'পুরনো সেই দিনের' কথা মনে করে 'নস্টালজিক' মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজনৈতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের ঝাঁপি খুললেন মুখ্যমন্ত্রী। নবান্নে বিরোধী বিধায়কদের সঙ্গে খোলামেলা আলাপচারিতায় অজানা অধ্যায়ের গল্প বললেন তিনি। একদা সঙ্গী ফিরহাদের দিকে তাকিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নাকি বললেন, "কেন তৃণমূল ছেড়েছি ববিদারা সবই জানে।"
শুক্রবার দুপুরে ঋতব্রতদের সঙ্গে নবান্নে ঘণ্টা দেড়েক বৈঠক করেন শুভেন্দু অধিকারী। উপস্থিত ছিলেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, অরূপ রায়রা। সেই বৈঠকের শেষে পুরনো সঙ্গীদের দেখে ক্ষণিকের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসেন শুভেন্দু। সেখানে না কি, শুভেন্দু জানান, সুব্রতদা (প্রয়াত সুব্রত মুখোপাধ্যায়), আমি ক্যাবিনেট বৈঠকে কত বিষয়ে আলোচনা করতাম। ববিদারা জানে।
এরপরই তাঁর তৃণমূল ছাড়ার প্রসঙ্গ উঠে আসে সেখানে। স্মৃতিচারণায় শুভেন্দু নাকি বলেছেন, "২০১১ সাল ২১ জুলাই মঞ্চে বক্তব্য রাখছি। আমার হাত থেকে মাইক কেড়ে অন্য একজনকে দিয়ে দেওয়া হয়। তখনই বুঝতে পারি আর তৃণমূল করা যাবে না। সেই সব কি ভুলে গিয়েছি? তৃণমূলে ভাইপো রাজ শুরু হয়েছিল।"
বৈঠকে পর বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার ঘরে আসেন বিরোধী বিধায়করা। সেখানে ফিরহাদ বলেন, "জ্যোতি বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তিন মুখ্যমন্ত্রী দেখেছি। শুভেন্দুর আন্তরিকতা বেশি। এমনটা দেখিনি। শুনেছি বিধান রায় এই রকমই আন্তরিক ছিলেন।" সেই আলোচনার সময় বিরোধী নেতারা জানান, তৃণমূলে থাকা সময়ের স্মৃতিচারণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, এসআইআরের ট্রাইব্যুনাল নিয়ে আলোচনার জন্য শুক্রবার দুপুর নাগাদ নবান্নে গিয়েছিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে মোট ১৩ বিধায়ক। তাঁদের রীতিমতো অতিথি আপ্যায়ণ করেন মুখ্যমন্ত্রী! সূত্রের খবর, নানা পদে পাত সাজিয়ে দেওয়া হয় তাঁদের। জবরদস্ত মেনু। ফিশরোল, চিকেন স্প্রিং রোল, কালাকাঁদ, মিষ্টিসুখ, কুকিজ - কী না ছিল? সেইসঙ্গে চা, ব্ল্যাক কফিও।
