সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করে নজির গড়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তা-ও আবার এসআইআর 'যন্ত্রণা'র কথা নিজে মুখে 'সুপ্রিম' দরবারে তুলে ধরেছেন তিনি। আর তার ঠিক কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাজ্যের মুখ্যসচিবকে কড়া চিঠি পাঠাল নির্বাচন কমিশন। তাদের অভিযোগ, একাধিক নির্দেশ নাকি এখনও মানেনি রাজ্য। কেন সেগুলি মানা হল না, সে সংক্রান্ত জবাবি চিঠি আগামী সোমবারের মধ্যে জমা দিতে হবে।
নির্বাচন কমিশন ওই চিঠিতে মোট পাঁচটি অভিযোগ করেছে। সেগুলি হল:
১. দু'জন ইআরও এবং দু'জন এইআরও এবং একজন ডেটা এন্ট্রি অপারেটরের বিরুদ্ধে কমিশন বলা সত্ত্বেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
২. এইআরও সুমিত্র প্রতীম প্রধান এবং বসিরহাটের বিডিও-র বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে এইআরও নিয়োগের অভিযোগ ছিল। তা সত্ত্বেও তাঁদের এখনও সাসপেন্ড করা হয়নি।
৩. ৩ জন ইআরও বদলির সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়নি।
৪. কমিশনের নিয়ম না মেনে এসডিও, এসডিএম স্তরের আধিকারিকদের ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার হিসাবে নিয়োগ করা হয়েছে।
৫. রিটার্নিং অফিসার নিয়োগেও মানা হয় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা।
আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি দুপুর তিনটের মধ্যে অভিযোগ সংক্রান্ত রিপোর্ট চিঠির আকারে মুখ্যসচিবকে জমা দিতে হবে বলেই জানিয়েছে কমিশন। বলে রাখা ভালো, বাংলায় আর মাত্র কয়েকটা মাস পরেই বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে এসআইআর ইস্যুতে ক্রমশ রাজ্য ও কমিশন সংঘাতের পারদ চড়ছে। বুধবার সুপ্রিম কোর্টে দাঁড়িয়ে কমিশনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কমিশনকে মানবিক হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এই পরিস্থিতিতে কমিশনের কড়া চিঠি যে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই।
