বঙ্গে ভোটের বাকি প্রায় একমাস! কিন্তু এখনও কয়েকলাখ ভোটারের নাম রয়েছে 'বিচারাধীনে'র তালিকায়। যা নিয়ে জনমানসে রয়েছে আতঙ্ক এবং উদ্বেগ। কমিশন সূত্রে খবর, বিচারাধীন কমবেশি ৬০ লক্ষ ভোটারের মধ্যে ইতিমধ্যে ২৭ লক্ষ ২৩ হাজার জনের নাম নিষ্পত্তি করা হয়েছে। তাঁদের নাম আগামী সোমবার প্রথম তালিকায় প্রকাশিত করা হবে বলে খবর। কিন্তু তার আগেই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে কমিশন। পৃথক অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে এই ট্রাইব্যুনাল গঠন হচ্ছে। যেখানে অমীমাংসিত এবং তালিকা থেকে বাদ যাওয়া ভোটাররা আবেদন জানাতে পারবেন। কিন্তু কীভাবে এবং কবে থেকে পৃথক এই অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালে আবেদন জানানো যাবে?
নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, বিচারাধীন থাকা মোট ৬০ লাখ নামের সম্পূর্ণ নিষ্পত্তি হবে। তাতে যে নাম সমস্ত নাম বাদ পড়বে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাই গঠিত নয়া এই ট্রাইব্যুনালে আবেদন জানাতে পারবেন। ফলে এক্ষেত্রে বেশ কিছুটা সময় লেগে যেতে পারে বলে আশঙ্কা। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, যাঁদের নাম বাদ থাকবে তাঁরা অনলাইন এবং অফলাইনে এই আবেদন জানাতে পারবেন। এক্ষেত্রে ডিএম অর্থাৎ জেলাশাসক, অতিরিক্ত জেলাশাসক এবং মহকুমাশাসকের কাছে গিয়ে অফলাইনে আবেদন জানাতে পারবেন। অনলাইনে করার ক্ষেত্রে ECI NET মোবাইল অ্যাপ এবং কমিশনের ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদন করা যাবে।
সূত্রের খবর, সুপ্রিম নির্দেশ মেনে গঠিত এই ট্রাইব্যুনাল ২৩ জেলার জন্য ১৯ জন প্রাক্তন বিচারপতিকে নিয়ে গঠিত হয়েছে। এই ট্রাইব্যুনালে রয়েছেন কলকাতা হাই কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম, প্রাক্তন বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু, রঞ্জিতকুমার বাগ, সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়-সহ ১৯ জন বিচারপতি। জানা গিয়েছে, সংশ্লিষ্ট জেলার সমস্ত আপিলের নিষ্পত্তি হয়ে গেলে ধীরে ধীরে ট্রাইব্যুনালের কাজও শেষ হয়ে যাবে। উল্লেখ্য, বাংলায় চলা এসআইআর নিয়ে একাধিক অভিযোগ উঠে এসেছে। তা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা হয়। মামলা করেন খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সমস্ত মামলার শুনানিতে ভোটার তালিকা স্বচ্ছ রাখতে নির্বাচনী সংক্রান্ত অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনাল গঠন করার নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট।
