shono
Advertisement
Lalbazar

১৭ বছরের আগেই 'মা'! স্বামীর বিরুদ্ধেই পকসো মামলা, বাল্যবিবাহ রুখতে আরও কড়া লালবাজার

সম্প্রতি বরানগরের দুই দম্পতি চিকিৎসকের কাছে যাওয়ায় বিষয়টি ধরা পড়ে। অন্তঃসত্ত্বাদের স্বামীদের বিরুদ্ধেই পকসো আইনে মামলা দায়ের হয়।
Published By: Sucheta SenguptaPosted: 09:01 AM Jul 22, 2026Updated: 01:46 PM Jul 22, 2026

বিয়ে ১৬ বছরে। ১৭ বছর পার হতে না হতেই মা! এই অভিযোগে স্বামীর বিরুদ্ধেই পকসো আইনে মামলা দায়ের। গত কয়েকদিনে একাধিক বাল্যবিবাহের অভিযোগ এসেছে শহর থেকে। আর পুলিশের অভিযোগের আঙুল নাবালিকা বউয়ের স্বামীর দিকেই। নাবালিকাকে বিয়ে ও নাবালিকা স্ত্রীর উপর 'যৌন নির্যাতনে'র মামলা দায়ের হচ্ছে। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই বাল্যবিবাহ নিয়ন্ত্রণে আনার ব্যাপারে প্রত্যেকটি থানার ওসি ও পুলিশকর্তাদের সতর্ক করেছিলেন পুলিশ কমিশনার। কলকাতা থেকে বাল্যবিবাহ সম্পূর্ণ বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তাই এই অভিযোগগুলি হাতে আসার পর এবার এই ব্যাপারে গুরুত্ব দিচ্ছে পুলিশ।

Advertisement

দক্ষিণ কলকাতার বাঁশদ্রোণির বাসিন্দা এক কিশোরীকে নিয়ে তার স্বামী পুরসভার চিকিৎসকের কাছে গিয়ে জানায় যে, তার স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা। চিকিৎসার সময় চিকিৎসক মেয়েটির পরিচয়পত্র দেখেন। তাতেই জানা যায় যে, সে নাবালিকা। পুলিশকে সে জানায় যে, গত মার্চ মাসে বিহারে তার বিয়ে হয়।

লালবাজারের এক কর্তা জানিয়েছেন, নাবালিকাদের বিবাহ রোধে বিভিন্ন এলাকায় সচেতনতার প্রচার শুরু হচ্ছে। এর আগেও শহরের বহু স্কুলে এই ব্যাপারে প্রচার হয়েছে। ফের এই ব্যাপারে স্কুলের ছাত্রী ও অভিভাবকদের সচেতন করার জন্য প্রচার শুরু হচ্ছে। তার সঙ্গে সতর্ক করা হচ্ছে এলাকার বাসিন্দা যুবক ও তরুণদের, যাতে তাঁরা কোনও নাবালিকাকে বিয়ে না করেন বা নাবালিকার বিয়ে রোধ করেন। এই ব্যাপারে এলাকার ক্লাবগুলির সহায়তাও নেওয়া হতে পারে বলে অভিমত লালবাজারের।

দক্ষিণ কলকাতার বাঁশদ্রোণির বাসিন্দা এক কিশোরীকে নিয়ে তার স্বামী পুরসভার চিকিৎসকের কাছে গিয়ে জানায় যে, তার স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা। চিকিৎসার সময় চিকিৎসক মেয়েটির পরিচয়পত্র দেখেন। তাতেই জানা যায় যে, সে নাবালিকা। পুলিশকে সে জানায় যে, গত মার্চ মাসে বিহারে তার বিয়ে হয়। স্বামীর সঙ্গে পরের মাসেই কলকাতায় চলে আসে সে। বাঁশদ্রোণীর একটি জায়গায় থাকতে শুরু করে তারা। সম্প্রতি ওই নাবালিকা জানতে পারে যে, সে অন্তঃসত্ত্বা। এর পরই বাল্যবিবাহের ঘটনাটি সামনে আসে। এই ঘটনার জের কাটতে না কাটতেই পুলিশের সামনে আসে উত্তর কলকাতার সিঁথি এলাকার দু'টি ঘটনা। কিছুদিন আগেই উত্তর শহরতলির বরানগর এলাকার একটি হাসপাতালে পর পর দুই দম্পতি আসে। তাদের সবারই বাড়ি সিঁথি এলাকায়। দু'টি ক্ষেত্রেই স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা।

বরানগরের ওই হাসপাতালের চিকিৎসক সিঁথি থানায় অন্তঃসত্ত্বা নাবালিকাদের স্বামীদের বিরুদ্ধেই বাল্যবিবাহ ও পকসো মামলায় অভিযোগ দায়ের করেন। সম্প্রতি একবালপুরের এক নাবালিকার অভিযোগ, তার পরিবারের এক সদস্যই তার যৌন হেনস্তা করেছে।

কিন্তু তাদের পরিচয়পত্র দেখার পরই চিকিৎসক জানতে পারেন যে, দু'জনই নাবালিকা। ১৭ বছর পার হতে না হতেই তারা অন্তঃসত্ত্বা হয়েছে। বরানগরের ওই হাসপাতালের চিকিৎসক সিঁথি থানায় অন্তঃসত্ত্বা নাবালিকাদের স্বামীদের বিরুদ্ধেই বাল্যবিবাহ ও পকসো মামলায় অভিযোগ দায়ের করেন। সম্প্রতি একবালপুরের এক নাবালিকার অভিযোগ, তার পরিবারের এক সদস্যই তার যৌন হেনস্তা করেছে। পুলিশের এক কর্তা জানান, অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় যে, সোশাল মিডিয়া বা এলাকা সূত্রে কোনও যুবক বা তরুণের সঙ্গে নাবালিকার পরিচয় হওয়ার পর সে ইচ্ছাকৃতভাবেই বিয়ে করছে। আবার কখনও বা পড়াশোনা বন্ধ করে জোর করে পরিবারের উদ্যোগেই দেওয়া হচ্ছে নাবালিকার বিয়ে।

সম্প্রতি যে ঘটনাগুলি পুলিশের সামনে এসেছে, সেগুলি বিশ্লেষণ করে দেখার চেষ্টা হচ্ছে, কীভাবে ওই নাবালিকার বিয়ে হল। পুলিশের মতে, কোনও এলাকায় বাল্যবিবাহ হলেও বাসিন্দারা পুলিশের কাছে খবরও দিতে চান না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর চিকিৎসা করাতে বা সন্তানের জন্ম দিতে হাসপাতালে এলে জানা যায় যে, সে নাবালিকা। তাই বাল্যবিবাহ রোধ করতেই নতুন স্ট্র্যাটেজি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement