shono
Advertisement
College

সরল প্রশাসক, এবার কলেজের গর্ভনিং বডিতে বিধায়ক-সাংসদরা, জারি বিজ্ঞপ্তি

কোন কলেজের গর্ভনিং বডির প্রেসিডেন্ট কে, সেই তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে।
Published By: Tiyasha SarkarPosted: 03:42 PM Aug 22, 2026Updated: 03:42 PM Aug 22, 2026

বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর ভেঙে দেওয়া হয়েছিল কলেজের জিবি (গর্ভনিং বডি)। পরবর্তীতে সরকারের সিদ্ধান্তে বসানো হয়েছিল প্রশাসক। এবার সরানো হল তাঁদের। শনিবার শিক্ষাদপ্তরের তরফে বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হল, এবার জিবির প্রেসিডেন্ট পদে বিধায়ক-সাংসদরা। কোন কলেজের গর্ভনিং বডির প্রেসিডেন্ট কে, সেই তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে। 

Advertisement

শনিবার শিক্ষাদপ্তরের তরফে জারি করা হয়েছে একটি বিজ্ঞপ্তি। সেখানে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, এবার সরকারি ও সরকার পোষিত কলেজগুলো গর্ভনিং বডির প্রেসিডেন্ট পদে থাকবেন বিধায়ক অথবা সাংসদ। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, এই তালিকার সকলেই বিজেপির প্রতীকে জিতে আসা জনপ্রতিনিধি। নিজের বিধানসভা বা লোকসভা এলাকা না হওয়া সত্ত্বেও একাধিক কলেজের দায়িত্ব পেয়েছেন বিধায়ক ও সাংসদরা।

বাম জমানায় শিক্ষাঙ্গনে রাজনীতির শুরু। বলা হয়, সেই সময় শিক্ষাক্ষেত্রে ‘অনিলায়ন’ হয়েছিল! কারণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনীতির কলকাঠি নাড়ানো হত আলিমুদ্দিন স্ট্রিট থেকে। সেই সময় সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক ছিলেন অনিল বিশ্বাস। তাঁর অঙ্গুলিহেলনেই নাকি চলত সবটা। ৩৪ বছরের বাম সাম্রাজ্যের পতন ঘটলেও শিক্ষাঙ্গণ থেকে রাজনীতির বিদায় ঘটেনি। ‘অনিলায়নে’র পর ‘তৃণমূলায়ন’ দেখেছে বাংলা। দলীয় পতাকাকে সামনে রেখে শিক্ষাঙ্গণকে কার্যত রাজনীতির আখড়া করে তোলা হয়েছিল। ভর্তি থেকে শুরু করে কর্মীদের বিভিন্ন বিষয়েও চলছিল দাদাগিরি। সম্প্রতি দেখা গিয়েছে কলকাতার কলেজে তৃণমূলের প্রতিষ্ঠা দিবসে পরীক্ষা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন তৃণমূলের ছাত্রনেতা। প্রতিবাদ করে বিপাকে পড়তে হয়েছিল দায়িত্ব প্রাপ্ত অধ্যক্ষ শান্তা দত্তকে। স্থায়ী অধ্যক্ষ নিয়োগের পরীক্ষায় ডাকাই হয়নি তাঁকে। সেই ঘুঘুর বাসা ভাঙতে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিজেপি সরকার। ক্ষমতায় আসার পরই সরকার পোষিত স্কুল-কলেজগুলোর গর্ভনিং বডি ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, গর্ভনিং বডিতে আর থাকবেন না কোনও রাজনৈতিক প্রতিনিধি। এতে শিক্ষা থেকে রাজনীতিকে আলাদা করা সম্ভব হবে। 

পরবর্তীকালে প্রশাসকও বসানো হয়। কিন্তু শনিবার শিক্ষাদপ্তরের তরফে জারি করা হয়েছে একটি বিজ্ঞপ্তি। সেখানে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, এবার সরকারি ও সরকার পোষিত কলেজগুলো গর্ভনিং বডির প্রেসিডেন্ট পদে থাকবেন বিধায়ক অথবা সাংসদ। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, এই তালিকার সকলেই বিজেপির প্রতীকে জিতে আসা জনপ্রতিনিধি। নিজের বিধানসভা বা লোকসভা এলাকা না হওয়া সত্ত্বেও একাধিক কলেজের দায়িত্ব পেয়েছেন বিধায়ক ও সাংসদরা। শিক্ষাদপ্তরের এই সিদ্ধান্তেই আমজনতার প্রশ্ন, 'এভাবে কী আদৌ শিক্ষাঙ্গণে রাজনীতিকরণ বন্ধ সম্ভব?' 

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement