shono
Advertisement
Kolkata

রডের ঘায়ে রক্তাক্ত যুবক ছুটছিল রাজপথে, চেতলায় 'বন্ধু' খুনে ৮৩ দিনে চার্জশিট পুলিশের

গ্রেপ্তার করা হয় যুবকের দুই বন্ধুকে। সেই ঘটনায় ৮৩ দিনের মাথায় চার্জশিট পেশ করল লালবাজারের গোয়েন্দারা। শুক্রবার আলিপুর আদালতে পেশ হওয়া ৮৫ পাতার চার্জশিটে সাক্ষীর সংখ্যা ৩০ জন।
Published By: Subhankar PatraPosted: 08:11 PM Jan 16, 2026Updated: 08:11 PM Jan 16, 2026

রাস্তায় রক্তাক্ত অবস্থায় ছুটছিল যুবক। পরে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত্যু হয় তাঁর। চেতলার এই ঘটনায় শিউরে উঠেছিল শহর কলকাতা। পরে থানায় খুনের অভিযোগ দায়ের করে মৃতের পরিবার। গ্রেপ্তার করা হয় যুবকের দুই বন্ধুকে। সেই ঘটনায় ৮৩ দিনের মাথায় চার্জশিট পেশ করল লালবাজারের গোয়েন্দারা। শুক্রবার আলিপুর আদালতে পেশ হওয়া ৮৫ পাতার চার্জশিটে সাক্ষীর সংখ‌্যা ৩০ জন।

Advertisement

গত বছরের ২৫ অক্টোবর চেতলা থানা এলাকার ১৭ নম্বর বাসস্ট‌্যান্ডের কাছে খুন হন চেতলা রোডের বাসিন্দা অশোক পাশোয়ান। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, সুরজিৎ ওরফে বাপি নামে বন্ধুর স্ত্রীকে কেন্দ্র করে ক্রমাগত কটূক্তি করতেন অশোক। তারই জেরে দক্ষিণ কলকাতার চেতলার রাস্তায় মদের আসরে খুন হন তিনি। মদের আসরে মাথায় রড দিয়ে আঘাত করে খুন করা হয় তাঁকে। এই ঘটনায় দুই অভিযুক্ত চেতলা রোডেরই বাসিন্দা সুরজিৎ হালদার ওরফে বাপি ও তাপস পালকে লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগের হোমিসাইড শাখার আধিকারিকরা গ্রেপ্তার করেন। এই ঘটনার জেরে চেতলা অঞ্চলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। চেতলা থানার তৎকালীন ওসিকে সরিয়ে দিয়েছিল লালবাজার। যদিও পুলিশের কর্তারা জানান, ওসি প্রোমোশন পেয়ে বদলি হয়েছেন।

গত ২৫ অক্টোবর বাপি, তাপস নিহত যুবক অশোক, অশোকের ভাই মনোজ পাশোয়ান, রাহুল অধিকারী ওরফে গুটখে রাস্তার উপরই মদ‌্যপান করছিলেন। রাত সাড়ে দশটা নাগাদ বাপি, অশোক ও তাপস টালিগঞ্জে আরও মদ কিনতে যান। ফিরে এসে শিবমন্দিরের কাছে স্কুটি রেখে ফুটপাথে দাঁড়ান তাঁরা। এর মধ্যেই নিজেদের মধ্যে গোলমাল হয়। এলাকার বাসিন্দারা অশোককে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তা দিয়ে হাঁটতে দেখেন। তাঁর মুখ ও গলা দিয়ে রক্ত বেরচ্ছিল।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার পরই সুরজিৎ ওরফে বাপি ও তাপস পালিয়ে যায়। তারা প্রথমে দূর থেকে নজরদারি করে। এর পর সন্দেহের উর্ধ্বে থাকার জন‌্য ফিরে এসে 'বন্ধু' অশোককে সাহায্যের ভান করে। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর অশোকের মৃত্যু হয়। পরদিন অশোকের পরিবারের পক্ষ থেকে খুনের মামলা দায়ের করা হয়। গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তে জানা যায় যে, অভিযুক্ত সুরজিতের সঙ্গে তার স্ত্রীর পারিবারিক গোলমাল চলছিল। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে ও সুরজিতের স্ত্রীর উদ্দেশ্যে কটূক্তি করতেন অশোক। তারই জেরে বাসস্ট‌্যান্ড থেকে গাড়ির যন্ত্রাংশ তথা রড দিয়ে অশোককে খুন করা হয়। ওই অস্ত্রটিও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement