গত শুক্রবার আইপ্যাক মামলার শুনানিতে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা গিয়েছিল। শুনানির মাঝপথেই চেয়ার ছেড়ে উঠে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন বিচারপতি। এই অবস্থায় আজ বুধবার ফের এই মামলার শুনানি শুরু হয়েছে। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে ইডি এবং তৃণমূলের দায়ের করা মামলার শুনানি শুরু হয় একসঙ্গে। আইপ্যাক কাণ্ডে মামলার শুনানিতে বাইরের কেউ, অবাঞ্ছিতরা এজলাসে উপস্থিত থাকতে পারবেন না। মঙ্গলবারই এই নির্দেশ জানানো হয়। শুধু তাই নয়, ওই মামলার লাইভ স্ট্রিমিংও হবে বলেও নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই নির্দেশ মেনেই চলে শুনানি।
দুপুর ৩: ৪৮: আইপ্যাক নিয়ে তৃণমূলের করা মামলার নিষ্পত্তি করে দিল হাই কোর্ট। তবে মুলতুবি রইল ইডির মামলা। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ পর্যবেক্ষণে জানিয়েছেন, যেহেতু সুপ্রিম কোর্টে স্পেশাল লিভ পিটিশন দায়ের করেছে ইডি। এবং বিষয়বস্তু একই তাই সেখানে এই মামলার বিচারপ্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরেই হাই কোর্টে আবেদন করা যেতে পারে।
দুপুর ৩: ৩৬: লাউডন স্ট্রিটের প্রতীকের জৈনের বাড়ি বা সল্টলেকে আইপ্যাকের দপ্তর থেকে কিছুই বাজেয়াপ্ত করা হয়নি। যা ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছিনিয়ে নিয়ে গিয়েছেন। আদালতে জানাল ইডি। পালটা তৃণমূলের বক্তব্য, এই দাবি সত্য হলে তারা মামলা প্রত্যাহারে রাজি। তবে ইডির বক্তব্য রেকর্ড করার দাবি তৃণমূলের আইনজীবীর। জানা যায়, এরপরেই দু'পক্ষের বয়ান রেকর্ড করা হয়।
দুপুর ৩: ১৯: পিএমএল'র ১৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী ইডি এই তল্লাশি এই অভিযান চালিয়েছে। ইডি কিছুই বাজেয়াপ্ত করেনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সব নথি ছিনিয়ে নিয়ে গিয়েছেন। ফলে তৃণমূল যে নথি চুরির অভিযোগ করছে, তার গ্রহণযোগ্যতা নেই। একই সঙ্গে মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ইডির পক্ষের আইনজীবী অ্যাডিশনাল সলিশিটর জেনারেল এস ভি রাজুর।
দুপুর ৩:১৫: ইডি এবং তৃণমূলের মামলায় আইপ্যাক কর্তা প্রতীক জৈনকেও পার্টি করার আবেদন এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের।
দুপুর ৩: ১১: ভোটের সঙ্গে ইডির তল্লাশির কোনও সম্পর্ক নেই, হাই কোর্টে সওয়াল কেন্দ্রের অ্যাডিশনাল সলিশিটর জেনারেলের। সওয়ালে তিনি বলেন, ২০২৬ সালের ভোটের কথা তৃণমূলের মামলায় মামলায় বলা হয়েছে। নির্বাচনের আগে তথ্য নেওয়া হচ্ছে বলে বলা হচ্ছে। কিন্তু ভোটের দিনক্ষণ তো এখনও ঘোষণাই হয়নি। এক্ষেত্রে তাহলে নির্বাচন কমিশনকেও মামলায় যুক্ত করার কথা বলেন ইডির আইনজীবী। শুধু তাই নয়, এসআইআরের কথা বলা হচ্ছে। আইপ্যাক এসআইআর নিয়ে কাজ করছে। কোনও রাজনৈতিক দলের অফিসে তো যাওয়া হয়নি।
দুপুর ৩:০০: শুনানিতে বক্তব্য রাখছেন তৃণমূলের আইনজীবীরা। আইনজীবীদের যুক্তি, সুপ্রিম কোর্টে তৃণমূলের তরফে কোনও ক্যাভিয়েট দাখিল করা হয়নি। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি ভুল। ইডি নিজেদের মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বলে যুক্তি তৃণমূলের আইনজীবীদের।
দুপুর ২: ৪৫: এই সংক্রান্ত মামলায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পার্টি করা হোক। মামলার শুনানিতে আবেদন এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের। আবেদন জানান, নথি বাজেয়াপ্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে এই মামলায় তাঁকে যুক্ত করা না-হলে তৃণমূলের মামলা গ্রহণযোগ্যই হতে পারে না। শুভাশিস চক্রবর্তী এই সংক্রান্ত মামলা দায়ের করেছেন। কীভাবে তিনি মামলা করলেন তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কেন্দ্রের আইনজীবী। এক্ষেত্রে আইনজীবীদের যুক্তি, ঘটনাস্থলে আদৌও মামলাকারী আইনজীবী ছিলেন।
দুপুর ২: ৩০: ভারচুয়াল মাধ্যমে হাই কোর্টের শুনানিতে দিল্লি থেকে ইডির পক্ষে সওয়াল অ্যাডিশনাল সলিশিটর জেনারেল এসভি রাজুর। কিন্তু কথা বলার সময় তাঁর মাইক বারবার বন্ধ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। যা নিয়ে শুনানিতে তুমুল হইহট্টগোল শুরু হয়ে যায়।
দুপুর ২: ২০: কলকাতা হাই কোর্টে আইপ্যাক মামলা আপাতত মুলতুবি রাখা হোক, মামলার শুনানিতেই আদালতে আবেদন এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের। সুপ্রিম কোর্টে এই সংক্রান্ত মামলা দায়ের হয়েছে। রাজ্যের তরফে ইতিমধ্যে ক্যাভিয়েট দাখিল করা হয়েছে। শুনানিতে এই যুক্তি দেখিয়ে হাই কোর্টে মামলা খারিজ করার আবেদন ইডির। পালটা হাই কোর্টেই শুনানির পক্ষে সওয়াল তৃণমূলের।
দুপুর ২: ১৫: আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং অফিসে ইডির তল্লাশি অভিযানের ঘটনায় কলকাতা হাই কোর্টে জোড়া জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়। প্রথম মামলাটি দায়ের করেছে তৃণমূল। তাদের বক্তব্য, ইডি বেআইনি ভাবে ওই তল্লাশি চালিয়েছে। ভোট সংক্রান্ত নথি এবং কৌশল চুরি করতেই ইডির ওই তল্লাশি। উল্টো দিকে, সরকারি কাজে বাধার অভিযোগ তুলে মামলা করে ইডি। ওই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার বক্তব্য, কয়লা পাচার মামলার তথ্য ও নথি ‘চুরি’ করা হয়েছে। ইডি অফিসারদের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছে।
