shono
Advertisement
TMC Party Office

বারবার আবেদনেও সাড়া দিচ্ছেন না তৃণমূল নেতারা! ভবন উদ্ধারে এবার আইনি পথের ভাবনা মালিকের

রাজ্যে পালাবদলের পরই ওই বাড়ি ছাড়ার কথা বলেছিলেন মন্টু সাহা। ২ মাস সময় দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এখনও পর্যন্ত বাড়ির ছাড়ার কথা বলছে না কেউ।
Published By: Kousik SinhaPosted: 05:04 PM Jun 07, 2026Updated: 05:11 PM Jun 07, 2026

একদিকে 'অবৈধ নির্মাণ'-এর অভিযোগ নিয়ে চরম জটিলতার মুখে পড়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মামলার পথে হাঁটতে হয়েছে তাঁর পরিবারকে। আর এবার দলীয় কার্যালয় নিয়েও প্রশ্নের মুখে রাজ্যের পূর্বতন শাসকদল তৃণমূল। চুক্তি শেষ হয়ে গেলেও ভাড়া নেওয়া বাড়ি ছাড়ার নাম নেই। এই অবস্থায় কার্যত 'দুয়ারে' হাজির হয়েও কারও সাড়া পেলেন না বাড়ির মালিক মন্টু সাহা এবং তাঁর ছেলে অমিত সাহা। দেড় বছরের জন্য চুক্তির কথা বলে দিনের পর দিন বাড়ি আটকে রেখেছে তৃণমূল! এমনকী তাঁদের ফোনটাও কেউ ধরছে না বলে অভিযোগ। 'সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল'-কে মালিকের ছেলে অমিত সাহা বলেন, 'আমার একটাই অনুরোধ। আমার বাড়ি ফেরত দিন।' তা না হলে আগামিদিনে আইনি পথে তাঁরা হাঁটবেন বলেও জানিয়েছেন অমিতবাবু।

Advertisement

এবার দলীয় কার্যালয় নিয়েও প্রশ্নের মুখে রাজ্যের পূর্বতন শাসকদল তৃণমূল। চুক্তি শেষ হয়ে গেলেও ভাড়া নেওয়া বাড়ি ছাড়ার নাম নেই। এই অবস্থায় কার্যত 'দুয়ারে' হাজির হয়েও কারও সাড়া পেলেন না বাড়ির মালিক মন্টু সাহা এবং তাঁর ছেলে অমিত সাহা।

শাসক দল হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার আগে থেকেই বাইপাসের ধারের বাড়িই ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের কার্যালয়। ওই অফিসেই আনাগোনা ছিল দলের শীর্ষ নেতৃত্বের। নেতা-কর্মীদের উপস্থিতিতে সর্বদা গমগম করত ওই বাড়ি। কিন্তু বছর কয়েক আগে দল সিদ্ধান্ত নেয়, পুরনো ধাঁচের পার্টি অফিস নয়, একেবারে কর্পোরেট স্টাইলে সাজানো হবে অফিস। তাই তড়িঘড়ি ইএম বাইপাস লাগোয়া মেট্রোপলিটনে পেশায় ব্যবসায়ী মন্টু সাহার একটি বাড়ি ভাড়া নেয় তৃণমূল। দেড় বছরের চুক্তিও হয়। চুক্তি শেষ হয়েছে আগেই, শেষ হয়েছে 'তৃণমূল-যুগ'ও। এই আবহে বাড়ি ফেরানো তো দূরের কথা, মন্টুবাবুর ফোনই ধরছে না কেউ!

রাজ্যে পালাবদলের পরই ওই বাড়ি ছাড়ার কথা বলেছিলেন মন্টু সাহা। ২ মাস সময় দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এখনও পর্যন্ত বাড়ির ছাড়ার কথা বলছে না কেউ। এর মধ্যে বিরোধী দল তৃণমূল ভেঙে খানখান হয়ে গিয়েছে। দলের নতুন ব্লক চিন্তা বাড়াচ্ছে কালীঘাটের। তাই উপায় না দেখে রবিবার সকালে ওই বাড়িতেই পৌঁছে গিয়েছিলেন মন্টু ও তাঁর ছেলে। তাঁর অভিযোগ, ওই বাড়িতে কেউ ছিল না, কেউ ফোনও তোলেনি। দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে একেবারেই খালি হাতেই ফিরতে হয় তাঁদের।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটালের তরফ থেকে যোগাযোগ করা হলে অমিতবাবু বলেন, "২০১৯ সালে হোটেল তৈরি করেছিলাম। কিন্তু পরে তৃণমূলের তরফে ওটা ভাড়া নেওয়া হয়। দেড় বছরের জন্য তৃণমূল থেকে ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে আরও সময় চাওয়া হয়। এদিকে চুক্তিও শেষ হয়ে যায় ২০২৫ সালে। কিন্তু এখন বাড়ি ফেরত চাওয়ার কথা বললেও কেউ ফোন ধরছে না। হাত জড়ো করে বলছি, দ্রুত আমাদের প্রপার্টি ফেরত দিক।'' এর মধ্যে কোনও রাজনীতির ব্যাপার নেই বলেও জানান অমিত সাহা। তবে তাঁর আশঙ্কা, চারপাশে যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে ওই বাড়ির উপরও আক্রমণ হতে পারে, ক্ষতি হতে পারে বাড়ির।

অমিতবাবু বলেন, "২০১৯ সালে হোটেল তৈরি করেছিলাম। কিন্তু পরে তৃণমূলের তরফে ওটা ভাড়া নেওয়া হয়। দেড় বছরের জন্য তৃণমূল থেকে ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে আরও সময় চাওয়া হয়। এদিকে চুক্তিও শেষ হয়ে যায় ২০২৫ সালে। কিন্তু এখন বাড়ি ফেরত চাওয়ার কথা বললেও কেউ ফোন ধরছে না। হাত জড়ো করে বলছি, দ্রুত আমাদের প্রপার্টি ফেরত দিক।''

উল্লেখ্য, আগামিকাল অর্থাৎ ৮ জুন ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক রয়েছে দিল্লিতে। সেখানে যোগ দিতে দিল্লি পৌঁছে গিয়েছেন অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্যায়। উড়ে গিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। সূত্রের খবর, লোকসভাতেও তৃণমূল সাংসদদের মধ্যে ভাঙন আসন্ন। তৃণমূল যখন এত দিক সামাল দিতে ব্যস্ত, তখন মন্টু সাহার বাড়ির জটিলতা কাটবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েই যাচ্ছে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement