shono
Advertisement
West Bengal Police

ভুয়ো পরিচয়ে একাধিক রাজ্যে ডেরা! কীভাবে বাংলায় এল বাংলাদেশের হাদি খুনে দুই অভিযুক্ত?

ঘটনার তিনমাস পর বাংলার সীমান্ত জেলা বনগাঁ থেকে দুই খুনিকে গ্রেপ্তার করেছে এসটিএফ। নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার গভীর রাতে সেখানে হানা দিয়ে রাহুল ওরফে ফয়সাল করিম মাসুদ এবং আলমগির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
Published By: Kousik SinhaPosted: 09:14 PM Mar 08, 2026Updated: 09:31 PM Mar 08, 2026

প্রতিবেশী বাংলাদেশের তরুণ রাজনৈতিক নেতা ওসমান হাদি খুনের কিনারায় বড়সড় সাফল্য পেয়েছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের। ঘটনার তিনমাস পর বাংলার সীমান্ত জেলা বনগাঁ থেকে দুই খুনিকে গ্রেপ্তার করেছে এসটিএফ। নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার গভীর রাতে সেখানে হানা দিয়ে রাহুল ওরফে ফয়সাল করিম মাসুদ এবং আলমগির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ইতিমধ্যে ধৃত দুজনকে শনাক্ত করেছেন বাংলাদেশের গোয়েন্দারাও। কিন্তু কীভাবে সীমান্তের নজরদারি এড়িয়ে বনগাঁয় পৌঁছলেন দুজন?

Advertisement

গোয়েন্দা সূত্রের খবর, হাদিকে গুলির পরেই বাইকে করে ফয়সাল করিম মাসুদ এবং আলমগির হোসেন ঢাকার বাইরে পালিয়ে যায়। এরপর পাঁচবার গাড়ি পালটে ‘কাটা রুটে’ তাঁরা পৌঁছয় ময়মনসিংয়ের হালুয়াঘাট সীমান্তে। রাতের অন্ধকারে বিএসএফের চোখ এড়িয়ে ধৃত দুজন পৌঁছে যায় মেঘালয়ে। রাজ্যের গোয়েন্দাদের কাছে খবর, সেখান থেকে উত্তর পূর্ব ভারতের একাধিক রাজ্যে তাঁরা ভুয়ো পরিচয়ে ডেরা বাঁধে। এরপর উত্তরবঙ্গ থেকে ট্রেন এবং বাস পাল্টে পৌঁছয় বনগাঁয়। কিন্তু সেখানেই যে ধৃত দুজনের সমস্ত কীর্তি ফাঁস হয়ে যাবে তা ঘুণাক্ষরেও টের পাননি। শনিবার রাতে গ্রেপ্তারির পর আজ রবিবার বনগাঁ আদালতে তোলা হলে তাদের পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেয় আদালত। 

গোয়েন্দা সূত্রের খবর, হাদিকে গুলির পরেই বাইকে করে ফয়সাল করিম মাসুদ এবং আলমগির হোসেন ঢাকার বাইরে পালিয়ে যায়। এরপর পাঁচবার গাড়ি পালটে ‘কাটা রুটে’ তারা পৌঁছয় ময়মনসিংয়ের হালুয়াঘাট সীমান্তে। রাতের অন্ধকারে বিএসএফের চোখ এড়িয়ে ধৃত দুজন পৌঁছে যায় মেঘালয়ে। 

অন্যদিকে গোয়েন্দাদের ধারণা, দু’জনকে খুনের কাজে লাগানো হয়েছিল। কে বা কারা তাঁদের কাজে লাগিয়েছিল, তা গোয়েন্দারা জানার চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে বাংলায় ধৃতদের সঙ্গে যাদের যোগাযোগ ছিল, তাঁদের পরিচয় জানার চেষ্টা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বলে রাখা প্রয়োজন, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর দুপুর আড়াইটে নাগাদ নাগাদ নমাজ পড়ে ফেরার পথে ঢাকার অদূরে পুরাতন কালভার্ট রোডে প্রকাশ্য গুলিতে খুন হন বাংলাদেশের ইনকিলাব মঞ্চের প্রতিষ্ঠাতা তথা ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম মুখ ওসমান হাদি। তা নিয়ে উত্তাল হয়ে উঠেছিল বাংলাদেশ। হাদি হত্যাকাণ্ড ভোটমুখী বাংলাদেশের বেহাল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির নগ্ন ছবি তুলে ধরেছিল। এই ঘটনা আন্তর্জাতিক স্তরেও যথেষ্ট আলোড়ন ফেলে।

গোয়েন্দা সূত্রের খবর, ওসমান হাদি রিকশা করে ঢাকার সূর্যোদয় উদয়নের দিকে যাচ্ছিলেন। বিজয়নগর জলের ট‌্যাঙ্কের কাছে যানজটের কারণে রিকশার গতি ধীর হয়ে যায়। সেই সুযোগে বাইক চালক আলমগির রিকশার পাশে আসে। পিছনে বসেছিল ফয়সাল করিম। শার্প শুটার রাহুল ওরফে ফয়সাল করিম মাসুদ পকেট থেকে নাইন এমএম পিস্তল বের করে হাদির মাথা লক্ষ‌্য করে গুলি চালায়। আহত হাদিকে চিকিৎসার জন‌্য সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। কোমায় থাকাকালীন তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বাংলাদেশ।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement