মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছেড়ে যোগ দিয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'আসল' তৃণমূলে। শিবির বদলের পরই তদন্তে সবরকম সাহায্যের বার্তা দেন মদন মিত্র। এমনকী স্ত্রী, পুত্ররাও তদন্তের মুখোমুখি হবেন বলে জানান। এরপরই এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের মুখোমুখি হলেন ছেলে শুভরূপ মিত্র। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় মদন মিত্রের (Madan Mitra) দুই পুত্র শুভরূপ ও স্বরূপ এবং স্ত্রী অর্চনা মিত্রকে আলাদা আলাদা দিনে তলব করেছে ইডি। এমনকী তলব করা হয়েছে খোদ কামারহাটির বিধায়ককেও। আগামী ২৯ জুলাই তাঁর হাজিরা দেওয়ার কথা রয়েছে। তাঁর আগেই আজ, বুধবার ইডির দপ্তরে হাজিরা দিলেন শুভরূপ মিত্র। নির্দিষ্ট সময়ের আগেই একটি ফাইল হাতে সিজিও কমপ্লেক্সে ঢুকতে দেখা যায় তাঁকে। তবে সংবাদমাধ্যমের কোনও প্রশ্নের উত্তর দেননি শুভরূপ।
মদন মিত্র স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ''আমি কোনও ডেট, অসুখ, জ্বরের বাহানা দেব না। সমস্ত রকমভাবে ইডিকে সহযোগিতা করব। যাবেন স্ত্রী, পুত্ররাও। সবাই সাহায্য করবে।''
ইডির দাবি, টিটাগড় পুরসভায় মোটা অঙ্কের বিনিময়ে চাকরি পেয়েছিলেন ১২৫ জন। সেই তদন্তের সূত্রেই ইডির হাতে কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রের নাম উঠে আসে। এরপরই তাঁর একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি চালায় কেন্দ্রীয় এই তদন্তকারী সংস্থা। তল্লাশি চলে বিধায়কের অফিস, বাড়ি-সহ একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালায় ইডি। এমনকী মদন মিত্রকেও এই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরপরই বিধায়কের দুই পুত্র অর্থাৎ শুভরূপ ও স্বরূপ মিত্রকে তলব করা হয়। তলব করা হয় মদন মিত্রের স্ত্রী অর্চনা মিত্রকেও। ইডি সূত্রে খবর, নিয়োগের বিনিময়ে অবৈধ কোনও লেনদেন হয়েছিল কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই বিষয়ে আরও জানতেই ব্যাঙ্কের নথি-সহ বেশ কিছু তথ্য বিধায়কের পরিবারের কাছ থেকে চাওয়া হয়েছে বলে খবর। এমনকী ডাকা হয়েছে মদন মিত্রকেও।
ইডির দপ্তরে শুভরূপ মিত্র।
তবে তদন্তে সবরকম সহযোগিতা করবেন বলে ইতিমধ্যে জানিয়ে দিয়েছেন কামারহাটির বিধায়ক। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ''আমি কোনও ডেট, অসুখ, জ্বরের বাহানা দেব না। সমস্ত রকমভাবে ইডিকে সহযোগিতা করব। যাবেন স্ত্রী, পুত্ররাও। সবাই সাহায্য করবে।'' বলে রাখা প্রয়োজন, পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এর আগে ইডির হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসু। তাঁর নামে চার্জশিটও জমা পড়েছে। সেখানে শুধু প্রাক্তন মন্ত্রীর নাম নয়, সুজিত বসুর ছেলে সমুদ্রে বসুর নামও আছে।
