প্রায় চারমাস ধরে রাজ্যে ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধনের কাজ হয়েছে। এমনকী জটিলতার জেরে নির্ধারিত দিনের চেয়ে দু'সপ্তাহ অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়েছে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের জন্য। সেসব সেরে ২৮ ফেব্রুয়ারি, শনিবার তা প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু হাজার ঝাড়াই-বাছাইয়ের পরও দেখা গেল, 'ভূত' তাড়ানো গেল না! জীবিত ভোটারদের নামের পাশেও লেখা 'মৃত'। এমনকী যাঁদের শুনানিতে ডাকা হয়নি, সেসব নামও বাতিল হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। রবিবার সাংবাদিক বৈঠকে সেই পরিসংখ্যান তুলে ধরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, ''কাল (শনিবার) রাতে 'একডাকে অভিষেক'এ আমাকে ফোন করেছেন অন্তত ২৪৩ জন। তাঁরা জীবিত থাকা সত্ত্বেও নামের পাশে লেখা - মৃত। এঁরা সবাই অত্যন্ত উদ্বিগ্ন, সাহায্য চাইছেন। এই সংখ্যা তো আরও বাড়বে।''
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, ''কাল (শনিবার) রাতে 'একডাকে অভিষেক'এ আমাকে ফোন করেছেন অন্তত ২৪৩ জন। তাঁরা জীবিত থাকা সত্ত্বেও নামের পাশে লেখা - মৃত। এঁরা সবাই অত্যন্ত উদ্বিগ্ন, সাহায্য চাইছেন। এই সংখ্যা তো আরও বাড়বে।''
হিসেব আর হিসেব। যোগ্য, বিচারাধীন, মৃত, স্থানান্তরিত - সবধরনের ভোটারদের সংখ্যা গোঁজামিল দিয়ে মিলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে, তা চূড়ান্ত ভোটার তালিকা দেখলেই স্পষ্ট হয়। এমন বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি যে তৈরি হবে, গোড়া থেকে সেই আশঙ্কা করেছিল শাসকদল তৃণমূল। আর তাই বিএলএ-দের আলাদা করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকী খসড়া তালিকায় বাদ পড়া বেশ কয়েকজনকে অভিষেক নিজের কর্মসূচির মঞ্চে হাজির করিয়ে প্রমাণ দিয়েছিলেন। কিন্তু চূড়ান্ত তালিকাতেও দেখা গেল 'ভূতে'র কমতি নেই!
এনিয়ে অভিষেকের বক্তব্য, ''এভাবে জীবিতকে মৃত দেখানো তো ক্রিমিনাল অফেন্স। যারা এসবের সঙ্গে যুক্ত, তারা ভাবছেন ছাড় পাবেন? পাবেন না। পরে বিজেপি ক্ষমতায় থাকবে না। আপনাদের বিচার হবেই। জ্ঞানেশ কুমার বলেছিলেন, খসড়া তালিকায় নাম উঠল সেটা আর বাদ যাবে না। লজিক্যাল ডিসক্রিপান্সি থাকলে শুধু নথি জমা দিলেই হবে। কিন্তু নাম থাকার পরও যদি ডিলিট করেন, আজ বলে দিচ্ছি, তালিকা প্রকাশ্যে আনব, সুপ্রিম কোর্টে। এই তালিকা তুলে দেব শীর্ষ আদালতে। তারপর তাঁরা যা সিদ্ধান্ত নেবেন। খসড়া তালিকায় একজনের নাগরিকত্ব প্রমাণিত। ভোটাধিকার তাই দিতেই হবে। আপনাকে চ্যালেঞ্জ করলাম, আমার নামে মামলা করুন। আমি তাহলে মামলা লড়ার সুযোগ পাব। ধরে ধরে মুখোশ খুলব। আপনি যাদের অ্যাজুডিকেট (বিচারাধীন) করেছেন, তারাই আপনাদের ৬ মাসের মধ্যে বিচারাধীন করবে।''
