পূর্ব মেদিনীপুরের বাসিন্দা ছেচল্লিশ বছরের সুমিত্রা দাস, মোটরবাইকের ধাক্কায় মাথায় ভয়াবহ চোট পেয়েছিলেন। ভর্তি করতে হয় কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে। চিকিৎসকদের হাজারও চেষ্টা সত্ত্বেও লাভ হয়নি। প্রাণশক্তি খুইয়ে কোমায় চলে যান সোমবার বিকেলে। ডাক্তারবাবুরা জানিয়েছেন, সবরকম চিকিৎসার পরেও কোনও উন্নতি হয়নি। আর জ্ঞান ফেরেনি তার। সেই সুমিত্রা দাসের অঙ্গে এবার প্রাণ পেলেন চারজন।
পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়ার বাসিন্দা সুমিত্রা দাসের ব্রেনডেথ সরকারিভাবে ঘোষিত হয় বুধবার। তাঁর পরিবারের সম্মতিতে বৃহস্পতিবার অঙ্গদান সম্পন্ন হল কলকাতায়। চিকিৎসকদের তৎপরতায় তাঁর লিভার ও দু’টি কিডনি প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে তিন মূমূর্ষ রোগী নতুন জীবন পেলেন। পাশাপাশি কর্নিয়া দানে উপকৃত হবেন এক দৃষ্টিহীন ব্যক্তি। গত ২৭ অক্টোবর বাড়ির কাছেই মোটর বাইকের ধাক্কায় মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়ার পর সঙ্কটজনক অবস্থায় কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন সুমিত্রা। তাঁর কন্যা সেখানেই নার্স হিসেবে কর্মরত। সেখানেই চিকিৎসকরা আপ্রাণ চেষ্টা করেন।
চিকিৎসায় সাড়া না মেলায় তাঁকর ব্রেনডেথ ঘোষণা করা হয়। এরপরই চিকিৎসকরা তাঁর পরিবারের সঙ্গে অঙ্গদানের বিষয়ে আলোচনা করেন। পরিবারের সম্মতিতে শুরু হয় মরণোত্তর অঙ্গদান প্রক্রিয়া। সুমিত্রার লিভার প্রতিস্থাপন করা হয়েছে ৬৬ বছরের এক রোগিণীর শরীরে। একটি কিডনি দেওয়া হয়েছে এসএসকেএমের ৩৬ বছরের এক কিডনি খারাপ হওয়া রোগিণীকে। অন্য কিডনিটি প্রতিস্থাপিত হয়েছে অ্যাপোলোর ৬৬ বছরের আর এক রোগিণীর শরীরে। কর্নিয়া দান করা হয়েছে দিশা আই হাসপাতালে।
