ক্যামাক স্ট্রিট কাণ্ডে শেক্সপিয়র সরণি থানায় তলবে হাজিরা এড়ালেন সাংসদ ডেরেক ও'ব্রায়েন। বেলা বারোটা নাগাদ থানায় ডেকে পাঠানো হয়েছিল তাঁকে। তবে তার আগেই আইনজীবী মারফত সময় চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন সাংসদ। সূত্রের খবর, পুলিশ তাঁকে দ্বিতীয় নোটিস দিতে পারে। তার তোড়জোড় নাকি ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।
গত ২৭ আগস্ট বিকেলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে পৌঁছন পুরসভার আধিকারিকরা। দপ্তরে থাকা 'বেআইনি' বিলবোর্ড খুলতে গেলে ওই অফিসে থাকা নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তিও হয় একপ্রস্থ। অভিযোগ, অভিষেকের অফিসে ঢুকতে গেলে কলার ধরে পুলিশকে মারধর করা হয়। এমনকী মহিলা পুলিশ কর্মীদের শ্লীলতাহানি চেষ্টার মামলাও রুজু হয়েছে। অশান্তির ঘটনায় শুরু হয় ধরপাকড়। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন ডেরেক। তিনিও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন বলেই অভিযোগ। সেই অভিযোগে রবিবার সকাল ৯টার পরই ডেরেকের প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোডের বাড়িতে পৌঁছন শেক্সপিয়র সরণি থানার আধিকারিকরা। কয়েকবার ডাকাডাকির পর ডেরেকের এক প্রতিনিধি বেরিয়ে আসেন। তাঁর হাতেই ডেরেককে সমনের নোটিস দেন আধিকারিকরা। সোমবার বেলা ১২টা নাগাদ শেক্সপিয়ার থানায় হাজিরা দেওয়ার কথা বলা হয়। তবে তার আগেই আইনজীবী মারফত পুলিশে চিঠি পাঠান তৃণমূল সাংসদ। আগামী সাতদিন সময়ও চেয়ে নেন তিনি। এদিকে, মঙ্গলবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বুধবার অভিষেকের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়কে থানায় তলব করেছে পুলিশ।
ইতিমধ্যে অভিষেকের আইনজীবী অর্ক নাগ জানান, ‘‘ক্যামাক স্ট্রিটের পার্টি অফিসে বিলবোর্ড খোলা মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে পুলিশ নোটিস দিলেও কলকাতা পুলিশের ওয়েবসাইটে সেই নোটিস বা এফআইআরের কপি নেই। বারবার এমন হচ্ছে। তাই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফে একটা ইমেল পাঠানো হয়েছে পুলিশকে। প্রশ্ন করা হয়েছে, কেন ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়নি। সেটা একটা ত্রুটি বলে পুলিশকে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে।'' তবে তাঁরা হাজিরা দেবেন কিনা, তা নিয়ে এখনও সংশয় রয়েছে।
