ছাব্বিশের ভোটে দল কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে। শাসকদল থেকে নিমেষে বিরোধী দলের আসনে বসেছে তৃণমূল কংগ্রেস। ২৯৪ আসনের মধ্যে মাত্র ৮০টিতে জিতেছেন তৃণমূল প্রার্থীরা। অনেক নিশ্চিত আসনে জয়ের দোরগোড়ায় এসেও তরী ডুবেছে। ভবানীপুর থেকে পরাজিত হয়েছেন খোদ দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। এই পরিস্থিতিতে হাল না ছেড়ে নতুন করে লড়াইয়ের ডাক আগেই দিয়েছিলেন নেত্রী। শনিবার কালীঘাটের বাড়িতে পরাজিত প্রার্থীদের বৈঠকে তিনি সাফ জানালেন, কেউ দল ছেড়ে চলে যেতে চাইলে যেতেই পারে। নতুন করে দল গড়ে নেবেন।
শনিবার কালীঘাটের বৈঠকে মমতা বললেন, ‘‘যাঁরা অন্য দলে চলে যাচ্ছে, যাক। আমি নতুন করে দল গড়ব। যাঁরা আছেন, তাঁদের বলছি, আপনারা ভেঙে ফেলা পার্টি অফিস সারিয়ে তুলুন, রং করে আবার খুলুন। দরকারে আমিও রং করব। তৃণমূল কখনও মাথা নত করবে না। মানুষের রায় লুট করা হয়েছে।''
এবারের ভোটে ২৯১ টি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল তৃণমূল। পাহাড়ে তাঁদের সমর্থনে তিন প্রার্থী দিয়েছিল অনীত থাপার দল বিজিপিএম। এঁদের মধ্যে মাত্র ৮০ জন জয়ের মুখ দেখেছেন। বাকি ২১১ জনই পরাজিত। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বহু হেভিওয়েট নেতা-মন্ত্রী। এঁদেরই শনিবার কালীঘাটের বাড়িতে ডেকে পাঠিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকে ছিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। এনিয়ে দলের এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করা হয়েছে। বলা হয়েছে, এঁরা প্রত্যেকেই অত্যাচার সহ্য করে অসম সাহসের সঙ্গে লড়েছেন।
৪ তারিখ ভোটের ফলপ্রকাশে হারের পর ৫ মে সাংবাদিক সম্মেলন করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, ‘‘জানি, অনেকেই অন্য দলে চলে যাবেন। তাঁদের হয়ত বাধ্যবাধকতা আছে। আমার তাতে কিছু বলার নেই। যারা যেতে চায়, যাক। আমি জোর করে ধরে রাখার পক্ষে নই।'' এদিনও সেই কথাই প্রতিফলিত হল। মমতা বললেন, ‘‘যাঁরা অন্য দলে চলে যাচ্ছে, যাক। আমি নতুন করে দল গড়ব। যাঁরা আছেন, তাঁদের বলছি, আপনারা ভেঙে ফেলা পার্টি অফিস সারিয়ে তুলুন, রং করে আবার খুলুন। দরকারে আমিও রং করব। তৃণমূল কখনও মাথা নত করবে না। মানুষের রায় লুট করা হয়েছে।''
পুরুলিয়ায় নিয়মিত খুলছে না দলের জেলা কার্যালয়। ছবি: দীপক রাম
আসলে ভোটে তৃণমূলের শোচনীয় পরাজয়ে কর্মীদের অনেকের মনোবল ভেঙেছে। কোথাও কোথাও দলীয় কার্যালয় দখল হয়েছে, কোথাও বন্ধ হয়ে গিয়েছে। জেলায় জেলায় এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। এই পরিস্থিতিতে বাড়িতে চুপ করে বসে না থেকে নতুন উদ্যমে কাজে ঝাঁপানোর পরামর্শ দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কর্মীদের পাশে থেকে নিজেও পার্টি অফিস খোলার কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন।
