shono
Advertisement
West Bengal Assembly Election 2026

সংসদে বুলিই সার! বঙ্গ ভোটে মহিলাদের সবচেয়ে কম টিকিট বিজেপির, কোথায় তৃণমূল?

পরিসংখ্যান বলছে, রাজ্যের বড় দলগুলির মধ্যে সবচেয়ে বেশি মহিলা প্রার্থী দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। ধারেকাছে নেই অন্য দলগুলি।
Published By: Subhajit MandalPosted: 01:48 PM Apr 17, 2026Updated: 02:31 PM Apr 17, 2026

তড়িঘড়ি মহিলা সংরক্ষণ সংশোধনী আইন কার্যকর করতে মরিয়া কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকার। আচমকা ভোটের মুখে সংসদে বিশেষ অধিবেশন ডাকা হল। মধ্যরাত পর্যন্ত চলল বিতর্ক। শুক্রবার ভোটাভুটি হবে। বিল নিয়ে আলোচনার সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একপ্রকার হুঁশিয়ারির সুরে বলে দিলেন, এই বিলের বিরোধিতা করলে সেটার মূল্য বহুদিন চোকাতে হবে। বস্তুত বিজেপি বোঝাতে চাইছে, মহিলাদের জন্য তারাই ভাবিত, বাকি দলগুলি নয়।

Advertisement

কিন্তু বাস্তবটা কী? যে ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ করতে বিজেপি মরিয়া, দলের টিকিট বণ্টনের সময় কি সেই বিষয়টি খেয়াল রাখে তারা? ৩৩ শতাংশের ধারেকাছেও কি মহিলা প্রার্থী রয়েছে গেরুয়া শিবিরের? পরিসংখ্যান বলছে, একেবারেই না। বরং ছবিটা উলটো। বাংলার নির্বাচনে বড় দলগুলির মধ্যে মহিলা প্রার্থী সবচেয়ে কম বিজেপিরই।

পরিসংখ্যান বলছে, রাজ্যের বড় দলগুলির মধ্যে সবচেয়ে বেশি মহিলা প্রার্থী দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। মোট ২৯১ কেন্দ্র লড়ছে শাসকদল। এর মধ্যে মহিলা প্রার্থী ৫২ জন। শতাংশের বিচারে ২৭.২ শতাংশ। বামেরা নিজেরা লড়ছে ২৫৩ আসনে। বাম প্রার্থী তালিকায় মহিলার সংখ্যা ৩৪। শতাংশের বিচারে তৃণমূলের অর্ধেকেরও কম (১৩.৪৩)। কংগ্রেস ২৯৪ আসনের মধ্যে ৩৫টি আসনে মহিলাদের টিকিট দিয়েছে। শতাংশের বিচারে ১১.৯। সবচেয়ে কম মহিলা প্রার্থী বিজেপির। ২৯৪ আসনের মধ্যে মাত্র ৩৩টি আসনে মহিলা প্রার্থী দিয়েছে গেরুয়া শিবির। শতাংশের বিচারে সেটা মাত্র ১১.২ শতাংশ। অর্থাৎ প্রস্তাবিত মহিলা সংরক্ষণের জন্য যে ৩৩ শতাংশ আসনে মহিলা প্রার্থী দেওয়ার কথা, সেটার তিন ভাগের একভাগও দিতে পারেনি গেরুয়া শিবির।

আসলে ২০২৩ সালেই সংবিধান সংশোধন করে দেশের সব আইনসভায় মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের আইন পাশ করায় মোদি সরকার। সেবার বিরোধীরাও ওই বিলটিকে সমর্থন করে। বিলে উল্লেখিত ছিল, মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। সেখানে আরও বলা হয়েছিল, জনগণনার পরে আসন পুনর্বিন্যাস করা হবে। তারপর ওই আসনের ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষিত রাখা হবে মহিলাদের জন্য। যেহেতু ২০১১ সালের পর আর কোনও জনগণনা হয়নি, তাই ওই আইন আর কার্যকর হয়নি। এখন নরেন্দ্র মোদি সরকার ফের সংবিধান সংশোধন করে নতুন জনগণনার ব্যাপারটি তুলে দিতে চাইছে। সরকার চাইছে ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে অথবা বর্তমান আসনের আনুপাতিক হারে আসন পুনর্বিন্যাস করে দিতে। শুধু তাই নয়, এরপর কবে আসন পুনর্বিন্যাস হবে, সেটা কীসের ভিত্তিতে হবে সবটাকেই সরকারের হাতে করে নিতে চাইছে মোদি সরকার। নতুন আইন পাশ হলে আর সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন পড়বে না। তাতেই তীব্র আপত্তি বিরোধীদের। সেই নিয়ে বিতর্ক চলছে। বেনজিরভাবে বৃহস্পতিবার মধ্যরাত পর্যন্ত সংসদে বিতর্ক চলেছে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement