প্রায় এক দশক ধরে কলেজে ছাত্র নির্বাচন বন্ধ রেখেছিল আগের তৃণমূল কংগ্রেস সরকার। বঙ্গে পালাবদলের পর ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর শীঘ্রই সমস্ত কলেজে ছাত্র নির্বাচন হবে। নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত শিক্ষা মেলায় দাঁড়িয়ে কলেজে নির্বাচন নিয়ে এমনই বার্তা দিলেন বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ। ছাত্র নেতৃত্ব থেকে রাজনীতিতে আসা বরানদরের বিধায়কের দাবি, “এতদিন তৃণমূলের এক দলের সঙ্গে অন্য দলের গোলমালের কারণেই এই নির্বাচন করানো হয়নি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোনও ছাত্রনেতা ছিলেন না। আসল ছাত্রনেতা ছিলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাই তাঁর কাছে নির্বাচন নিয়ে আবেদন করতে হবে না। নিজে থেকেই ছাত্র সংসদ নির্বাচন হবে।"
প্রসঙ্গত, তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ছাত্র সংসদের নির্বাচন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এই বিষয়ে আদালতে মামলাও হয়। করোনা অতিমারি সময়ের থেকে ওই নির্বাচন করার পরিস্থিতি ছিল না বলে দাবি করেছিল সেই সরকার। একসময় ছাত্র সংসদও ভেঙে দেওয়া হয়েছিল কলেজগুলিতে। তবে তৃণমূলের ছাত্রনেতারা কলেজগুলির ক্ষমতাতেই জাঁকিয়ে থাকত বলে অভিযোগ। পালাবদলের পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানিগুলিতেও রাজনৈতিক রং বদল হতে শুরু করেছে বলে খবর।
সজল বলেন, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোনও ছাত্রনেতা ছিলেন না। আসল ছাত্রনেতা ছিলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাই তাঁর কাছে নির্বাচন নিয়ে আবেদন করতে হবে না। নিজে থেকেই ছাত্র সংসদ নির্বাচন হবে।"
সম্প্রতি অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদও (এবিভিপি) অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল স্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিবেশ ধ্বংস করেছে। উল্লেখ্য, এতদিন চাকরি বিক্রির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নাম পাঠ্যক্রমে দেখা যেত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিঙ্গুরের জমিতে বীজ ছড়াচ্ছেন তা ছিল অষ্টম শ্রেণির ইতিহাসের সিলেবাসে। এদিন সেই প্রসঙ্গ টেনে সজল ঘোষ পাঠ্যক্রম থেকে সিঙ্গুর আন্দোলন বাদ দেওয়ার জন্য জোরালো সওয়াল করেন। এমনকী, মোগল আমলের ইতিহাসও 'বিকৃত' দাবি করে সেই সবও ইতিহাসের বইয়ের পাতা থেকে সরানোর দাবি তুলেছেন।
কলেজগুলিতে তৃণমূলের ছাত্র সংসদের শিক্ষা দুর্নীতির প্রমাণ দিয়ে গত শুক্রবারই সজল সোশাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করেছিলেন সজল। সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ছাত্র সংসদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ফাংশন করানোর জন্য কোটি কোটি টাকা জমা থাকার প্রমাণ তুলে ধরেছেন তিনি। সেই প্রসঙ্গ টেনেই শনিবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তৃণমূলকে আক্রমণ করেন বরানগরের বিধায়ক। বললেন, "কলেজের প্রকৃত অ্যাকাউন্টে টাকা নেই। তাহলে ছাত্র সংসদের অ্যাকাউন্টে কী করে কোটি কোটি টাকা এল? তৃণমূল কালোবাজারি করে শিক্ষাটাকে প্রাইভেটে বেচছিল।"
প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে খোঁচা দিয়ে স্কুলের সিলেবাস শীঘ্রই পরিবর্তন করা হবে বলেও এদিন জানালেন বিজেপি বিধায়ক। এখনও স্কুল শিক্ষা মন্ত্রক গঠিত হয়নি। নতুন সরকারের নির্দেশে ভেঙে দেওয়া হয়েছে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ, উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ-সহ পুরনো সব সংগঠনও। এই পরিস্থিতিতে স্কুলে সিলেবাস পরিবর্তন ও কলেজে পেশামুখী কোর্স চালুর উপরে জোর দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
