বাংলায় সফরে এসে বিজেপির কর্মিসভায় আনন্দপুরের অগ্নিকাণ্ড নিয়ে সরব হয়েছেন অমিত শাহ। শুধু তাই নয়, নাজিরবাদের ওই মর্মান্তিক ঘটনার জন্য তৃণমূল কংগ্রেসকেই দায়ী করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এবার অমিত শাহকে নিশানা করে পালটা মন্তব্য করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। "লাশ নিয়ে রাজনীতি করছে বিজেপি।" সেই কটাক্ষ করেছেন তিনি। শুধু তাই নয়, ওই ঘটনায় জড়িত হলে যত বড় শিল্পপতি হোক, ছাড় পাবেন না। সেই কথাও জানিয়েছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ।
এদিন কলকাতা থেকে দিল্লি রওনা হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দুপুরে কলকাতা বিমান বন্দরে পৌঁছে তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন। সেখানেই তিনি বিজেপিকে আক্রমণ করেন। আনন্দপুরের অগ্নিকাণ্ড নিয়েও মন্তব্য করেন। বারাকপুরের মঞ্চ থেকে ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা প্রসঙ্গে এদিন তৃণমূল সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেছেন অমিত শাহ। তিনি প্রশ্ন তুললেন এত মৃত্যু, এত মানুষ নিখোঁজ। তারপরও কেন গ্রেপ্তার করা হল না মোমো সংস্থার মালিককে? মৃতদের পরিবারকে শাহের আশ্বাস, ছাব্বিশে বিজেপি ক্ষমতায় এলে দোষীরা শাস্তি পাবেই।
এদিন সেই বিষয়ে অভিষেক বলেন, "একটি দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে। তবে একটি প্রাইভেট গোডাউনে কোথায় কী রয়েছে? সেসব খতিয়ে দেখা সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়। তবে অগ্নিকাণ্ডের পরে ওই গোডাউনের মালিক এবং পার্শ্ববর্তী মোমো কোম্পানির দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই ম্যানেজারকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে।" এরপরই সুর চড়িয়ে অভিষেক কটাক্ষ করেন, "একটা ঘটনাকে নিয়ে রাজনীতি করা বিজেপির কায়দা। শকুনের মতো মৃতদেহ খোঁজে। মৃত্যুর রাজনীতি করে। লাশের রাজনীতি করে।" তৃণমূল সাংসদের কথায়, "কোথাও কোনও ভুলত্রুটি ঘটলে সকলকে কাঁধ মিলিয়ে সুনিশ্চিত করতে হবে, যাতে তার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।"
আনন্দপুরের ঘটনার সঙ্গে জড়িত হলে যত বড় শিল্পপতিই হোক, ছাড় পাবেন না। সেই কথাও এদিন অভিষেক জানিয়ে দিলেন। এদিন অমিত শাহ প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন, “উনি কার সঙ্গে বিদেশ সফরে যান? সেই কারণেই কী রাজ্য চুপ?” সম্প্রতি একটি ছবি প্রকাশ্যে এসেছে। যেখানে স্পেনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে এক ছবিতে দেখা যাচ্ছে মোমো সংস্থার মালিককে। সেই নিয়েই বিজেপি এবার শোরগোল শুরু করে দিয়েছে বলে মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের। সেই বিষয় নিয়েও এদিন একহাত নিয়েছেন অভিষেক।
তাঁর পালটা প্রশ্ন, "শিল্পপতি হিসাবে রাজ্য সরকারের প্রতিনিধিরা যাবেন না তো কারা যাবেন?" অভিষেক সুর চড়িয়ে বলেন, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিদেশ সফরে গিয়েছেন বলে মর্মান্তিক ঘটনা নিয়ে রাজনীতি করছেন। নীরব মোদি বা মেহুল চোকসির মতো ব্যবসায়ীরা দেশকে সর্বস্বান্ত করে ১৫ থেকে ২০ হাজার কোটি টাকার ঋণ নিয়ে পালিয়েছেন। তাঁরা মোদির সঙ্গে বিদেশ সফর করেছেন।" শুধু তাই নয়, বর্ষবরণের সময় গোয়ার ক্যাফের আগুন, সম্প্রতি মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরের বিষজল পানে মৃত্যুর ঘটনাতেও প্রধানমন্ত্রী-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দোষারোপ করা উচিত। সেই কথা বলেন অভিষেক।
