নন্দীগ্রাম। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একসময়ের 'কর্মভূমি'। একুশে হাতছাড়া হয়েছিল, ছাব্বিশে সেই নন্দীগ্রাম পুনরুদ্ধারে কোমর বেঁধে নামছে রাজ্যের শাসকদল। খোদ দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রাম পুনরুদ্ধারের ব্লু প্রিন্ট তৈরি করেছেন। যার শুরুটা হয়েছিল সেই জানুয়ারিতে। ভোট ঘোষণার পর প্রচার পর্বের শুরুতেই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কেন্দ্রে প্রচারে যাচ্ছেন অভিষেক।
তৃণমূলের তরফে অভিষেকের প্রথম দু'দিনের প্রচারসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ২৪ মার্চ থেকে প্রচার শুরু করছেন অভিষেক। দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমায় তাঁর প্রথম জনসভা হওয়ার কথা। গত ১২ বছরের রেওয়াজ হল, অভিষেক ভোটের প্রচার শুরু করেন দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকেই। তিনি ওই জেলারই সাংসদ। ২০২৬ সালের ভোটেও অভিষেকের প্রচার শুরু দক্ষিণ ২৪ পরগণায়। পরের দিনই তিনি যাবেন নন্দীগ্রামে। বুধবার প্রথমে তিনি পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুরে জনসভা করবেন। তার পর কেশিয়াড়ি এবং নারায়ণগড় বিধানসভা নিয়ে জনসভা করার কথা তাঁর। সেখান থেকেই নন্দীগ্রামের উদ্দেশে রওনা দেবেন তৃণমূলের সেনাপতি।
বস্তুত একুশের ভোটে বাংলার লড়াইয়ের উপকেন্দ্র ছিল নন্দীগ্রাম। এবার নিজের কেন্দ্রের পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর কেন্দ্র ভবানীপুরেও প্রার্থী হয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু। লক্ষ্য, তৃণমূলনেত্রীকে তাঁর নিজের কেন্দ্রে আটকে রাখা। পালটা অভিষেক চাইছেন, শুভেন্দুকে নন্দীগ্রামেই চ্যালেঞ্জ করতে। নন্দীগ্রামে এবার তৃণমূলের প্রার্থী বিজেপিরই প্রাক্তন নেতা পবিত্র কর। প্রার্থী ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে অভিষেকের হাত ধরেই তৃণমূলে যোগ দেন পবিত্র।
অভিষেকের হাত ধরে তৃণমূলে পবিত্র। ফাইল ছবি।
শোনা যায়, অভিষেকের বাঁধা ছকেই শুভেন্দুর বিরুদ্ধে পবিত্রকে প্রার্থী করা হয়েছে। একটা সময়ে ‘হিন্দু সংহতি’র নেতা ছিলেন পবিত্র। নন্দীগ্রামের হিন্দু সংখ্যাগুরু ২ নম্বর ব্লকের প্রভাবশালী নেতা তিনি। তাঁর স্ত্রী পঞ্চায়েতের নির্বাচিত প্রধান। শুভেন্দুর অন্যতম 'ভোট মেশিনারি' ছিলেন পবিত্র। গত বিধানসভাতেও শুভেন্দুর লিডের বেশিরভাগটা এসেছিল এই ২ নম্বর ব্লকে। বয়াল-১ এবং ২ অঞ্চল থেকেই সবচেয়ে বেশি ভোটে এগিয়ে ছিলেন শুভেন্দু। এ বার সেই বয়াল থেকেই ‘হিন্দু মুখ’কে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। পবিত্রকে প্রার্থী করে শুভেন্দুর 'জিয়নকাঠি' হিন্দু ভোটে থাবা বসাতে চায় তৃণমূল। এক নম্বর ব্লক সংখ্যালঘু প্রধান। সেখানে এমনিই এগিয়ে থাকার কথা তৃণমূলের। সব মিলিয়ে সুপরিকল্পিতভাবেই নন্দীগ্রামে নামছে তৃণমূল।
শুভেন্দুর অন্যতম ভোট মেশিনারি ছিলেন পবিত্র। গত বিধানসভাতেও শুভেন্দুর লিডের বেশিরভাগটা এসেছিল এই ২ নম্বর ব্লকে। বয়াল-১ এবং ২ অঞ্চল থেকেই সবচেয়ে বেশি ভোটে এগিয়ে ছিলেন শুভেন্দু। এ বার সেই বয়াল থেকেই ‘হিন্দু মুখ’কে প্রার্থী করেছে তৃণমূল।
শাসকদল মনে করছে, ভালোমতো জনসংযোগ করতে পারলেই নন্দীগ্রামে বাজিমাত করা যাবে। সেই পরিকল্পনা অনুসারে প্রচারের শুরুতেই নন্দীগ্রামে ঝাঁপাচ্ছেন অভিষেক। অবশ্য নন্দীগ্রামে জনসংযোগের শুরুটা সেই জানুয়ারি মাসেই করেছিলেন অভিষেক। নিজের সফল মডেল সেবাশ্রয় শিবির নন্দীগ্রামে খুলেছিলেন তিনি। সেবাশ্রয়ের সূচনায় নন্দীগ্রাম গিয়েছিলেন অভিষেক। বলা বাহুল্য, সেই স্বাস্থ্য শিবিরে প্রবল 'বাধা' সত্ত্বেও ব্যাপক সাড়া মিলেছিল। সেই স্বাস্থ্য শিবির থেকেই স্থানীয় কর্মীরা চাঙ্গা হন। তারপর নন্দীগ্রামের একাধিক সমবায় নির্বাচনে সাফল্য পেয়েছে তৃণমূল। এবার ফের অভিষেক সেখানে যাচ্ছেন কর্মীদের পেপটক দিতে।
