আগামী ৫ বছর এসআইআরের নথি সংরক্ষণের নির্দেশ দিলেন জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। তালিকায় কোনও ভুল থাকলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের বিরুদ্ধে যাতে ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তাই এই নির্দেশ বলে খবর কমিশন সূত্রে। ইচ্ছাকৃত ভুল করলে কোনওভাবেই জেলাশাসক ও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের রেয়াত করা হবে না বলে আরও একবার 'ধমক' দিয়েছেন জাতীয় নির্বাচন কমিশনার। এই 'হুঁশিয়ারি'র পর তৃণমূলের তোপ, জমিদারি শাসন চালাচ্ছে কমিশন। যে আধিকারিকরা এত কম সময়ে এসআইআরের কাজে সাহায্য করছেন, তাঁদের হুমকি দিচ্ছেন জ্ঞানেশ কুমার।
কমিশন সূত্রের খবর, শুক্রবার জেলাশাসকদের বৈঠকে জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জেলাশাসক, ইআরও, এইআরওদের কার্যত হঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "আপনারা মনে রাখবেন এসআইআর প্রক্রিয়ায় যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে তা কমিশনের তথ্য ভাণ্ডারে সংরক্ষিত থাকবে। এক বছর, দু'বছর নয়, এগুলি কমিশনের তথ্য ভাণ্ডারে বহু বছর সংরক্ষিত থাকবে। আগামী দিনে যদি কোনও ভোটার তালিকায় বিদেশি ধরা পড়ে তাহলে সেই অফিসারের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করা হবে।
জানা গিয়েছে, নথি পাঁচ বছর সংরক্ষণের নির্দেশ এই প্রথম। অর্থাৎ অন্যান্য ১১টি রাজ্যে এসআইআর হলেও সেখানে এখনও পর্যন্ত এই রকম কোনও নির্দেশ দেয়নি জাতীয় নির্বাচন কমিশন।
বিভিন্ন জেলাশাসক তথা ডিস্ট্রিক্ট ইলেকশন অফিসারদের সতর্ক করে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের বার্তা, "ভাববেন না আপনারা পালিয়ে যেতে পারবেন। আজ না হোক আগামী দু'বছর বাদেও কমিশন পদক্ষেপ করতে পারবে।" আপাতত জানা গিয়েছে, নথি পাঁচ বছর সংরক্ষণের নির্দেশ এই প্রথম। অর্থাৎ অন্যান্য ১১টি রাজ্যে এসআইআর হলেও সেখানে এখনও পর্যন্ত এই রকম কোনও নির্দেশ দেয়নি জাতীয় নির্বাচন কমিশন।
আরও খবর, এই বৈঠকে সংবাদপত্র কাটিং, ফাঁকা পাতা, অস্পষ্ট ছবি ইত্যাদি নানা নথি আপলোড করা হয়েছে বলে অফিসারদের 'ধমক' দিয়েছেন কমিশনার। সেই নথিগুলি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে সমস্ত ডিএম ও কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের দেখানো হয়েছে। এগুলো কীভাবে আপলোড করা হল? কে এগুলো আপলোড করেছে? ডিএমরা কীভাবে এগুলো যাচাই করেছেন? সেই প্রশ্ন তুলেছে কমিশন।
ডিএমদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের ব্যক্তিগতভাবে নিশ্চিত করতে হবে ইসিআই ও সুপ্রিম কোর্টের অনুমোদিত নথিগুলিই যেন ইআরও, এইআরওরা বিবেচনা করেন। তালিকা অনুযায়ী সমস্ত নথি নেওয়া হয়েছে কিনা, ১৬ ফেব্রুয়ারি, সোমবার বিকেল ৫টার মধ্যে ডিইওদের ব্যক্তিগতভাবে যাচাই করতে হবে। পাশাপাশি আইটি টিমকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সময় সীমার পরে সিস্টেমে এই জাতীয় নথি অবশিষ্ট আছে কিনা, তা পরীক্ষা করার জন্য। সময়সীমার পরেও যদি একটি নথিও পাওয়া যায়, তার জন্য ডিএম ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকবেন বলেও সতর্ক করেছে কমিশন।
এছাড়াও সমস্ত পর্যবেক্ষকদের বলা হয়েছে, ইআরও ও এইআরও এবং ডিইও-দের বেনিয়ম যেন কমিশনের নজরে আনা হয়। যাতে তাঁদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া যায়। বৈঠকে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ কুমার আগরওয়ালকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, অগ্রহণযোগ্য ও অস্পষ্ট নথি যেগুলি ডিইওরা যাচাই করেছেন, এধরনের ঘটনা তাঁর নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে যেন জানানো হয়।
কমিশন সূত্রের খবর, এই বৈঠকে কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, মালদহ, দক্ষিণ ও উত্তর ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরের ডিএমদের গাফিলতির জন্য তিরস্কার করা হয়েছে। পূর্ব বর্ধমানের ডিএমকে 'রাজনৈতিক বক্তব্য' না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোচবিহারের ডিএম-কে 'নথি আপলোডে' বিলম্বের জন্য ধমক দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডিএমও কমিশনের রোষে পড়েছেন।
