মাইক্রো জেরক্স, চিরকুট বা হাতে সংকেত লিখে আনা অতীত। স্মার্ট ফোনে অভ্যস্ত জেন জি-র টুকলিতেও এবার ঢুকে পড়ল এআই! শনিবার ছিল মাধ্যমিকের ভূগোল পরীক্ষা। প্রশ্নপত্র পেয়ে মোবাইলে থেকে উত্তর খুঁজে লিখতে গিয়ে বিভিন্ন স্কুলে ধরা পড়ে ১২ জন। তার মধ্যে ১১ জনই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সাহায্য নিচ্ছিল বলে অভিযোগ। অন্যদিকে, গত শুক্রবার ইতিহাস পরীক্ষার দিন মালদহের মানিকচক ব্লকে বিএসএস হাই স্কুলে এক পরিদর্শককে ছাত্রদের উত্তর লিখে নিয়ে গিয়ে বলে দেওয়ার অভিযোগ সাসপেন্ড করেছে পর্ষদ। সিসিটিভি ক্যামেরায় দেখা যায়, পর্ষদের দেওয়া কাগজেই উত্তর লেখা, তা দেখে পরীক্ষার্থীদের বলে দিচ্ছেন অঙ্কের ওই শিক্ষক। নিয়মভঙ্গের জন্য তাঁর বিরুদ্ধে ২১৪-এর ২২ ধারা অনুযায়ী পদক্ষেপ করবে পর্ষদ।
মধ্যশিক্ষা পর্ষদের পর্যবেক্ষণ, এবার মাধ্যমিকে এখনও পর্যন্ত মোবাইল নিয়ে যত পরীক্ষার্থী ধরা পড়েছে, তার মধ্যে বেশিরভাগই এআই ব্যবহার করেছে। ট্রেন্ডে আরও দেখা যাচ্ছে, দলবদ্ধভাবে এআই ব্যবহার করছে তারা। শনিবার কলকাতার বদরতলা হাই স্কুলে পরীক্ষা দিতে গিয়ে ধরা পড়ে চার পরীক্ষার্থী। তারা সকলেই গার্ডেনরিচ কেশোরাম কটন মিলস হাই স্কুলের ছাত্র। কোচবিহারে দু'জন, পশ্চিম বর্ধমান, পূর্ব মেদিনীপুর, উত্তর ২৪ পরগনা, হুগলি, বাঁকুড়ায় একজন করে পরীক্ষার্থী মোবাইল-সহ ধরা পড়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হল, পরীক্ষার হলে মোবাইল নিয়ে পরীক্ষার্থীরা ঢুকছে কীভাবে? জানা যাচ্ছে, এদের বেশিরভাগই অন্তর্বাসের ভিতরে বা জুতোর ভিতরে মোবাইল নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢুকেছিল। তাই ধরা পড়েনি। পরে পরীক্ষক তাদের মোবাইল-সহ দেখতে পান।
স্মার্ট ফোনে অভ্যস্ত জেন জি-র টুকলিতেও এবার ঢুকে পড়ল এআই! শনিবার ছিল মাধ্যমিকের ভূগোল পরীক্ষা। প্রশ্নপত্র পেয়ে মোবাইলে থেকে উত্তর খুঁজে লিখতে গিয়ে বিভিন্ন স্কুলে ধরা পড়ে ১২ জন। তার মধ্যে ১১ জনই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সাহায্য নিচ্ছিল বলে অভিযোগ।
মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় টুকলি নতুন কিছু নয়। প্রতিবারই তা রুখতে পর্ষদের তরফে যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করা সত্ত্বেও নকল করতে গিয়ে দু, একজন পরীক্ষার্থী ধরা পড়ে না, এমনটা কোনও বছরই হয়নি। তবে প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে সেই ধরনও বদলেছে, তার প্রমাণ পাওয়া গেল এবছর ধৃত ১২ জন পরীক্ষার্থীকে দেখে। পড়াশোনা দূর অস্ত, বই থেকে উত্তর লিখে আনাও নয়। জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা দিতে গিয়ে তারা সরাসরি সাহায্য নিচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার!
