আপাত বিশ্বাস, ভক্তি আর সাবেকিয়ানাতেই সীমাবদ্ধ নয় বাঙালির পুজো-আচ্চা। দেবী মূর্তিতে অভিনবত্ব, আরাধনায় আধুনিকতার ছোঁয়া - এসবই বাঙালির ধর্মচর্চার বাড়তি আগ্রহের বিষয়। তাই তো এতদিন ধরে শিল্পীদের তুলির টানে দেবদেবীর নব নব রূপ দেখেছি আমরা। এবার আরেক চমক দিতে চলেছেন কুমোরটুলির শিল্পীরা। আসছে সরস্বতী পুজো (Saraswati Puja)। রাগী, গম্ভীর, শ্বেত বা পীতবসনা বাগদেবীই শুধু নয়, এবার কুমোরপাড়ায় রূপ নিচ্ছে 'কিউট' সরস্বতী। শিল্পীরা জানাচ্ছেন, এবছর কিউট সরস্বতীর চাহিদা অনেক বেশি। তাই এখন তাঁদের দম ফেলার ফুরসৎ নেই। মণ্ডপে মণ্ডপে কিউট সরস্বতী সময়মতো পৌঁছে দিতে হবে। বোঝাই যাচ্ছে, সাবেকি ছাঁচ থেকে এখন বাগদেবী হচ্ছে আধুনিকা।
আসছে সরস্বতী পুজো। রাগী, গম্ভীর, শ্বেত বা পীতবসনা বাগদেবীই শুধু নয়, এবার কুমোরপাড়ায় রূপ নিচ্ছে 'কিউট' সরস্বতী। শিল্পীরা জানাচ্ছেন, এবছর কিউট সরস্বতীর চাহিদা অনেক বেশি।
কুমোরপাড়ায় তৈরি হচ্ছে কিউট সরস্বতী। নিজস্ব ছবি
গাল একটু ফোলা, নাক সামান্য চাপা, ছোট ছোট হাতে ছোট বীণা, খুদে পায়ের নিচে হাঁসের ছানা। এ যেন অচেনা সরস্বতী! তা হোক, বিদ্যাদেবীর এমন রূপ দেখলে বরং শিশুরা আনন্দই পাবে। অনেকটা নিজেদের মতোই মনে হবে। শুধুমাত্র চেনা ছাঁচ বদলেই দেবী দর্শনে এত পরিবর্তন! অবিশ্বাস্যই বটে। আর নিজের সৃষ্টিশীলতা দিয়ে সেই অবিশ্বাস্য কাজটাই অনর্গল করে চলেছেন কুমোরটুলির মৃৎশিল্পী দীপঙ্কর পাল। কলকাতা নামীদামি পুজোয় দুর্গাঠাকুর যাঁর হাতে তৈরি। তবে দীপঙ্করবাবুর সেরা চমক ছিল গত বছর, মধ্য কলকাতার চোরবাগানের একটি সরস্বতী মূর্তি। সেখানেই মূলত এই কিউট সরস্বতীর আবির্ভাব। ছোট মূর্তির মুখাবয়ব ছিল ভিন্ন, হাঁসটিও ছিল অনেকটা আলাদা। বেশ ঘরোয়া চেহারায় দেখা গিয়েছিল বীণাপানিকে। তা ভাইরাল হওয়ার পর প্রশংসার বন্যা বয়ে গিয়েছিল।
দীপঙ্করবাবুর সেরা চমক ছিল গত বছর, মধ্য কলকাতার চোরবাগানের একটি সরস্বতী মূর্তি। সেখানেই মূলত এই কিউট সরস্বতীর আবির্ভাব। ছোট মূর্তির মুখাবয়ব ছিল ভিন্ন, হাঁসটিও ছিল অনেকটা আলাদা। বেশ ঘরোয়া চেহারায় দেখা গিয়েছিল বীণাপানিকে।
সাবেকি চেহারার চেয়ে পৃথক বাগদেবীর এই মূর্তি। নিজস্ব ছবি
সে বছরই আসানসোলের এক দুর্গাপূজা উদ্যোক্তারা তৈরি করে কিউট দুর্গা। সপরিবার দশভুজায় সাবেকিয়ানার ভাব ছেঁটে একেবারে ভিন্ন ধাঁচ আনা হয়। আর নতুন বছরের শুরুতে একে একে কুমোরটুলিতে গড়ে উঠছে কিউট সরস্বতী। শিল্পী দীপঙ্কর পাল যদিও তাঁর নিজের শিল্পকর্ম নিয়ে ততটা উচ্ছ্বসিত নন। সৃষ্টিশীল মানুষের মতো তাঁরও মতামত, একটা নির্দিষ্ট স্টাইলে কাজ বেশিদিন ধরে রাখা যায় না। তাই কিউট সরস্বতীর জনপ্রিয়তা থাকতে থাকতেই তিনি আবার ছাঁচ বদলে ফেলতে চান। আসলে দুর্গা বা কালীপুজো যতটা থিম নির্ভর, যতটা অভিনবত্বে ভরপুর, সরস্বতী পুজো (Saraswati Puja) তুলনায় তার চেয়ে অনেকটা কম। এবার কিউট সরস্বতীর হাত ধরে বীণাপানির আরাধনাও তেমন জমজমাট আর জনপ্রিয় হয়ে উঠবে বলে আশা মৃৎশিল্পীদের।
