ম্যারাথন দৌড়ে অংশ নিতে শহরে আসা এক তরুণকে ডেকে নিয়ে গিয়ে ‘অনলাইন লুট’-এর অভিযোগ। পূর্ব কলকাতার গুলশন কলোনির একটি বাড়িতে আড্ডা দেওয়ার নাম করে ওই তরুণকে ডেকে নিয়ে গিয়ে তাঁর কাছ থেকে জোর করে অনলাইনের মাধ্যমে ৬৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় দুষ্কৃতীরা। এ ছাড়াও লুঠ করা হয় সোনার গয়না। আতঙ্কে কলকাতায় তিনি কারও কাছে মুখ খুলতে পারেননি। ওই তরুণ নিজের বাড়ি নদিয়ার চাকদহে ফিরে যাওয়ার পর এই ব্যাপারে চাকদহ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। চাকদহ থানার পুলিশ সেখানে জিরো এফআইআর করে পূর্ব কলকাতার আনন্দপুর থানায় পাঠিয়ে দেয়। তারই ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
একটি নির্জন ফ্ল্যাটে ওই তরুণ মূল অভিযুক্ত যুবকের সঙ্গে কথাবার্তা বলার সময় চারজন ব্যক্তি ভিতরে ঢোকে। অভিযোগ, কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওই যুবককে মারধর শুরু করে দেয় ওই চার ব্যক্তি।
এর আগেও আনন্দপুর ও প্রগতি ময়দান এলাকায় এরকম একাধিক লুঠপাটের ঘটনা ঘটেছে। তাই পুলিশ এই অভিযোগটিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, সম্প্রতি ওই তরুণ একটি ম্যারাথন দৌড়ে অংশ নিতে শহরে আসেন। নিউ টাউনের একটি হোটেলে ওঠেন তিনি। এর আগেই শহরের এক যুবকের সঙ্গে সোশাল মিডিয়া তথা একটি অ্যাপের মাধ্যমে তাঁর যোগাযোগ হয়েছিল। ওই যুবকের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরই সে তাঁকে আড্ডা দেওয়ার জন্য আনন্দপুর এলাকায় আসতে বলে। এমনকী, ক্যাবও পাঠিয়ে দেয়। ক্যাব গুলশন কলোনির একটি বাড়িতে পৌঁছে দেয় ওই যুবককে। সেখানে একটি নির্জন ফ্ল্যাটে ওই তরুণ মূল অভিযুক্ত যুবকের সঙ্গে কথাবার্তা বলার সময় চারজন ব্যক্তি ভিতরে ঢোকে। অভিযোগ, কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওই যুবককে মারধর শুরু করে দেয় ওই চার ব্যক্তি। কেড়ে নেওয়া হয় মোবাইল, মানিব্যাগ।
ঘটনার তদন্তে নেমে ইতিমধ্যে যে বাড়িটিতে এই ঘটনা ঘটেছিল। সেটি শনাক্ত করেছে আনন্দপুর থানার পুলিশ। শুধু তাই নয়, এলাকার সিসিটিভির ফুটেজ দেখে অভিযুক্তদের শনাক্তকরণের চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, ওই যুবক জানিয়েছিল, তাঁর কাছে বেশি নগদ নেই। তখন এক ব্যক্তি নিজের মোবাইলের স্ক্যানার তাঁর সামনে ধরে। তরুণ নিজের দু’টি অ্যাকাউন্ট থেকে পাঁচ হাজার টাকা লুঠ করে অভিযুক্তরা। খুলে নেওয়া হয় ওই যুবকের হাতে থাকা সোনার আংটি। অভিযোগ, এরপরেও নগদ টাকা চাওয়া হয়। না হলে ছাদ থেকে ফেলে খুন করার হুমকি অভিযুক্তরা দেয় বলে অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে একপ্রকার বাধ্য হয়ে এক আত্মীয়কে ফোন করে টাকা দিতে বলেন। ওই আত্মীয় তাঁকে অনলাইনে ৬০ হাজার টাকা পাঠান। সেই টাকা একই পদ্ধতিতে স্ক্যানারের মাধ্যমে তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে তুলে নেয় দুষ্কৃতীরা। এরপর প্রমাণ সরাতে অনলাইন লেনদেন সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য মুঝে দেওয়া হয়।
ঘটনার তদন্তে নেমে ইতিমধ্যে যে বাড়িটিতে এই ঘটনা ঘটেছিল। সেটি শনাক্ত করেছে আনন্দপুর থানার পুলিশ। শুধু তাই নয়, এলাকার সিসিটিভির ফুটেজ দেখে অভিযুক্তদের শনাক্তকরণের চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
