ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে 'মুকুলহারা' বঙ্গ রাজনীতি। দীর্ঘ রোগভোগের পর রবিবার রাতে নিউটাউনের হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বাংলার 'চাণক্য' মুকুল রায়। বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। অসুস্থতার কারণে দীর্ঘ সময় রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় থাকলেও তাঁর অবদান ভোলার নয়, বিশেষত শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের এই সাফল্যের নেপথ্যে। তৃণমূলের জন্মলগ্ন থেকে কাজ করে চলা মুকুল রায় মাঝে বাঁক বদল করে চলে দিয়েছিলেন বিজেপিতে। পরে ফিরেও আসেন শাসকশিবিরে। মুকুল রায়ের এই বিজেপি সংস্রবকেই তাঁর মৃত্যুর জন্য দায়ী করলেন কলকাতার মেয়র তথা রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি মানসিক অত্যাচার মুকুল রায়কে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে।
সোমবার সকালে মুকুল রায়ে প্রয়াণ সংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই শোকে আঁধার হয়ে আসে বাংলার রাজনৈতিক মহলে। বাংলার বাইরে জাতীয় রাজনীতিতেও যথেষ্ট সুপরিচিত নাম মুকুল রায়। দলমত নির্বিশেষে সকলেই এদিন তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করেন। কেউ সোশাল মিডিয়ায়, কেউ শোকবার্তা অথবা কেউ সশরীরে গিয়ে বর্ষীয়ান নেতাকে শেষশ্রদ্ধা জানান। নিউটাউনের হাসপাতাল থেকে সোমবার বেলার দিকে বিধানসভায় মুকুল রায়ের মৃতদেহ নিয়ে আসা হলে সেখানেই মন্ত্রী, বিধায়করা মালা দিয়ে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন।
এসবের পর কলকাতার মেয়র তথা রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim) বললেন, ''হঠাৎ বিজেপি জেলে ঢোকানোর ভয় দেখিয়ে মুকুলদাকে দলে যোগদান করায়। বিজেপি বারবার ভীত করে তুলেছিল তাঁকে। সেইদিন থেকে মনে মনে তাঁর লড়াই শুরু হয়েছিল। লড়াই করছিলেন নিরন্তর। আজ মারা গেলেন। দোষটা কাদের? যারা মুকুলদার মতো মানুষদের ভয় দেখিয়ে চাপে রেখেছে।'' অনেকেই বলেন, কোনও চাপে পড়ে মুকুল রায় ২০১৭ সালে বিজেপিতে যোগদান করেছিলেন। পরে তিনি তৃণমূলে ফিরে আসেন। তবু বিজেপির চাপ ছিল তাঁর উপর, এমনই অভিযোগ ফিরহাদ হাকিমের।
