তুলেছেন তিনি।
Advertisement