স্টাফ রিপোর্টার: অচলাবস্থা কাটল না কলকাতা হাই কোর্টে। গত এক মাস ধরে চলা কর্মবিরতি অব্যাহত রইল সোমবারও। আগামী ২রা এপ্রিল পর্যন্ত চলবে এই কর্মবিরতি। ফলে সমস্যা কাটল না। সাধারণ প্রচুর বিচারপ্রার্থী এদিনও এসে ফিরে গেলেন হতাশ হয়ে। উল্লেখ্য, বিচারপতি সংকটের জেরে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে কর্মবিরতির ডাক দেয় আইনজীবীদের তিনটি সংগঠন। বার অ্যাসোসিয়েশন, বার লাইব্রেরি, ইনকর্পোরেটেড ল অ্যাসোসিয়েশনের তরফে এই কর্মবিরতি ডাকা হয়েছিল। সোমবার এক মাসের মাথায় সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা ছিল তা উঠবে কিনা! সেই মতো বৈঠকে বসেন সংগঠনের নেতৃত্ব। সেখানেই ফের কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
[হাওড়া স্টেশনের নিউ কমপ্লেক্সে আগুন, পুড়ে ছাই বহু নথি]
বিচারপতিদের দাবি, কলকাতা হাই কোর্টে ৭২ জন বিচারপতি থাকার কথা। সেখানে ছিল মাত্র ২৭ জন। সম্প্রতি আরও তিনজন নিয়োগ করা হয়েছে। অর্থাৎ ৩০ জন। কিন্তু বাকি পদ এখনও শূন্য। তা পূরণের দাবি তুলেই এই কর্মবিরতি। তাঁদের আরও দাবি, কয়েক লক্ষ মামলা ঝুলে রয়েছে। হাতে গোনা কয়েকজন বিচারপতির পক্ষে তা সামাল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আদালতের অচলাবস্থা নিয়ে ইতিমধ্যেই দেশের প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র এবং কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন হাইকোর্টের আইনজীবীদের প্রতিনিধিরা। তাতেও অবশ্য কমর্বিরতি ওঠেনি। আর এই কর্মবিরতির ফলে সমস্যায় পড়ছেন অসংখ্য সাধারণ মানুষ।
রোজই মামলা নিয়ে আদালতে এসে ফিরে যাচ্ছেন অনেকে। সমস্যায় পড়েছেন ছোট উকিলরাও। কারণ তাঁদের রোজগারও বন্ধ। সূত্রের খবর, কলকাতা হাই কোর্টের ইতিহাসে এতদিন ধরে টানা কর্মবিরতি কখনও চলেনি। সমস্যায় পড়েননি সাধারণ মানুষ। আগামী ২রা এপ্রিল ফের বৈঠকে বসবেন তিনটি সংগঠনের আইনজীবীরা। ওইদিনই সিদ্ধান্ত হবে কর্মবিরতি উঠবে? না তা চালিয়ে যাবেন তাঁরা।
[দূরপাল্লার ট্রেনে সিভিক ভলান্টিয়ারদের তোলাবাজিতে নাকাল যাত্রীরা]
এদিকে আইনজীবীদের সিদ্ধান্ত সমস্যা বাড়াচ্ছে মামলাকারীদের। মামলার দিন পিছিয়েই যাচ্ছে। তাঁরা এসে ফিরে যাচ্ছেন। শহরতলি এবং গ্রাম থেকেও প্রচুর মানুষ আসেন রোজ। তাঁরা সমস্যায় পড়ছেন। হাই কোর্ট খুলতে পারে এই আশা নিয়ে এদিন অনেকেই এসেছিলেন আদালত চত্বরে। কিন্তু বেলায় খবর পেয়ে তাঁরা হতাশ হয়ে ফিরে যান।
The post হাই কোর্টে কর্মবিরতির সময়সীমা আরও বাড়ল, দুর্ভোগে বিচারপ্রার্থীরা appeared first on Sangbad Pratidin.
