হাওড়া শহরের বিভিন্ন হোটেল ব্যবসায়ী, বেসরকারি হাসপাতালের মালিক, প্রোমোটারদের থেকে হুমকি দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা তোলা আদায়! পুলিশের জালে হাওড়া পুরসভার ল অফিসার। ল অফিসারকে সাহায্যকারী একটি এনজিওর কর্তাকেও গ্রেপ্তার করেছে গোলাবাড়ি থানার পুলিশ। ধৃত দু'জনকেই দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। শুধু তাই নয়, এর পিছনে পুরসভার আর কেউ যুক্ত আছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, প্রায় ১০ বছর ধরে হাওড়া পুরসভার ল অফিসার সুদর্শন জয়সওয়াল তাঁর সঙ্গী রমেশ জয়সওয়ালকে কাজে লাগিয়ে হাওড়া শহরের বিভিন্ন হোটেল ব্যবসায়ী, বেসরকারি হাসপাতালের মালিক, প্রোমোটারদের থেকে একই কায়দায় হুমকি দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা তোলা আদায় করেছে।
হাওড়া স্টেশন চত্বরের দু’টি নামী হোটেলের মালিক আশিস কাপুর গত ২০ জুলাই গোলাবাড়ি থানায় হাওড়া পুরসভার ল অফিসার এবং তার সহযোগী ওই এনজিও কর্তার বিরুদ্ধে তোলাবাজির একটি অভিযোগ দায়ের করেন। আশিসবাবু অভিযোগ, রমেশ জয়সওয়াল নামে হাওড়ার রাউন্ড ট্যাঙ্ক লেনের একটি এনজিও-র মালিক গত ১৮ জুলাই তাঁর হোটেলে গিয়ে জানান, হাওড়া স্টেশন চত্বরে তাঁর দু’টি হোটেল বিল্ডিং বেআইনি। পুরসভা ওই হোটেল দু’টি ভেঙে দেবে। কিন্তু রমেশের বন্ধু পুরসভার ল অফিসার সুদর্শন জয়সওয়ালকে ৫০ লক্ষ টাকা দিলে বিষয়টিতে পুরসভা নজর দেবে না। আশিস আরও জানান, তিনি ৫০ লক্ষ টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় গত ১৯ জুলাই তাঁর হোটেলে গিয়ে রমেশ তাঁকে প্রাণে মেরে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এর পর গত ২০ জুলাই আশিসবাবু গোলাবাড়ি থানায় গিয়ে সুদর্শন জয়সওয়াল ও রমেশ জয়সওয়ালের বিরুদ্ধে এফআইআর করেন। তদন্তে নেমে সুদর্শন ও রমেশকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, প্রায় ১০ বছর ধরে হাওড়া পুরসভার ল অফিসার সুদর্শন জয়সওয়াল তাঁর সঙ্গী রমেশ জয়সওয়ালকে কাজে লাগিয়ে হাওড়া শহরের বিভিন্ন হোটেল ব্যবসায়ী, বেসরকারি হাসপাতালের মালিক, প্রোমোটারদের থেকে একই কায়দায় হুমকি দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা তোলা আদায় করেছে। ব্যবসায়ীদের বেআইনি ব্যবসা হচ্ছে সেখানে পুরসভা হানা দিতে পারে। কিন্তু পুরসভার ল অফিসারের সঙ্গে টাকাপয়সার লেনদেন করলে আর পুরসভা ছোঁবে না। এই বলে ব্যবসায়ীদের থেকে দিনের পর দিন লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে সুদর্শন ও রমেশ। অবশেষে তারা পুলিশের জালে পড়লো।
