এসআইআরের (SIR in West Bengal) নামে 'হেনস্তা' করা হচ্ছে খেলোয়াড়দের। অযথা ডেকে পাঠানো হচ্ছে দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করা ক্রিকেটার-ফুটবলারদের। এই অভিযোগে স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিনে প্রতিবাদে পথে নামলেন প্রাক্তন খেলোয়াড়রা। ভবানীপুর ক্লাবের সামনে চলল প্রতিবাদ কর্মসূচি। আগামী দিনে নির্বাচন কমিশনকেও দ্রুত চিঠি দেওয়া হবে প্রাক্তন খেলোয়াড়দের পক্ষ থেকে। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন ফুটবলার দীপেন্দু বিশ্বাস, অলোক মুখোপাধ্যায়, মানস ভট্টাচার্য-সহ ময়দানের একাধিক খেলোয়াড়রা।
জাতীয় দলের ক্রিকেটার মহম্মদ শামি, প্রাক্তন ক্রিকেটার লক্ষ্মীরতন শুক্লাদের ডাকা হয়েছে এসআইআরে। আবার প্রাক্তন ফুটবলার মেহতাব হোসেন, কম্পটন দত্ত, অলোক মুখোপাধ্যায়দেরও ডাক এসেছে। যাঁরা দেশকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন বা এখনও প্রতিনিধিত্ব করেছেন, তাঁদেরও কি নিজেদের বৈধ ভোটার বলে প্রমাণ করতে হবে? এসআইআরের নামে এই 'হেনস্তা'র প্রতিবাদে সরব ক্রীড়াবিদরা।
কলকাতায় ভবানীপুর ক্লাবের সামনে স্বামী বিবেকানন্দের ছবিতে মালা দিয়ে তাঁদের প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু হয়। বিভিন্ন ক্ষেত্রের প্রায় ১৫০ জন ক্রীড়াবিদ প্রতিবাদে শামিল হন। দীপেন্দু বিশ্বাস বলেন, "আমাদের বক্তব্য, কোনও বৈধ ভোটার যেন বাদ না যায়। খেলোয়াড়দের এভাবে এসআইআরে ডাকাটা অসম্মানের। তাঁদের যথাযথ সম্মান দেওয়া হোক।"
উল্লেখ্য, দিনকয়েক আগেই এসআইআর (SIR in West Bengal) শুনানিতে তলব করা হয়েছিল মহম্মদ শামিকে। তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও কমিশনকে তোপ দেগেছেন এই ইস্যুতে। বলেছেন, “দেশের মুখ উজ্জ্বল করা ক্রিকেটার মহম্মদ শামিকে নোটিস দিয়েছে। এগুলো কি ষড়যন্ত্র নয়?” সম্প্রতি এসআইআর শুনানিতে তলব করা হয়েছে বাংলা দলের হেডকোচ লক্ষ্মীরতন শুক্লাকে। বাদ যাননি নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন, কবি জয় গোস্বামী কিংবা অভিনেতা-সাংসদ দেবও। এঁদের মতো বিশিষ্টদের শুনানির নোটিস পাঠানোকে কমিশনের অমানবিক, অসংবেদনশীল পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেকথা স্পষ্ট করে জানিয়েই মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি লিখেছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, যে পদ্ধতিতে শুনানি চলছে, তা ত্রুটিযুক্ত। অবিলম্বে এই পদ্ধতি বন্ধ হোক। এবার প্রতিবাদে শামিল বাংলার ক্রীড়াজগতও।
