সল্টলেক সেক্টর ফাইভের গ্লোবসিন ক্রিস্টাল বিল্ডিংয়ে অগ্নিকাণ্ড। শুক্রবার কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গোটা বহুতল। সেখানে রয়েছে নামী বহুজাতিক সংস্থার অফিস, রেস্তরাঁ। ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েন বহুজাতিক সংস্থার এক মহিলা কর্মী। তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। আপাতত আতঙ্কে ফাঁকা করে দেওয়া হয়েছে বহুতলটি। অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে দমকলের তিনটি ইঞ্জিন। চলছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ।
শুক্রবার দুপুর। ঘড়ির কাঁটায় তিনটে-সাড়ে তিনটে হবে। আচমকা ওই বহুতলের উপর তলা ফাঁকা করে দিতে বলেন নিরাপত্তা কর্মীরা। আতঙ্কে তড়িঘড়ি নিচে নেমে আসেন কর্মীরা। নিচতলায় এসে কর্মীরা দেখেন গোটা বহুতল ধোঁয়ায় ভর্তি। বাইরে বেরিয়ে যান তাঁরা। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ওই বহুতলে থাকা রেস্তরাঁ থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে বহুতলে। তবে কীভাবে ওই রেস্তরাঁয় আগুন লাগল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। খতিয়ে দেখছেন দমকল কর্মীরা। ওই বহুতলের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা যথাযথ ছিল কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান বিধাননগর কমিশনারেটের ইলেকট্রনিক্স কমপ্লেক্স থানার পুলিশকর্মীরা।
এর আগে গত ২৫ জানুয়ারি, আনন্দপুরের নাজিরাবাদে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ভোররাতের দিকে আচমকাই লেলিহান শিখা গ্রাস করে কারখানা এবং গুদাম। ভিতরে আটকে পড়েন কর্মীরা। সেই অবস্থায় প্রাণ হারান তাঁরা। একে একে মোট ২৭ জনের দেহ উদ্ধার হয়। দেহাংশের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ ম্যাপিংও হয়। ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে প্রশ্নের মুখে পড়ে বিখ্যাত মোমো প্রস্তুতকারক সংস্থা। ঘটনার প্রায় ৬০ ঘণ্টা পর এই বিষয়ে সংস্থার তরফে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়। সোশাল মিডিয়া পোস্টে সংস্থার তরফে দায় চাপানো হয় পাশের গুদামের উপর। নিহত ৩ কর্মীর পরিবারের পাশেও দাঁড়ায় মোমো প্রস্তুতকারক সংস্থা। সেদিনের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে ফের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
