রামনবমীর শোভাযাত্রা ঘিরে কোনওরকম অশান্তি এড়াতে রাজ্যজুড়ে মোতায়েন থাকছে বিশাল সংখ্যক পুলিশবাহিনী। বৃহস্পতিবারই কলকাতা-সহ একাধিক জেলায় রামনবমীর মিছিল বেরবে। আর তার আগেই বুধবার নবান্নে ভিডিও কনফারেন্সে সমস্ত জেলার ডিএম, এসপি, সিপি-দের সঙ্গে বৈঠক করেন রাজ্যের মুখ্যসচিব দুষ্যন্ত নারিয়ালা। ছিলেন স্বরাষ্ট্রসচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি, এডিজি আইনশৃঙ্খলা-সহ উচ্চপদস্থ আমলারা।
নবান্ন সূত্রে খবর, মিছিলে অশান্তি যাতে না হয়, তার জন্য পুলিশকে একাধিক নির্দেশ দেওয়া হয়। হাওড়া, চন্দননগর এবং ইসলামপুরে বাড়তি নজরদারি থাকছে। কারণ অতীতে দেখা গিয়েছে, এই সমস্ত এলাকায় রামনবমীর মিছিল ঘিরে অশান্তির ঘটনা ঘটে। রাজ্যজুড়ে মোট ৩ হাজার পুলিশ মোতায়েন থাকবে বলে ঠিক হয়েছে। আর কলকাতার জন্য হাজারখানেক পুলিশ থাকবে। পাশাপাশি প্রয়োজনে সিআরপিএফের সাহায্য নেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে।
উসকানিমূলক পোস্ট ছড়ানো রুখতে চালানো হচ্ছে সাইবার টিম নজরদারি। এদিনের বৈঠক থেকে সমস্ত জেলাশাসক এবং পুলিশ কমিশনার ও পুলিশ সুপারদের ২৬ তারিখ থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত এই বিশেষ নজরদারি চালাতে বলা হয়েছে।
পাশাপাশি পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আদালতের নির্দেশ মেনেই মিছিল করতে হবে। কোনওভাবেই অস্ত্র নিয়ে শোভাযাত্রা করা যাবে না। নির্দেশ অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নবান্নের কর্তারা জানাচ্ছেন, যাদের যে সময় এবং রুট ঠিক করে দেওয়া হয়েছে সেই নির্দিষ্ট রুটেই নির্দিষ্ট সময় মেনে মিছিল করতে হবে। পাশাপাশি শোভাযাত্রায় যাতে ৫০০-র বেশি মানুষ না থাকেন, তা নিশ্চিত করা হবে। কোনরকম অস্ত্র নিয়ে মিছিল করা যাবে না। একইসঙ্গে নজরদারির জন্য নবান্নে কন্ট্রোল রুম খোলা থাকবে।
লালবাজার সূত্রে খবর, রামনবমীতে কলকাতায় প্রায় ৬০টি মিছিল বেরবে। তার মধ্যে পাঁচটি বড় মিছিল শুরু হবে এন্টালি, পিকনিক গার্ডেন, সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ, হেস্টিংস, কাশীপুর থেকে। প্রত্য়েকটি মিছিলেই থাকবে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ।
কলকাতা পুলিশের তরফেও রাস্তায় বাড়তি বাহিনী মোতায়েন থাকবে। লালবাজার সূত্রে খবর, রামনবমীতে কলকাতায় প্রায় ৬০টি মিছিল বেরবে। তার মধ্যে পাঁচটি বড় মিছিল শুরু হবে এন্টালি, পিকনিক গার্ডেন, সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ, হেস্টিংস, কাশীপুর থেকে। প্রত্য়েকটি মিছিলেই থাকবে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ। রামনবমীর মিছিলে থাকা পুলিশ আধিকারিক ও পুলিশকর্মীদের শরীরে ‘প্রোটেকটিভ গিয়ার’ থাকবে। যদি কেউ ইট বা বোতল নিয়ে হামলা চালায়, সঙ্গে সঙ্গেই যেন পুলিশ এগিয়ে গিয়ে ব্যবস্থা নেবে।
মিছিলগুলির উপর আকাশপথে নজর রাখবে ড্রোন। মিছিলের আগে ও পরে হাঁটবে পুলিশ। থাকবে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশের গাড়িও। আশপাশের রাস্তাগুলিতে থাকবে পুলিশের টহলদার গাড়ি। পুলিশের নির্দেশ, বাইক নিয়ে মিছিল করা যাবে না। একমাত্র নির্দিষ্ট রুটেই মিছিল করা যাবে। প্রত্য়েকটি মিছিলের রুট, বিশেষ করে বড় মিছিলের রুটে থাকবে অতিরিক্ত সিসিটিভি ক্যামেরা। সিসিটিভি মনিটরে নজর রাখবে পুলিশ। এ ছাড়াও পুলিশকর্মী ও আধিকারিকদের পোশাকের সঙ্গে বডি ক্যামেরাও থাকবে।
