shono
Advertisement
Newtown Death Case

তৃতীয় ব্যক্তির আগমনেই সম্পর্কে জট! নিউটাউনে ইনফ্লুয়েন্সর মৃত্যুর পরতে পরতে রহস্য

খুন নাকি আত্মহত্যা? নিউটাউনের ফ্ল্যাটে ইনফ্লুয়েন্সর তৃষা সাহার মৃত্যুর ঘটনায় নতুন তথ্য এল পুলিশের হাতে।
Published By: Jaba SenPosted: 07:01 PM Jul 21, 2026Updated: 08:45 PM Jul 21, 2026

ভালোই চলছিল সবকিছু। কর্মক্ষেত্রে প্রথম আলাপ হওয়া যুবকের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন ইনফ্লুয়েন্সর তৃষা সাহা। সম্পর্কের গভীরতা বেড়ে যাওয়ায় লিভ ইন করার সিদ্ধান্ত নেন দু'জনে। বাড়ির সকলে সবকিছুই জানতেন। এরমধ্যে ঘটে গেল অঘটন। নিউটাউনের ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হল তৃষার মৃতদেহ। ওই একই ফ্ল্যাট থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার হন তাঁর লিভ ইন সঙ্গী সৌভিক রায়ও। তিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁকে জেরা করে তদন্তের জট কাটবে বলে দাবি তদন্তকারীদের। সম্পর্কে কোনও তৃতীয় ব্যক্তির আগমন হয়েছিল কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তৃষাকে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে কি না তা-ও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। যদিও খুনের পাশাপাশি আত্মহত্যার তত্ত্বও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তদন্তকারীরা।

Advertisement

লিভ ইন পার্টনার সৌভিকের সঙ্গে নিউটাউনে থাকতেন তৃষা। ছবি সমাজমাধ্যম।

জানা গিয়েছে, তৃষার বাড়ি ব্যারাকপুরে। তিনি সল্টলেকে একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত ছিলেন। ওই একই সংস্থায় কাজ করেন সৌভিকও। বেশ কয়েকদিন ধরে তাঁরা দু'জনে প্রেমের সম্পর্কে ছিলেন । চার মাস আগে নিউটাউনের চণ্ডীবেড়িয়ায় একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নেন তৃষা ও সৌভিক। বেসরকারি সংস্থায় কাজের পাশাপাশি ইনফ্লুয়েন্সরও ছিলেন তৃষা। নেটমাধ্যমে বেশ জনপ্রিয় ছিলেন তিনি।

রবিবার সৌভিক বাড়ির মালিককে আচমকা ফোন করে জানান, তৃষা আত্মহত্যা করেছেন। ফোন পেয়ে ওই ফ্ল্যাটে ছুটে যান বাড়ির মালিক। কিন্তু দরজা ভিতর থেকে বন্ধ ছিল। অনেকবার ডাকাডাকি করেও কারও সাড়া পাননি তিনি। এরপর তিনি চলে যেতেই সৌভিক আবার ফোন করেন। বাড়ির মালিক ফের ফ্ল্যাটের কাছে গেলে সৌভিক দরজা খুলে দেন। ঘরে ঢুকেই রক্ত দেখতে পান বাড়ির মালিক। এরপর তিনি দেখেন, একটি ঘরে ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছেন তৃষা। বাড়ির মালিকই প্রথম পুলিশকে খবর দেন।

ইনফ্লুয়েন্সর ছিলেন তৃষা। সমাজমাধ্যমে বেশ অ্যাকটিভ ছিলেন তিনি। ছবি: সমাজমাধ্যম।

খবর পেয়ে নিউটাউন থানার পুলিশ তৃষার মৃতদেহ উদ্ধার করে। সৌভিককে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁর দু'হাতের কব্জি কাটা ছিল। বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। তাঁকে জেরা করলে তদন্তের জট কাটবে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।

মৃত ইনফ্লুয়েন্সর তৃষা সাহা। ছবি: সমাজমাধ্যম।

সূত্রের খবর, গত কয়েকদিন ধরে তৃষাকে সন্দেহ করছিলেন সৌভিক। সমাজমাধ্যমে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে প্রেমিকার কথাবার্তা ভালোভাবে নেননি তিনি। এই নিয়ে দু'জনের মধ্যে লাগাতার অশান্তি হচ্ছিল বলে অনুমান। তৃষার জীবনে অন্য কোনও ব্যক্তির প্রবেশ হওয়ায় সৌভিকের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয় বলে মনে করা হচ্ছে। সেই কারণেই কি খুন হতে হল ২৫ বছরের ইনফ্লুয়েন্সরকে? যদিও তৃষাকে খুন করা হয়েছে কি না সেই বিষয়ে কিছু বলতে চাননি তদন্তকারীরা। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে। অন্যদিকে সৌভিক কোন পরিস্থিতিতে হাত কাটলেন তা-ও পরিষ্কার নয়। আপাতত মৃতের লিভ ইন পার্টনার সৌভিকের শারীরিক অবস্থার উন্নতির অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁরা। জানা গিয়েছে, তৃষা-সৌভিকের কাছে একটি পোষ্য বিড়াল ছিল। সেই বিড়ালটি বর্তমানে বাড়ির মালিকের কাছে রয়েছে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement