ডিজিটাল দুনিয়ার রঙিন আলোয় এখন ‘গেটিং রেডি উইথ মি’-র রমরমা। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নয়া পোশাকে নিজেকে সাজিয়ে নেওয়ার ভিডিও কাঁপাচ্ছে সোশাল মিডিয়া। সেই নেটপাড়ার ট্রেন্ডেই এ বার জুড়ে গেল ভারতের সুপ্রাচীন বয়নশিল্প। ৭ আগস্টের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বার্তা স্পষ্ট— দেশি তাঁতের নিজস্ব রূপকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে হবে নতুন মোড়কে। এই আহ্বানে প্রথাগত সাজপোশাক পেরিয়ে হ্যান্ডলুম হয়ে উঠেছে সবচেয়ে প্রগতিশীল ফ্যাশন স্টেটমেন্ট।
ছবি: সংগৃহীত
১৯০৫ সালের ৭ আগস্ট সূচনা ঘটেছিল ঐতিহাসিক স্বদেশি আন্দোলনের। আত্মনির্ভরতার সেই মন্ত্র আজও সমান প্রাসঙ্গিক। আধুনিক রিলস বা শর্টসের যুগে স্বদেশি পোশাককে স্থান করে নেওয়াই এখন মূল লক্ষ্য। বিদেশি পোশাকের ভিড়ে ভারতীয় সুতোর টানে ফিরে আসার এই প্রয়াস ফ্যাশন দুনিয়ায় এক নতুন জোয়ার আনছে।
ছবি: সংগৃহীত
ভারতের প্রতিটি প্রান্তের নিজস্ব বয়নকলা রয়েছে। দেশি ফ্যাশনের সম্ভারে সেরা ৭ তাঁতশিল্পের মেলবন্ধন তুলে ধরা হল।
খাদি: স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতীক থেকে আজ চরম কেতাদুরস্ত পোশাক। আরাম ও অভিজাত ভাব— দুইয়েরই সেরা রসায়ন।
আধুনিক ফ্যাশনে বেনারসির ব্যবহার।
বেনারসি: বেনারসের সোনা-রুপোর জড়ি আর রেশমি সুতোর জাদু। বিশেষ অনুষ্ঠানে এর রূপ অতুলনীয়।
পশমিনা: কাশ্মীরের আঙটি-গলানো নরম উষ্ণতা। ঠান্ডা দিনে এর থেকে অভিজাত শাল বা পোশাক আর হয় না।
চান্দেরির আকর্ষণ
চন্দেরি: মধ্যপ্রদেশের হালকা, ঝলমলে ও মসৃণ বয়নকলা। উৎসবের সাজে যার নিজস্ব একটা রাজকীয় ছোঁয়া থাকে।
বাংলা সুতি তাঁত: বাংলার নিজস্ব সুতোর বুনন। আর্দ্র আবহাওয়ায় স্বাচ্ছন্দ্য ও চিরন্তন রূপের অপূর্ব নিদর্শন।
কাঞ্জিভরমের দুর্বার আকর্ষণ
কাঞ্জিভরম: দক্ষিণ ভারতের উজ্জ্বল রং ও ঘন রেশমি বুটি। আভিজাত্যের শেষ কথা বলে এই তাঁত।
জামদানিতে সুতোর সূক্ষ্ম কাজ।
জামদানি: হাওয়ায় ভেসে থাকা যেন নকশাদার স্বপ্ন। স্বচ্ছ সুতোর ওপর সূক্ষ্ম কাজের এই বয়ন বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত।
এই ফ্যাশন কিন্তু কেবল সাজগোজের প্রদর্শনীতে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে প্রান্তিক তাঁতিদের দিনযাপনের যুদ্ধ। একটি হ্যান্ডলুমের পোশাক কেনা মানে গ্রামবাংলার এক জন দরিদ্র বয়নশিল্পীর মুখে হাসি ফোটানো। তরুণ প্রজন্ম যত বেশি দেশি বয়নশিল্প বেছে নেবে, ততটাই মজবুত হবে গ্রামীণ অর্থনীতি।
