জেল মুক্তির পর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় নতুন দায়িত্ব পেলেন বেহালা পশ্চিমের বিধায়ক প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী ডা. পার্থ চট্টোপাধ্যায়। বিধানসভার নিয়ম মেনে তাঁকে লাইব্রেরি কমিটির সদস্য করা হয়েছে। পাশাপাশি আবাসন, অগ্নিনির্বাপণ ও বিপর্যয় মোকাবিলা সংক্রান্ত স্ট্যান্ডিং কমিটিতেও জায়গা পেয়েছেন তিনি।
বিধানসভার কার্যবিধির ২৫২(৩) নম্বর নিয়ম অনুযায়ী, স্পিকারের সিদ্ধান্তে এই মনোনয়ন কার্যকর হয়েছে বলে জানানো হয়েছে বিধানসভার বুলেটিনে। লাইব্রেরি কমিটির ক্ষেত্রে ২০২১-২২ থেকে শুরু করে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষ পর্যন্ত ও স্ট্যান্ডিং কমিটির ক্ষেত্রেও একই সময়সীমার জন্য এই মনোনয়ন বহাল থাকবে। বুলেটিন অনুযায়ী, এই মনোনয়ন ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫ থেকে কার্যকর হয়েছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত বিধানসভার বুলেটিন (পার্ট-থ্রি)-এ বিষয়টি আনুষ্ঠানিক ভাবে জানানো হয়।
শিক্ষাদুর্নীতি মামলায় জেলে যাওয়ার আগে পার্থ মন্ত্রী ছিলেন। সিবিআই ও ইডি তাঁকে গ্রেপ্তার করার পর মন্ত্রীসভা থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু বিধায়ক পদ ছাড়েননি তিনি। ইডি ও সিবিআইয়ের প্রতিটি মামলায় জামিন পাওয়ার পর বাড়িতে রয়েছেন তিনি। বর্তমানে পার্থ বেহালা পশ্চিমের বিধায়কও বটে। এদিকে বিধানসভায় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কোনও না কোনও কমিটিতে রাখা হয়।
পার্থ চট্টোপাধ্যায় মন্ত্রী থাকাকালীন বিধানসভার কোনও কমিটিতে ছিলেন না। বিধানসভার নিয়ম অনুযায়ী মন্ত্রীরা সেই পদ পান না। শুধুমাত্র বিধায়করাই স্ট্যান্ডিং কমিটিতে থাকেন।কিন্তু পার্থ এখন মন্ত্রী নন, কিন্তু বিধায়ক পদ রয়েছে। নিয়ম অনুয়ায়ী, বিধানসভার নতুন প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসে লাইব্রেরি কমিটির সদস্য ও একটি স্ট্যান্ডিং কমিটিতে জায়গা পেয়েছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তৃণমূল জামানায় তিনি এই প্রথম কোনও কমিটিতে জায়গা পেলেন। কারণ, ২০১১ সাল থেকেই তিনি কোনও না কোনও মন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর পার্থ চিঠি লিখে জানিয়েছিলেন, তিনি তাঁর বিধানসভা এলাকায় যাবেন। কিন্তু যাননি। এদিকে ৫ ফেব্রুয়ারি অর্ন্তবর্তী রাজ্য বাজেট পেশ হবে। তার আগে রাজ্যপালের ভাষণ রয়েছে। নতুন কমিটিগুলিতে স্থান পাওয়ার পর পার্থ চট্টোপাধ্যায় অধিবেশনে আসেন কি না, সেই দিকেই নজর সবার।
পার্থ চট্টোপাধ্যায় জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই প্রশ্ন উঠেছিল কোথায় বসবেন পার্থ। তাঁকে কোন কমিটিতে রাখা হবে। সেই সময় স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তারপরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২২ সালে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেপ্তার হন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। এরপর থেকে জেলবন্দি অবস্থাতেই ছিলেন। নিয়োগ দুর্নীতির একাধিক মামলায় নাম জড়িয়ে যায় প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর। অবশেষে ২০২৫ সালে সব ক'টি মামলায় জামিন পেয়ে জেলমুক্তি হয় তাঁর।
