প্রসঙ্গত, আসন ছাড়া নিয়ে বামফ্রন্টের তরফে সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হওয়ায় বামেদের জন্য আসন ছেড়ে নিজেদের পছন্দের আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন নওশাদ। চলতি সপ্তাহ পর্যন্ত অপেক্ষা করে কিছু আসনে নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা করার বার্তা দিয়েছিলেন তিনি। যা কার্যত সিপিএমকেই চাপে ফেলে দিয়েছিল। এর পরই তড়িঘড়ি বৃহস্পতিবার আসন সমঝোতা নিয়ে নওশাদ সিদ্দিকির সঙ্গে বৈঠক করেন বিমান-সেলিমরা। তবে এদিন রাতের বৈঠকের পর নওশাদ বলেন, নির্দিষ্ট কত আসন ছাড়বে তা এখনও ঠিক হয়নি।
নওশাদের দাবি ৪৩টি আসন। বিমান-সেলিমরা জানিয়েছেন, ৩০টির বেশি আসন ছাড়া যাবে না। সেক্ষেত্রে নওশাদ বোঝাপড়া না করে নিজের মতো আসন ঘোষণা করবেন বলে হুমকি দিয়েছেন।
সিপিএমের তরফে বলা হয়েছে, তাদের দলের জেলা কমিটি এবং বাম শরিকদলগুলির সঙ্গে আলোচনা করা হবে। আবার আইএসএফের দাবি মতো যে আসনগুলি সিপিএম ছাড়তে নারাজ ছিল সেগুলি যাতে ছাড়া হয় তার সপক্ষে যুক্তি দিয়ে এদিন বিমান-সেলিমদের বুঝিয়েছেন নওশাদ। তাঁর দাবি, বৃহত্তর জোট হবে। এদিকে, বামফ্রন্টের মধ্যে আসন ভাগাভাগি নিয়ে ক্ষুব্ধ ফরওয়ার্ড ব্লক ও আরএসপি। কংগ্রেস জোটে না আসায় একুশের নির্বাচনের থেকে এবার কিছু আসন বেশি দাবি করছে শরিকরা। তা অবশ্য দিতে নারাজ সিপিএম।
আসন সমঝোতা নিয়ে সেলিম (Md Salim) ইতিমধ্যে বৈঠক করেছেন হুমায়ুন কবীরের (Humayun Kabir) সঙ্গেও। মিম-এর তরফে দাবি করা হয়েছে, সিপিএমের পক্ষ থেকে তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে। অর্থাৎ সেলিম চাইছেন, নওশাদ-হুমায়ুন-মিম-কে নিয়ে একটা বৃহত্তর জোট বানাতে। যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সিপিএমের মধ্যেই। কেন মিম বা হুমায়ুনের মতো সাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে উস্কানি দেয় এমন দলের সঙ্গে সমঝোতা করা হবে, সেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন সিপিএমের অধিকাংশ নেতারা। তাঁদের বক্তব্য, এরপর সংঘ পরিবারের সঙ্গেও হয়ত জোট হবে। সিপিএমের অবস্থানে ক্ষুব্ধ ফ্রন্টের শরিক দলের নেতারা। তাঁরা আইএসএফ-মিম-হুমায়ুনের মতো শক্তির সঙ্গে জোট চায় না।
