shono
Advertisement
LPG Crisis

যুদ্ধের আঁচে অমিল গ্যাস, রেস্তরাঁ থেকে পাইস হোটেলে বাড়ছে দাম! বন্ধের আশঙ্কা

৩৫-এর সবজি ভাত ৪০। ৪০-এর ডিম ভাত ৪৫। বাণিজ্যিক গ‌্যাসের মূল‌্যবৃদ্ধিতে দাম বাড়িয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছিল রাস্তার ধারের একাধিক পাইস হোটেল। এবার পরিস্থিতি আরও খারাপ হল। জ্বালানি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্র এসমা জারি করায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হল।
Published By: Suhrid DasPosted: 09:22 AM Mar 11, 2026Updated: 02:44 PM Mar 11, 2026

৩৫-এর সবজি ভাত ৪০। ৪০-এর ডিম ভাত ৪৫। বাণিজ্যিক গ‌্যাসের মূল‌্যবৃদ্ধিতে দাম বাড়িয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছিল রাস্তার ধারের একাধিক পাইস হোটেল। এবার পরিস্থিতি আরও খারাপ হল। জ্বালানি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্র এসমা জারি করায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হল। বাণিজ্যিক গ‌্যাসের উৎপাদন কাটছাট হওয়ায় (LPG Crisis) জোগানে টান পড়েছে। সোমবার থেকে নতুন করে গ‌্যাস গোডাউনে বাণিজ্যিক গ‌্যাস ঢুকছে না। স্টকে থাকা সিলিন্ডার দিয়েই কাজ চলছে। মুম্বইয়ে ইতিমধ্যেই ২০ শতাংশ রেস্তরাঁ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। 

Advertisement

কলকাতার হোটেল-রেস্তরাঁতেও দুশ্চিন্তার কালো মেঘ। কলকাতার খাদ্য গলি ডেকার্স লেন থেকে পার্ক সার্কাসের বিখ‌্যাত বিরিয়ানির দোকান, শিয়ালদহ থেকে যাদবপুর, সর্বত্র উঠেছে ‘গ‌্যাসের ব্যথা’। গ‌্যাসের অভাবে দোকান বন্ধ হওয়ার উপক্রম। বিষয়টি নিয়ে দুশ্চিন্তার ঢেউ খেলছে পার্ক স্ট্রিট, গোল পার্ক, চাঁদনি, এসপ্ল‌্যানেড-সহ একাধিক রেস্তরাঁ ও হোটেল পাড়ায়। একটি প্রসিদ্ধা খাবার চেনের অন্যতম কর্ণধার দেবাদিত্য চৌধুরী  জানিয়েছেন, ‘‘কোভিডের সময়ও আমরা ব্যবসা চালু রেখেছি। কর্মচারীদের বেতন, বোনাস দিয়েছি। কিন্তু জ্বালানিতে টান পড়ায় এবার পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপের দিকে এগোচ্ছে। মেনুতে কাটছাঁট করতে হচ্ছে।’’ একই পথে হঁাটছে পার্ক স্ট্রিটের একাধিক রেস্তরাঁ। 

কলকাতার হোটেল-রেস্তরাঁতেও দুশ্চিন্তার কালো মেঘ। কলকাতার খাদ্য গলি ডেকার্স লেন থেকে পার্ক সার্কাসের বিখ‌্যাত বিরিয়ানির দোকান, শিয়ালদহ থেকে যাদবপুর, সর্বত্র উঠেছে ‘গ‌্যাসের ব্যথা’।

এখন ১৯ কেজির বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম হয়েছে প্রায় ২০০০ টাকা। বাণিজ্যিক গ্যাসের সিলিন্ডারের অনেকটাই হোটেল-রেস্তরাঁগুলিতে ব্যবহৃত হয়। ফলে সিলিন্ডারের দাম বৃদ্ধি হলে হোটেল রেস্তরাঁয় খাবার খরচ বাড়বে, যা আখেরে গুনতে হবে ক্রেতাকেই। কিন্তু মঙ্গলবারের পর থেকে দুশ্চিন্তা অন্যদিকে বঁাক নিয়েছে। সিলিন্ডার পাওয়া যাবে তো? ডিস্ট্রিবিউটররা চাহিদার অর্ধেক সিলিন্ডারও দিতে পারছেনা। ফলে দু’তিনদিন পরে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে বলে প্রমাদ গুনছে বহু ছোট-মাঝারি রেস্তরাঁ। ডেকার্স লেনের দুই ব্যবসায়ী চিত্তদার দোকানের ম্যানেজার বুবাই পণ্ডিত বলেন, “এরকম চলতে থাকলে ব্যবসা বন্ধ করে দিতে হবে। গ্যাসের দাম প্রতিদিন বাড়ছে, আর যোগান কমছে। গোলাগুলি যত বাড়ছে ততই দাম বাড়ছে। ভবিষ্যতে কী করব বুঝতে পারছি না।”

একই আশঙ্কার কথা শোনালেন ডেকার্স লেনেরই এক ফাস্টফুড দোকানের মালিক সুশান্ত হালদার। তিনি বলেন, “ইতিমধ্যেই বাণিজ্যিক গ্যাস ব্ল্যাক হতে শুরু করেছে। এরপর ব্ল্যাকেও পাওয়া যাবে না, সেই পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। কী করব বুঝতে পারছি না। পুরনো কাঠকয়লায় তো আর ফিরে যাওয়া যাবে।” ব্যস্ততম স্টেশন শিয়ালদহে ছোট-বড় বিভিন্ন হোটেল রয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে বহু ভাতের হোটেল। হাজার হাজার মানুষ শহরে কাজে এসে দুপুর ও রাতের খাবার খান ওই হোটেলগুলিতে। তারই এক মালিক চঞ্চল ঘোষ জানান, এমনিতেই জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। এখন তো গ‌্যাসের সিলিন্ডারই অমিল। কী করব বুঝতে পারছি না। ’’

এখন ১৯ কেজির বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম হয়েছে প্রায় ২০০০ টাকা। বাণিজ্যিক গ্যাসের সিলিন্ডারের অনেকটাই হোটেল-রেস্তরাঁগুলিতে ব্যবহৃত হয়। ফলে সিলিন্ডারের দাম বৃদ্ধি হলে হোটেল রেস্তরাঁয় খাবার খরচ বাড়বে, যা আখেরে গুনতে হবে ক্রেতাকেই।

ডালহৌসিতে চাউমিন, চিলি চিকেনের দোকান সঞ্জু ঘোষের। বলেন, ‘‘এবার গ‌্যাসের দাম বেড়েছে। তার উপর ব্ল‌্যাকে কিনতে হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে খাবারের দাম বাড়াতে হবে, না হলে পরিমাণ কমাতে হবে।’’ বালিগঞ্জের এক হোটেলের মালিক দুলাল চন্দ্র বলেন, ‘খাবারের দাম বাড়ালে খদ্দের হবে না। আবার মানও রাখতে হবে। ব্যবসা চালাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। আমাদের হোটেলে খেতে আসেন, তাঁরা খুবই সাধারণ মানুষ। প্রত্যেকেরই একটা সীমিত বাজেট থাকে।’’

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement