shono
Advertisement
RG Kar

'থ্রেট কালচার' চালিয়ে চাকরি খোয়ালেন বিরূপাক্ষ বিশ্বাস, বাতিল সিনিয়র রেসিডেন্টশিপ

বিরূপাক্ষকে ফেরাতে হবে ২০ লক্ষ টাকা। এনিয়ে কী প্রতিক্রিয়া দিলেন বর্ধমান 'লবি'র চিকিৎসক?
Published By: Sucheta SenguptaPosted: 10:34 PM May 29, 2026Updated: 11:29 PM May 29, 2026

বদলের বাংলায় স্বাস্থ্যদপ্তরের কড়া পদক্ষেপ। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের প্যাথোলজি বিভাগের প্রাক্তন সিনিয়র রেসিডেন্ট ডা. বিরূপাক্ষ বিশ্বাসের চাকরি বাতিল করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। শুক্রবার স্বাস্থ্যভবনের তরফে জারি হওয়া বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অসৎ আচরণ, ফৌজদারি মামলা, একাধিক এফআইআর এবং এসিবি তদন্তের রিপোর্ট খতিয়ে দেখে স্বাস্থ্যভবন প্রমাণ পেয়েছে, সবকটি অভিযোগই সত্যি। তাই কড়া সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। এনিয়ে বিরূপাক্ষর সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া, ''সরকারি নির্দেশ মেনে চলা নাগরিক হিসেবে কর্তব্য। আমি ১ বছর ৯ মাস সিনিয়র রেসিডেন্ট ডক্টর হিসেবে কাজ করেছি। বেশি কিছু বলার নেই।''

Advertisement

স্বাস্থ্যভবন থেকে জারি হওয়া বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর থেকে তিনি সাসপেন্ড ছিলেন বিরূপাক্ষ বিশ্বাস। এবার তাঁর সিনিয়র রেসিডেন্সির মেয়াদ স্থায়ীভাবে বাতিল করা হল। পাশাপাশি ইনডেমনিটি বন্ডের শর্ত অনুযায়ী তাঁকে ২ বছরের জন্য মোট ২০ লক্ষ টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে সরকারি চাকরিতে বিরূপাক্ষর জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে। এর জন্য পদক্ষেপ করতে ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিক্যাল কাউন্সিলকেও জানিয়েছে স্বাস্থ্যদপ্তর।

এই মর্মে বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে স্বাস্থ্যভবন থেকে। তাতে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর থেকে তিনি সাসপেন্ড ছিলেন। এবার তাঁর সিনিয়র রেসিডেন্সির মেয়াদ স্থায়ীভাবে বাতিল করা হল। পাশাপাশি ইনডেমনিটি বন্ডের শর্ত অনুযায়ী তাঁকে ২ বছরের জন্য মোট ২০ লক্ষ টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে সরকারি চাকরিতে বিরূপাক্ষর জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে। এর জন্য পদক্ষেপ করতে ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিক্যাল কাউন্সিলকেও জানিয়েছে স্বাস্থ্যদপ্তর। বিধায়ক ইন্দ্রনীল খাঁ স্বাস্থ্যদপ্তরের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, ‘‘নতুন পশ্চিমবঙ্গে থ্রেট কালচারের কোনও জায়গা নেই। স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় সিন্ডিকেটরাজ দালালরাজের ক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী 'নো টলারেন্স' নীতি নিয়েছেন। এটাই তার প্রমাণ।''

একটা নয়, বিরূপাক্ষর বিরুদ্ধে অভিযোগ অগুনতি। ২০২৪ সালে আর জি কর মেডিক্যাল কলেজে তরুণী চিকিৎসক ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় নাম জড়িয়েছিল বিরূপাক্ষ বিশ্বাসের। তিনি আর জি করের তৎকালীন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তাই ওই ঘটনার তদন্তে বিরূপাক্ষ বিশ্বাসকে তলবও করেছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ডেকে পাঠানো হয় সন্দীপ ঘনিষ্ঠ আর এক চিকিৎসক-নেতা অভীক দে'কেও। উল্লেখ্য, আর জি করে ডাক্তারি ছাত্রী খুনের ঘটনার পর সেমিনার হলের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল। সেখানে বিরূপাক্ষ ও অভীককে দেখা গিয়েছিল বলে অভিযোগ। এ ব্যাপারেই তদন্তকারীরা সন্দীপ ঘনিষ্ঠ দুই চিকিৎসককে তলব করেছিলেন। সেসময় দু'জনকে মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্তকারীরা। বর্ধমান মেডিক্যালের প্যাথোলজি বিভাগের সিনিয়র রেসিডেন্ট ডাঃ বিরূপাক্ষ চিকিৎসক মহলে যথেষ্ট প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত।

আর জি কর কাণ্ডে ‘সাসপেন্ড’ হওয়া চিকিৎসক বিরূপাক্ষ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে আরও ভয়ংকর অভিযোগ উঠেছিল। অভিযোগ, মুর্শিদাবাদের জলঙ্গির এক ছাত্রকে ডাক্তারিতে ভর্তি করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তিনি দু’দফায় মোট আট লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত ওই ছাত্রকে তিনি ডাক্তারিতে তো সুযোগ করে দিতে পারেনইনি, টাকাও ফেরত দিচ্ছিলেন না। এই নিয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। এবার সেই বিরূপাক্ষরই চাকরি বাতিল করল রাজ্যের স্বাস্থ্যদপ্তর। তাঁর ঘুরে দাঁড়ানোর আর প্রায় কোনও সুযোগ নেই, তা বলা যায়।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement