ভোটের (West Bengal Assembly Election) মুখে ফের স্বমহিমায় ফিরছেন বঙ্গ রাজনীতির 'দাবাং' নেতা দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। ফের তাঁর মুখে বেফাঁস মন্তব্য শোনা গেল। মঙ্গলবার সল্টলেকে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে একাধিক বিষয় নিয়ে কথা বললেন তিনি। আবারও হিন্দুত্ব অস্ত্র শান দিতে গিয়ে ধর্মনিরপেক্ষতা প্রসঙ্গে বিতর্কিত কথা বলে বসলেন। দিলীপ ঘোষের কথায়, ‘‘বিজেপি হিন্দুত্ব বলতে লজ্জা পায় না। কারণ এই দেশ হিন্দু। আমাদের কালচার, লাইফস্টাইল হিন্দু। ফালতু সেক্যুলারিজম দেখাই না।'' যে ধর্মীয় মেরুকরণ অস্ত্রের উপর ভর করে বিজেপি বাংলা জিততে চায় বলে বারবার শাসকদল অভিযোগ তোলে, এদিন দিলীপের মন্তব্যে তারই খানিকটা প্রতিফলন দেখা গেল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ। তবে কি ভোটের আগে পরিকল্পিতভাবেই দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্য? প্রশ্ন উঠছে।
বুধবার ফের রাজ্যে আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। তবে রাজনৈতিক নয়, পুরোপুরি ধর্মীয় সফর করবেন তিনি। কলকাতা বিমানবন্দরে পা রেখেই উড়ে যাবেন মায়াপুরে। সেখানে ইসকন মন্দিরের বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার কথা শাহর। এও কি বিধানসভা ভোটকে সামনে রেখে হিন্দুত্বে শান? এনিয়ে যখন বঙ্গ রাজনীতির অন্দরে চর্চা তুঙ্গে, সেসময়ই দিলীপ ঘোষ হিন্দুত্ব নিয়ে আবারও বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন। মঙ্গলবার অমিত শাহর এই সফর নিয়েই তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, বিজেপি হিন্দুত্ব হিন্দুত্ব করলেও বলা হয় ধর্মনিরপেক্ষ দল। কিন্তু অমিত শাহ রাজ্যে এসে মায়াপুরের ইসকন মন্দিরে যাচ্ছেন, এটা কি হিন্দুত্বে জোর দেওয়া নয়?
দিলীপ ঘোষের কথায়, ‘‘বিজেপি হিন্দুত্ব বলতে লজ্জা পায় না। কারণ এই দেশ হিন্দু। আমাদের কালচার, লাইফস্টাইল হিন্দু। ফালতু সেকুলারিজম দেখাই না। আমাদের জীবনচর্যা, আমাদের আদর্শে হিন্দুত্ব আছে। সেইমতোই আমরা চলি।''
এই প্রশ্নের জবাবেই দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘‘মায়াপুরের ইসকন মন্দির বিশ্ববিখ্যাত দর্শনীয় স্থান। ওদের কর্তৃপক্ষ অনেকদিন ধরেই চাইছিলেন যে অমিত শাহ ওখানে যান। কিন্তু উনি সময় করতে পারছিলেন না। এবার এসে মায়াপুরে যাবেন। আমার মনে হয়, সকলেরই একবার করে মায়াপুরের ইসকন মন্দির ঘুরে আসা উচিত। আর তাছাড়া বিজেপি হিন্দুত্ব বলতে লজ্জা পায় না। এই দেশ হিন্দু। আমাদের কালচার, আমাদের লাইফস্টাইলে হিন্দুত্ব। ফালতু সেক্যুলারিজম দেখাই না আমরা। আমাদের জীবনচর্যা, আমাদের আদর্শে হিন্দুত্ব আছে। সেইমতোই আমরা চলি।'' এহেন মন্তব্য নিয়ে যথেষ্ট সমালোচনা হচ্ছে।
