আর জি কর মামলায় নয়া মোড়। তৎকালীন বিধায়ক নির্মল ঘোষ-সহ তিনজনের গ্রেপ্তারি চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হলেন নির্যাতিতার মা তথা পানিহাটির বিজেপি বিধায়ক। আজ, মঙ্গলবার শিয়ালদহ আদালতে পরিবারের তরফে মামলা দায়ের করা হয়। জানা গিয়েছে, আগামী ৫ জুন এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। ফলে মামলা কোন দিকে মোড় নেয় সেদিকেই নজর সবার।
শিয়ালদহ আদালতে করা মামলায় নির্মল ঘোষ ছাড়াও স্থানীয় বাসিন্দা সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় এবং ঘোলা থানার তৎকালীন ওসি সোমনাথ দাসের গ্রেফতারি চেয়ে আবেদন জানানো হয়েছে। অভয়ার পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তে বাধা দেওয়া হয়। এমনকী কোনও নথি হস্তান্তর না করেই দেহ তড়িঘড়ি দাহ করা হয়। আর এই ঘটনায় পানিহাটির তৎকালীন বিধায়ক নির্মল ঘোষ, সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় এবং সোমনাথ দাসকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানানো হয়। জরুরিভিত্তিতে এদিন মামলার শুনানি হয় শিয়ালদহ আদালতে।
শিয়ালদহ আদালতে করা মামলায় নির্মল ঘোষ ছাড়াও স্থানীয় বাসিন্দা সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় এবং ঘোলা থানার তৎকালীন ওসি সোমনাথ দাসের গ্রেফতারি চেয়ে আবেদন জানানো হয়েছে।
শুনানিতে সিবিআইয়ের আইনজীবী সওয়াল করেন, কাকে গ্রেপ্তার করা হবে, সেই নির্দেশ কেউ দিতে পারে না। এই বিষয়ে জবাব দেওয়ার আবেদনও জানানো হয়। এক্ষেত্রে পালটা নির্যাতিতার আইনজীবী বলেন, তিনজনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবেদন জানানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, কীভাবে দেহ দ্রুত দাহ করা হয় সেই তথ্যও ফের এদিন আদালতে তুলে ধরেন আইনজীবী। এমনকী সিবিআই অতিরিক্ত চার্জশিট জমা দেবে বলে জানিয়েছিল। তা এখনও দেওয়া হয়নি বলেও আদালতে অভিযোগ জানান নির্যাতিতার আইনজীবী। দু'পক্ষের সওয়াল-জবাব শেষে বিচারক আগামী ৫ জুন ফের এই মামলার শুনানির দিন ধার্য করেছে।
এদিকে মঙ্গলবারই আর জি কর মামলা থেকে সরে দাঁড়ান বিচারপতি মান্থার ডিভিশন বেঞ্চ। হঠাৎ কেন এই সিদ্ধান্ত তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। যদিও বিচারপতি মান্থা জানান, “এই মামলার জন্য রাজ্য জুডিশিয়াল কমিশন গঠন করছে বলে শোনা যাচ্ছে। তাই এই মুহূর্তে এই মামলা শোনার প্রয়োজন নেই।” ফলে আর জি কর মামলা ফেরত গিয়েছে প্রধান বিচারপতির কাছে। মামলা প্রসঙ্গে বিচারপতি মান্থা আরও জানিয়েছেন, “এই মামলা শুধুমাত্র মামলাকারীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়, এই মামলার দিকে গোটা রাজ্য এবং দেশের মানুষ তাকিয়ে আছে।”
