মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুরে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার দোল উৎসব উদযাপন ও শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন তিনি। ছিলেন বিজেপি-কর্মী সমর্থকরা। সেখানে তিনি বলেন, 'সেকুলারিজম নিপাত যাক।' দোলে সকলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে 'গোরা গোরা গৌরাঙ্গ' গান ধরেন তিনি। যখন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ধর্মনিরপেক্ষতা, ঐক্যের বার্তা দিচ্ছেন। সেই সময় দোলের দিন হিন্দুত্বকে হাতিয়ার করলেন শুভেন্দু! বৃহত্তর হিন্দু ঐক্যের ডাক দিয়ে বলেন, 'হিন্দু-হিন্দু ভাই-ভাই।' নির্বাচনের আগে মেরুকরণের রাজনীতিতে আরও শান দিলেন তা কার্যত স্পষ্ট।
দুয়ারে কড়া নাড়ছে বিধানসভা নির্বাচন। বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপও। দোল ও হোলি মিটলেই বৈঠকে বসবে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। তারপরই ভোটা ঘোষণা। এই আবহে ভবানীপুরে আনাগোনা বাড়িয়েছেন শুভেন্দু। দিনকয়েক আগে ভবানীপুরে নতুন অফিসও করেছে বিজেপি। এ দিন দোলযাত্রা উপলক্ষ্যে ফের ভবানীপুরে হাজির হন শুভেন্দু।শোভাযাত্রায় অংশ নিয়ে বলেন, "সেকুলারিজম নিপাত যাক। নাস্তিকতা নিপাত যাক। হিন্দুরা পশ্চিমবঙ্গে সুরক্ষিত থাকুক এই প্রার্থনা করব।"
শুভেন্দুর এই মন্তব্যের পরই রাজনৈতিক মহল মত, দোলকে হাতিয়ার করে হিন্দু -মুসলিম বিভেদের রাজনীতিতে শান দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। রাজনৈতিক মহলে আরও জল্পনা ছড়িয়েছে, আসন্ন নির্বাচনে ভবানীপুরে মমতার বিরুদ্ধে প্রার্থী হতে চলেছেন শুভেন্দু। সেই জল্পনাকে উসকে আরও একবার ভবানীপুরে এলেন তিনি। শান দিলেন বিজেপির হিন্দুত্ব রাজনীতিতে।
এ দিকে দোলের শুভেচ্ছা জানিয়ে ঐক্যের বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, 'আজকের এই বিশেষ দিনে এই শপথ আমাদের নিতে হবে যে শ্রীচৈতন্যদেবের বাংলার ধর্মনিরপেক্ষতার, সহিষ্ণুতার ঐতিহ্যের গায়ে আমরা দাগ লাগতে দেব না।’ রাজনীতির কারবারিদের মতে, সমাজমাধ্যমে এহেন পোস্টের মাধ্যমে বিজেপিকে সহিষ্ণুতার পাঠ দিতেই চেয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
