Advertisement
'এক পুরুষের সঙ্গে থাকার দরকার নেই', মেয়েকে একাধিক প্রেমের পরামর্শ দিয়ে বিতর্কে কিয়ারা
২০২৫ সালে কোল আলো করে আসে একমাত্র মেয়ে। তবে এখনও সকলের সামনে মেয়ের ছবি প্রকাশ করেননি কিয়ারা। সম্প্রতি মাতৃদিবসে মাতৃত্ব পরবর্তী যন্ত্রণার কথা বলেন অভিনেত্রী।
ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে মেয়ে। মা হিসাবে তাকে পরামর্শ দিয়ে জীবন পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই দায়িত্ব। মেয়ে বড় হওয়ার পর সম্পর্ক নিয়ে কী বলবেন, তা-ও স্থির করে রেখেছেন কিয়ারা। অভিনেত্রী মোটেও চান না তাঁর কন্যাসন্তান শুধুমাত্র এক পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক রাখুক। চাইলে সে একাধিক ব্যক্তির প্রেমে পড়তে পারেন বলেই জানিয়েছেন।
কিয়ারা নিজেও অনেকের সঙ্গে ডেটিং করেছেন বলেই জানান। তবে সিদ্ধার্থের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাৎ 'শেরশাহ'র সেটে। সেখানেই প্রেমের শুরু। পরবর্তীকালে ২০২৩ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি চারহাত এক হয়। রাজস্থানের সূর্যগড় প্রাসাদে বসে বিয়ের আসর। ২০২৫ সালে কোল আলো করে আসে একমাত্র মেয়ে। তবে এখনও সকলের সামনে মেয়ের ছবি প্রকাশ করেননি কিয়ারা। সম্প্রতি মাতৃদিবসে মাতৃত্ব পরবর্তী যন্ত্রণার কথা বলেন অভিনেত্রী।
সম্প্রতি রাজ শামানির পডকাস্টে এই প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন কিয়ারা। তিনি দাবি করেন, "আমি আমার মেয়ের জীবনে কোনও আক্ষেপের সাক্ষী থাকতে চাই না। আমি একেবারেই চাই না ও ভাবুক একজনের সঙ্গে ডেটিংয়ে যেতে হবে। কিংবা তাকেই বিয়ে করতে হবে। কোনও বিধিনিষেধ নেই। চাইলে বিয়ে করবে। না চাইলে নাও করতে পারে।"
কিয়ারা মেয়েকে বলবেন, "চাইলে একাধিক পুরুষের প্রেমে পড়তে পারে। ডেটিংয়ে যেতে পারে।" অভিনেত্রী আরও জানান, একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে নাকি ডেটিংয়ে গিয়েছেন। একসময় ভেবেছিলেন হয়তো তাঁদের অনেককেই বিয়ে করবেন। তবে তিনি যে শেষমেশ সত্যিকারের ভালোবাসার মানুষকে খুঁজে পেয়েছেন তাতে নিজেকে 'ভাগ্যবতী' বলেই মনে করেন কিয়ারা।
অভিনেত্রী ওই সাক্ষাৎকারে আরও জানান, "ভগবানকে ধন্যবাদ যে উনি আমার জীবনসঙ্গী হিসাবে সিদ্ধার্থ মালহোত্রাকে বেছে দিয়েছেন।" কিয়ারা বিশ্বাস করেন, প্রতিটি সম্পর্কই জীবনে কিছু না কিছু শিক্ষা দেয়। তিনি মনে করেন, "আজ আমি জীবনে যতটুকু বাস্তব শিক্ষা পেয়েছি, তাতে একসময়ের মনের মানুষদের যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে।"
কিয়ারা জানান মেয়ে আর একটু বড় হলেই বলবেন, "জীবনে যা ঘটবে তা থেকে অবশ্যই অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করো। তবে নিজে কোনটা চাও আর কোনটা চাও না - তা বুঝতে যেন ভুলভ্রান্তি না হয়। তুমি এমন কিছু সিদ্ধান্ত নেবে যেগুলো পরে পেছন ফিরে তাকালে হয়তো সেরা মনে হবে না। কিন্তু তুমি সেগুলো থেকে কী শিখলে এবং কী গ্রহণ করলে, সেটাই আসল।"
একাধিক প্রেম নিয়ে কিয়ারার খোলামেলা মনোভাব মোটেও ভালো চোখে দেখছেন না অনেকেই। তাই স্বাভাবিকভাবেই উঠেছে বিতর্কের ঝড়। কিয়ারার মনোভাব ভারতীয় সংস্কৃতির পরিপন্থী বলেই রে রে করে উঠেছেন অনেকে। তবে একেবারে কেউই যে কিয়ারার পাশে নেই তা নয়।
কিয়ারা আসলে বরাবরই বেশ সাহসী। এর আগেও একাধিকবার বিতর্কে জড়িয়েছেন অভিনেত্রী। অনস্ক্রিন স্বমেহন থেকে নগ্ন শরীর ঢাকতে কলাপাতার ব্যবহার - কম সাহসিকতার পরিচয় দেননি তিনি। বারবারই সমালোচনার শিকার হয়েছেন। তবে অভিনয় দক্ষতা, তাঁর সাবলীলতার জন্য পেয়েছেন দর্শকদের প্রশংসাও। যা তাঁকে যেন আরও নতুন কিছু করার সাহস জুগিয়েছে।
'লাস্ট স্টোরিজ' সিরিজের একটি দৃশ্যে তাঁকে ভাইব্রেটর ব্যবহার করতে দেখা গিয়েছে। ওই দৃশ্য নেটদুনিয়ায় ঝড় তোলে। চরম যৌনসুখ উপলব্ধি করার যে সাবলীল ভঙ্গিমা তা যেমন প্রশংসিত। আবার তেমনই ওয়েব সিরিজে এমন খোলামেলা দৃশ্যের ব্যবহার নিয়ে অনেকে রক্তচক্ষুও দেখান। সবমিলিয়ে ওই দৃশ্য যে নেটদুনিয়ায় ঝড় তোলে, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। বলা যায়, এখান থেকেই কেরিয়ারের মোড় ঘুরে যায় কিয়ারার।
ডাব্বু রত্নানির ক্যালেন্ডার শুটেও সাহসী কিয়ারা ধরা দেন। সেই ছবিতে ঊর্ধ্বাঙ্গে সুতোও ছিল না অভিনেত্রী। কলাপাতা দিয়ে ঢাকা স্তন। মোমপালিশ ত্বক দেখে উৎসুক নেটিজেনরা প্রশংসার ঝড় বইয়ে দেয়।
কিয়ারা আডবানী অভিনীত আরেক ওয়েব সিরিজ ‘গিলটি’ নিয়েও আলোচনাও কম হয়নি। সেখানে উন্মুক্ত বক্ষ বিভাজিকায় ট্যাটু করে লেখা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি গানের লাইন- ‘একলা চলো রে’। আর এই নিয়েই নেটদুনিয়ায় কটাক্ষের শিকার হন কিয়ারা। গানের ট্যাটু বানানো নিয়ে অবশ্য আপত্তি নেই নেটিজেনদের। তাদের সমস্যা ট্যাটুর জায়গা নিয়ে। উন্মুক্ত বক্ষ বিভাজিকায় ‘একলা চলো রে’ লেখা অপসংস্কৃতির বলে মন্তব্য করেন কেউ কেউ।
Published By: Sayani SenPosted: 10:33 AM May 17, 2026Updated: 10:33 AM May 17, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
