বাদুড়িয়ায় বসে ইসলামিক জঙ্গি সংগঠনের হয়ে কাজ। সেই অভিযোগে কলেজ ছাত্রী তানিয়া পারভিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ধৃত সঈদ মহম্মদ ইদ্রিশকে রাষ্ট্রদোহিতা মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং জরিমানার নির্দেশ দিল বিশেষ এনআইএ আদালত। বুধবার বিচারক সুকুমার রায় এই নির্দেশ দেন। এনআইএ আইনজীবী শ্যামল ঘোষ জানান, আদালতে দোষ স্বীকার করে ইদ্রিশ। আদালত সবদিক খতিয়ে দেখে ইদ্রিশকে দোষী সাব্যস্ত করে।
২০২০ সালের মার্চে উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়া থেকে কলেজ পড়ুয়া তানিয়া পারভিননকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে প্রথমে গ্রেপ্তার করে রাজ্য পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স। এর সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যে মামলাটির তদন্তভার নেয় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। তানিয়াকে জেরা করে উঠে আসে বহু গোপন তথ্য। কলেজছাত্রী নিজে পাকিস্তানের নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তইবা দ্বারা উদ্বুদ্ধ হয়ে তাদের হয়ে কাজ করতে শুরু করে। সোশ্যাল মিডিয়ায় গ্রুপ তৈরি করে তার মতো বহু যুবক, যুবতীকে জেহাদের আদর্শে অনুপ্রাণিত করত। এভাবে সে মডিউল তৈরি করে ফেলেছিল। অনলাইনে জঙ্গিদের নিয়োগ করা হত। আর সবটাই তানিয়া করত বাদুড়িয়ায় বসে। তারপর তাকে জেরা করে কাশ্মীরের বান্দিপোরা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় লস্কর জঙ্গি আলতাফকে। এরপর একে একে সৈয়দ মহম্মদ ইদ্রিশ ওরফে মুন্না এবং আয়েশা ওরফে আয়েশা বুরহান ওরফে আয়েশা সিদ্দিকিকে পাকড়াও।
২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে চার্জশিট জমা দেয় এনআইএ। তানিয়া পারভিন, সৈয়দ মহম্মদ ইদ্রিশ ও আয়েশার বিরুদ্ধে অতিরিক্ত চার্জশিট জমা দেয় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থাটি। ধৃত জঙ্গিদের বিরুদ্ধে UAPA-সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়। উল্লেখ্য, অভিযুক্তদের মধ্যে আয়েশা সিদ্দিকি পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের বাসিন্দা। ইদ্রিশ ওরফে মুন্না কর্নাটকে থাকত। ভারতে বড়সড় নাশকতার ছক ছিল ধৃত জঙ্গিদের। এই পরিকল্পনায় জেহাদি মডিউলটিকে মদত দিচ্ছিল পাকিস্তানের কুখ্যাত গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই। তবে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলির সতর্ক দৃষ্টি এড়িয়ে যেতে পারেনি ওই জঙ্গিরা। এই তিনজনের মধ্যে ধৃত ইদ্রিশকে সাজা শোনাল আদালত।
