shono
Advertisement
Signature fraud case

বিধায়কদের সই জাল করলে হতে পারে কী সাজা? উভয় সংকটে তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিরা!

জানা গিয়েছে, ১৯ তারিখ বৈঠকে প্রথম দিনের বৈঠকের থেকেও কমবেশি ২০ বিধায়ক অনুপস্থিত ছিলেন। প্রশ্ন এখানেই, তাহলে ৭০ জন বিধায়কের সই এলো কোথা থেকে?
Published By: Arpita MondalPosted: 03:57 PM May 30, 2026Updated: 04:01 PM May 30, 2026

ঠিক যেন জলে বাঘ, ডাঙায় কুমির। সই জালিয়াতির কাণ্ডে যথেষ্ট চাপে তৃণমূল বিধায়করা! এগোলে সিআইডি, পিছোলে দল। সই জাল নিয়ে বিতর্কে মুখ খুললেই বিপদ আসন্ন, তা বেশ টের পাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়করা। বিরোধী দলনেতার নামের সপক্ষে দেওয়া প্রস্তাবে অনেক বিধায়কদের সই জাল করার অভিযোগ উঠেছে। সূত্রের খবর, তৃণমূলের অনেক বিধায়কই এই অভিযোগে সিলমোহর দিয়েছেন। দলে থেকেও মুখ খুলতে শুরু করেছেন অনেকেই।

Advertisement

জানা গিয়েছে, ১৯ তারিখ বৈঠকে প্রথম দিনের বৈঠকের থেকেও কমবেশি ২০ বিধায়ক অনুপস্থিত ছিলেন। প্রশ্ন এখানেই, তাহলে ৭০ জন বিধায়কের সই এলো কোথা থেকে?

সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, ভোটের ফল প্রকাশের ঠিক একদিন পর ৬ মে কালীঘাটের বাড়িতে বৈঠকে উপস্থিত সব বিধায়করাই হাত তুলে সমর্থন জানিয়েছিলেন যে সকলেই শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা মেনে নিচ্ছেন। ঠিক তার পরের সপ্তাহে খাতায় কলমে সম্মতি আদায় করতে ১৯ তারিখ বৈঠকে বিধায়কদের স্বাক্ষর পর্বের আয়োজন করে তৃণমূল কংগ্রেস। সূত্রের খবর, ৬ তারিখের বৈঠকে ৭০ জনের বেশি বিধায়ক ছিলেন, যেখানে তৃণমূলের জয়ী বিধায়ক সংখ্যা ৮০। ওইদিন অনুপস্থিত বিধায়করা ভোট পরবর্তী হিংসায় আক্রান্ত কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে নিজেদের এলাকায় ছিলেন বলে দলকে জানিয়েছিলেন। তবে জানা গিয়েছে, ১৯ তারিখ বৈঠকে প্রথম দিনের বৈঠকের থেকেও কমবেশি ২০ বিধায়ক অনুপস্থিত ছিলেন। প্রশ্ন এখানেই, তাহলে ৭০ জন বিধায়কের সই এলো কোথা থেকে?

বিএনএসের নিয়ম অনুযায়ী, কোনও বিধায়কের সই জালের মতো দণ্ডনীয় অপরাধের ন্যূনতম শাস্তি হতে পারে ৭ বছরের জেল। সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন করাদণ্ডও হতে পারে অপরাধীর!

যে বিধায়করা নিজে বৈঠকে উপস্থিত থেকে দলের রেজোলিউশনে সই করেছেন, এমন অনেকের বক্তব্য, 'সই জাল তো আসলে দণ্ডনীয় অপরাধ। আমরা সই করেছি আমাদের অসুবিধা নেই, কিন্তু যারা সই করেননি, তাঁদের হয়ে জাল সই হয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ।' তাহলে সেই সই করল কারা? এটা তো সরাসরি বিধানসভার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার মতো পরিস্থিতি। বিএনএসের নিয়ম অনুযায়ী, কোনও বিধায়কের সই জালের মতো দণ্ডনীয় অপরাধের ন্যূনতম শাস্তি হতে পারে ৭ বছরের জেল। সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন করাদণ্ডও হতে পারে অপরাধীর!

যে বিধায়ক তাঁর সই জাল হয়েছে বলে অভিযোগ তুলছেন, তিনি কার বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাবেন? আবার তিনি আগাম জামিন নেওয়ার জন্য তৎপর হলেও তিনি চলে আসবেন সন্দেহের তালিকায়। আবার কোনও বিধায়ক যদি বলেন যে তার সেই জাল হয়েছে, তাহলে তিনি অভিযোগ করলে কার বিরুদ্ধে করবেন?

এখন প্রশ্ন হল, যে বিধায়ক তাঁর সই জাল হয়েছে বলে অভিযোগ তুলছেন, তিনি কার বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাবেন? আবার তিনি আগাম জামিন নেওয়ার জন্য তৎপর হলেও তিনি চলে আসবেন সন্দেহের তালিকায়। আবার কোনও বিধায়ক যদি বলেন যে তার সেই জাল হয়েছে, তাহলে তিনি অভিযোগ করলে কার বিরুদ্ধে করবেন? দলীয় নেতৃত্বের বক্তব্য, দলের বিধায়ক দলের নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ করবে কী করে? এই আবহে তৃণমূল বিধায়কদের পরিস্থিতি অনেকটা শাখের করাতের মতো।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement