মেরিকার নিউ ইয়র্কে আরএসএসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের নামে দেশের জাতীয় পতাকার অপমান। ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে সংঘ প্রধান মোহন ভাগবতের অনুষ্ঠানের আগে দেশের জাতীয় পতাকা পায়ে মাড়ানোর পাশাপাশি খলিস্তানপন্থী স্লোগান দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। রবিবার রাতে এই ঘটনার ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। জানিয়েছেন, "দেশের জাতীয় পতাকার অপমানের চরম মূল্য দিতে হবে।"
স্থানীয় সময় শনিবার দুপুর ২টো নাগাদ নিউ ইয়র্কের ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে সভা করেন সংঘপ্রধান মোহন ভাগবত। ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রায় ৬ হাজার মানুষ। তবে সেই অনুষ্ঠানের আগে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখায় একদল মানুষ। ভারতের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি জাতীয় পতাকার চরম অবমাননা করা হয়। রবিবার রাতে সেই ঘটনার ভিডিও শেয়ার করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রিজিজু। যেখানে দেখা যায়, সভাস্থলের বাইরে একদল বিক্ষোভকারী জাতীয় পতাকা পায়ে বেঁধে তেরঙ্গার অপমান করছে। পতাকা ছিঁড়ে টুকরো করার পাশাপাশি খলিস্তানপন্থী স্লোগান দেওয়া হয়। এই ঘটনার পালটা কড়া সুরে বার্তা দেন রিজিজু। তিনি লেখেন, 'আমি বারবার বলে এসেছি, আপনারা আরএসএস, বিজেপি বা সরকারের সমালোচনা করুন। কিন্তু কোনওভাবেই আমাদের দেশের পতাকা বা দেশকে অপমান করবেন না। অন্যথায়, এর চড়া মূল্য দিতে হবে আপনাদের।'
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু জানিয়েছেন, "দেশের জাতীয় পতাকার অপমানের চরম মূল্য দিতে হবে।"
জানা যাচ্ছে, নিউ ইয়র্কের এই বিক্ষোভে যারা যোগ দিয়েছিলেন তাঁদের সঙ্গে যোগ রয়েছে খলিস্তানপন্থী ‘শিখস ফর জাস্টিস’ সংগঠনের। সন্ত্রাসী এই সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে ভারতে। শনিবার মোহন ভাগবতের অনুষ্ঠান বানচাল করতেই জড়ো হয়েছিল খলিস্তানপন্থীরা। ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনের বাইরে জড়ো হয়ে ভারতের পতাকার অপমানের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেও গালিগালাজ করে এই উগ্রপন্থীরা।
উল্লেখ্য, শনিবার নিউ ইয়র্কের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে 'বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য'-কে ভারতের ডিএনএ-র অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন ভাগবত। তিনি বললেন, "চিন্তা করার ক্ষমতা মানবজাতির জন্য এক আশীর্বাদ। সঠিক চিন্তা মানুষকে ঈশ্বরের নিকটবর্তী করে। ভুল চিন্তা তাদেরকে পশুর নিকটবর্তী করে।" ভাগবতের ভাষণের আগে বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় নেতারাও ঐক্য, বৈচিত্র্য, সহানুভূতি এবং পারস্পরিক সমর্থনের বার্তা দিয়েছেন। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাব্বি জ্যাকব ব্লুমেনথাল, রিভারসাইড চার্চের সিনিয়র মিনিস্টার রেভারেন্ড অ্যাড্রিয়েন থর্ন এবং ওয়াশিংটন ডিসির মসজিদ মুহাম্মদের সভাপতি ও ইমাম তালিব এম. শরীফ।
