চারমাস ধরে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের কাজ শেষের পর শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি বিকেলে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে। এসআইআর শুরু হওয়ার আগে ভোটার সংখ্যা থেকে চূড়ান্ত তালিকায় বাদ পড়েছেন ৬৩ লক্ষের বেশি। তাতে রয়েছেন বেশ কয়েকজন জনপ্রতিনিধিও। বহু নাম এখনও বিচারাধীন। ভোটার হিসেবে তাঁদের পরিচয় এখনও অনিশ্চিত। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের উপর দায় চাপিয়ে একহাত নিল শাসকদল তৃণমূল। ফেসবুক পোস্টে তাদের সরাসরি প্রশ্ন, 'নির্বাচন কমিশন আর কত নিচে নামবে? খসড়ার তালিকার পর চূড়ান্ত তালিকাতেও কারচুপি করে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দিয়েছে এই বিজেপির দালালরা!'
ফেসবুক পোস্টে তাদের সরাসরি প্রশ্ন, 'নির্বাচন কমিশন আর কত নিচে নামবে? খসড়ার তালিকার পর চূড়ান্ত তালিকাতেও কারচুপি করে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দিয়েছে এই বিজেপির দালালরা! বিজেপির বেঁধে দেওয়া কোটির গণ্ডি পার করতে কি একের পর এক ভোটারের নাম এভাবে বাদ দেবে 'দালাল' কমিশন? নাকি আবারও BLO-দের ঘাড়ে দায় চাপিয়ে হাত ধুয়ে ফেলবে?'
তৃণমূলের পোস্ট থেকে জানা যাচ্ছে, চূড়ান্ত তালিকায় নৈহাটি পুরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুশান্ত সরকার ও তাঁর মা আরতি সরকারের নামের পাশে লেখা 'ডিলিট'। বিস্ময়কর বটে! যিনি জনতার ভোটে জয়ী হয়ে কাউন্সিলরের দায়িত্ব পালন করছেন, তাঁর নাম কীভাবে বাদ চলে যায়? সেই প্রশ্নই তুলেছে শাসকশিবির। কোন অজুহাতে কাউন্সিলর ও তাঁর মায়ের নাম 'ডিলিট' করা হল? এতেই অভিযোগ পাকাপোক্ত হচ্ছে যে কারচুপি করে বৈধ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। ফেসবুক পোস্টে তৃণমূলের আরও দাবি, 'বিজেপির বেঁধে দেওয়া কোটির গণ্ডি পার করতে কি একের পর এক ভোটারের নাম এভাবে বাদ দেবে 'দালাল' কমিশন? নাকি আবারও BLO-দের ঘাড়ে দায় চাপিয়ে হাত ধুয়ে ফেলবে?'
নিজের নাম বাদ পড়ার পর শনিবার সাংবাদিক বৈঠক করে সুশান্ত সরকার জানান, তাঁকে শুনানির জন্য ডাকা হয়েছিল এবং তিনি উপস্থিত থেকেও সমস্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিয়েছিলেন। তবুও তাঁর ও তাঁর মায়ের নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, এটি সম্পূর্ণভাবে বিজেপির একটি পরিকল্পিত চক্রান্ত।
নৈহাটির কাউন্সিলর সুশান্ত সরকার ও তাঁর মা আরতি সরকারের নাম ভোটার তালিকায় 'ডিলিটেড'। নিজস্ব ছবি
শুধু নাম বাদই নয়, জনপ্রতিনিধিদের নামের পাশে বিচারাধীন বা অ্যাজুডিকেশন লেখা রয়েছে। এই তালিকায় রয়েছেন আমডাঙার তৃণমূল বিধায়ক রফিকুর রহমান। শুনানিতে সমস্ত নথি জমা দেওয়ার পরও চূড়ান্ত তালিকায় তাঁর নামের পাশে 'বিচারাধীন' লেখা। এনিয়ে এখনও বিধায়কের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এই তালিকায় রয়েছেন এক প্রাক্তন সাংসদ ও তাঁর স্ত্রী। এসইউসিআই-এর প্রাক্তন সাংসদ ডা: তরুণ মণ্ডল ও তাঁর স্ত্রী ডা: মহুয়া নন্দ মণ্ডলের নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে। অথচ শুনানিতে সমস্ত কাগজ জমা দিয়েছিলেন। এসব নিয়েই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে রাজ্যের শাসক শিবির।
