shono
Advertisement

আজও চারদিন নহবতের মূর্ছনায় মেতে ওঠে শহরের প্রথম বারোয়ারি পুজো

ভবানীপুরেই শুরু হয়েছিল প্রথম বারোয়ারি পুজো। The post আজও চারদিন নহবতের মূর্ছনায় মেতে ওঠে শহরের প্রথম বারোয়ারি পুজো appeared first on Sangbad Pratidin.
Posted: 05:22 PM Aug 30, 2017Updated: 07:21 PM Oct 01, 2019

কলহার মুখোপাধ্যায়: রাজারাজড়া-জমিদার বাড়ির চৌকাঠ পেরিয়ে দুর্গা যখন আম আদমির আঙিনায় পা রাখছে, পরিবর্তনের ওই সূচনাপর্বের প্রথম অংশীদারিত্ব কার তা নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। হুগলি বা বাংলার অন্যান্য অংশ ছেড়ে যদি শুধু কলকাতায় মনোনিবেশ করা যায়, তাহলে আমজনতার পুজো হিসাবে সর্বাগ্রে আসবে ভবানীপুরের জোড়মন্দির ঘাট সংলগ্ন দুর্গা পুজোর নাম (১৩১৬ বঙ্গাব্দ)। একবছর বাদে পাড়ার সকলে মিলে মিলিতভাবে একটি কর্ম পরিষদ গঠন করেন, নাম দেন সনাতন ধর্মোৎসাহিনী সভা। কিছু মতান্তর থাকলেও কলকাতার প্রথম বারোয়ারি দুর্গাপুজো বলতে এই পুজোকেই জানেন মানুষ।

Advertisement

[মাছ ধরার জালের সুতো দিয়েই দুর্গা প্রতিমা তৈরি পুলিশকর্মীর]

ভবানীপুরে হরিশ মুখার্জি স্ট্রিটে মিত্র ইনস্টিটিউশন স্কুলের উলটোদিকের গলিটি বলরাম বসু ঘাট রোড। তার শেষ প্রান্ত গিয়ে মিশেছে আদি গঙ্গায়। ঘাটের নাম বলরাম বসু ঘাট রোড। সেখানেই নিরবিচ্ছিন্নভাবে গত একশো দশ বছর ধরে চলে আসছে দুর্গাপুজো। পুজোর অন্যতম মূল উদ্যোক্তা ছিলেন কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান অনিল মুখোপাধ্যায়। পুজোর সু্ভেনিরে তিনি লিখেছিলেন, রাজা মান সিংহ গঙ্গা দিয়ে ডিঙি নিয়ে যেতে যেতে গভীর জঙ্গল থেকে কাঁসর-ঘণ্টার আওয়াজ শুনলেন। কৌতূহলবশত দেখতে গেলেন। দেখলেন জঙ্গলে কাঁচা ঘরের মধ্যে দক্ষিণাকালী। সেই মূর্তির পুজো করছেন এক ব্রাহ্মণ। তাঁকে মন্দির নির্মাণের টাকা ও পাঁচশো বিঘার কিছু বেশি জমি দান করলেন রাজা। এই হল কালীঘাট পত্তনের ইতিহাস। আর আশপাশের অঞ্চল হয়ে উঠল কালীক্ষেত্র।

[আমার দুগ্গাপুজো: সিটি সেন্টারের ওখানেই প্রথম কাশফুল দেখা যেত]

পটভূমির বদল ঘটল ১৯১০ সালে। তার বহু আগে হুগলিতে বারোয়ারি পুজো শুরু হয়ে গিয়েছে। বলরাম বসু ঘাট রোডের বাসিন্দারা বারোয়ারি পুজোর তোড়জোড় শুরু করলেন। বিভিন্ন লেখা থেকে জানা গিয়েছে, ওই ঘাটে তখন গোপনে সশস্ত্র বিপ্লবের কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন স্বদেশিরা। ১৯১০ সালে কলকাতায় ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের অনুষ্ঠান। গোটা দেশে জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের ঢেউ। তাতে সওয়ার হয়ে বিপ্লবীরা জড়ো হচ্ছেন বিভিন্ন এলাকায়। সম্ভবত তখনই বিপ্লবীদের পরিচয় আড়াল করতে সহমর্মী বাসিন্দাদের মনে আসে বারোয়ারি পুজো আয়োজনের ভাবনা। পুজোকে উপলক্ষ করে বহু মানুষকে একজোট করা সম্ভব হয়েছিল বিপ্লবীদের পক্ষে। সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, বঙ্কুবিহারী মুখোপাধ্যায়, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, উল্লাসচন্দ্র ঘোষ, গণেশচন্দ্র ঘোষ, নরেন্দ্রনাথ বন্দে্যাপাধ্যায়, বিনোদবিহারী চট্টোপাধ্যায়, খগেন্দ্রনাথ শাস্ত্রী এই পুজো শুরু করেন।

[শহরের সেরা পুজোর জবর খবর, চোখ থাকুক শুধুই sangbadpratidin.in-এ]

বর্তমান পুজো উদ্যোক্তা অমিত চট্টোপাধ্যায় ও বাপ্পা জানালেন, এখন অনেক কিছুই নতুন হয়েছে বটে তবে পুরনো সবকিছুকে বিদায় জানাননি তাঁরা। এখনও চারদিন ধরে নহবৎ বসে। এখনও বোঁদের ভিয়েন বসে। ঠাকুরকে পান্তা ভোগ দেওয়া হয়। সাদা অপরাজিতা ছাড়া পুজো সম্পন্ন হয় না।

The post আজও চারদিন নহবতের মূর্ছনায় মেতে ওঠে শহরের প্রথম বারোয়ারি পুজো appeared first on Sangbad Pratidin.

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

Advertisement
toolbarHome ই পেপার toolbarup মহানগর toolbarvideo শোনো toolbarshorts রোববার