রাজ্যে এসআইআর পদ্ধতির মাঝে পরপর ছ'বার চিঠি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে। নির্বাচন কমিশনের একাধিক কার্যপদ্ধতির ত্রুটির কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চিঠি পাঠিয়েছেন সিইসি জ্ঞানেশ কুমারকে। জনস্বার্থে সেসব কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সমাধান চেয়েছেন। কিন্তু একটি চিঠিরও জবাব আসেনি। রবিবার এসআইআর নিয়ে দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে সাক্ষাতের ঠিক আগে নিয়ম ভেঙে মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগের অভিযোগ তুলে ফের জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি লিখলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনপাতার সেই চিঠিতে তিনি আইনকানুনের খুঁটিনাটি তুলে ধরে বোঝাতে চেয়েছেন, বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার এ এক ছল!
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে লেখা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিঠিতে মাইক্রো অবজার্ভার নিয়ে আপত্তি।
শুক্রবার রাতে কালীঘাটের দলীয় কার্যালয়ে কাউন্সিলর, বিএলএ ২-দের নিয়ে ঘরোয়া বৈঠকে এই মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগ নিয়ে আপত্তির কথা শোনা গিয়েছিল তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলায়। উপস্থিত সকলের উদ্দেশে তাঁর পরামর্শ ছিল, এই মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগের কোনও আইন নেই নির্বাচন কমিশনের। কিন্তু নিয়ম বহির্ভূতভাবে তা নিয়োগ করা হয়েছে। তাই মাইক্রো অবজার্ভারদের কথা শোনার প্রয়োজন নেই। আর শনিবার সন্ধ্যায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে লেখা চিঠিতে সেই প্রসঙ্গই তুলে ধরেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তাঁর চিঠিতে উঠে এসেছে ১৯৫০ সালে রিপ্রেজেন্টেশন অফ দ্য পিপলস অ্যাক্ট এবং ১৯৬০ সালে রেজিস্ট্রেশন অফ ইলেকটরস রুলের কথা। সেসব আইন অনুযায়ী, এসআইআরে ভোটারদের তথ্য পরীক্ষা, যাচাই করার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ERO, AERO. কিন্তু তাঁদের কাজে 'নজরদারি'র জন্য মাইক্রো অবজার্ভারদের নিয়োগ কমিশনের কোন আইনের আওতায় আসে, তা জানতে চেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, মাইক্রো অবজার্ভারদের কাজ নির্দিষ্ট নয়। এও মনে করিয়ে দিয়েছেন, নির্দিষ্ট আইন সংশোধনের আগে পর্যন্ত কমিশনের এক্তিয়ার নেই কোনও নতুন পদ তৈরি।
তাঁর চিঠিতে উঠে এসেছে ১৯৫০ সালে রিপ্রেজেন্টেশন অফ দ্য পিপলস অ্যাক্ট এবং ১৯৬০ সালে রেজিস্ট্রেশন অফ ইলেকটরস রুলের কথা। সেসব আইন অনুযায়ী, এসআইআরে ভোটারদের তথ্য পরীক্ষা, যাচাই করার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ERO, AERO. কিন্তু তাঁদের কাজে 'নজরদারি'র জন্য মাইক্রো অবজার্ভারদের নিয়োগ কমিশনের কোন আইনের আওতায় আসে, তা জানতে চেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, মাইক্রো অবজার্ভারদের কাজ নির্দিষ্ট নয়। তিন পাতার চিঠির শেষে ফের মুখ্যমন্ত্রী গোটা এসআইআর পদ্ধতি নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, কমিশন নানা সময়ে নানা নিয়মের জন্য সাধারণ মানুষ দীর্ঘ সময়ে ধরে হেনস্তার মুখে পড়ছেন। ফলে এই পদ্ধতি দ্রুত বন্ধ করা হোক।
