একাকীত্বকে আমরা অধিকাংশ সময় শুধুই মানসিক সমস্যা বলেই ভাবি। কিন্তু নতুন গবেষণা বলছে, এর প্রভাব পৌঁছতে পারে হার্টে, বিশেষ করে হার্টের ভালভে। জার্নাল অফ দ্যা আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনে প্রকাশিত এক গবেষণায় উঠে এসেছে এই উদ্বেগজনক তথ্য।
ছবি: সংগৃহীত
প্রায় ৪ লক্ষ ৬৩ হাজার মানুষের তথ্য, যা সংগ্রহ করা হয়েছে ইউ কে বায়োব্যাঙ্ক থেকে, বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, যারা নিয়মিত একাকীত্ব অনুভব করেন, তাদের মধ্যে ডিজেনারেটিভ হার্ট ভালভ ডিজিজের ঝুঁকি বেশি ১৯%, অ্যাওর্টিক স্টেনোসিসের ঝুঁকি ২১% বেশি, মাইট্রাল রিগারজিটেশনের ঝুঁকি ২৩%-এর বেশি। অর্থাৎ, একাকীত্ব শুধু অনুভূতি নয়, এটি একটি সম্ভাব্য শারীরিক ঝুঁকির কারণ।
একা থাকা আর একাকী অনুভব করা- এক নয়
গবেষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল এই পার্থক্যটা স্পষ্ট করা। একজন মানুষ একা থাকতে পারেন, তবুও মানসিকভাবে শান্তি থাকতে পারে। আবার অনেক মানুষের মাঝেও কেউ গভীর একাকীত্বে ভুগতে পারেন। এই একাকীত্বের অনুভূতিই হার্টের উপর বেশি প্রভাব ফেলে, শুধু সামাজিক বিচ্ছিন্নতা নয়।
ছবি: সংগৃহীত
কীভাবে প্রভাব ফেলছে হার্টে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, একাকীত্বের সঙ্গে কিছু ঝুঁকি জড়িয়ে থাকে-
- দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ
- অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন
- ধূমপান বা শারীরিক পরিশ্রমের অভাব
এই সব কারণই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হার্টের ভালভের সমস্যা বাড়াতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা
গবেষকদের মতে, একাকীত্বকে এখন আর হালকা করে দেখার সুযোগ নেই। এটি হার্টের অসুখের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি। সময়মতো একাকীত্ব কমানোর উদ্যোগ নিলে রোগের গতি ধীর করা সম্ভব, এমনকী বড় ধরনের চিকিৎসার প্রয়োজনও কমতে পারে।
মন আর শরীর আলাদা নয়। তাই নিয়মিত কথা বলা, সম্পর্ক বজায় রাখা, নিজের পছন্দের কাজে যুক্ত থাকা, এই সাধারণ বিষয়গুলোই হয়তো আপনার হার্টকে সুস্থ রাখার বড় উপায়।
